Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / বিশ্বকাপে চলছে ‘মেসি বন্দনা’: এমবাপে-হালান্ডের যুগেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু লিওনেল মেসি

বিশ্বকাপে চলছে ‘মেসি বন্দনা’: এমবাপে-হালান্ডের যুগেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু লিওনেল মেসি

খেলাধুলা ডেস্ক

ডালাস স্টেডিয়ামের বাইরের অংশ তখন আকাশি-নীল আলোয় আলোকিত। আর্জেন্টিনার জার্সির রঙে সাজানো সেই পরিবেশ যেন আগেই জানিয়ে দিচ্ছিল, এটি শুধুই একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, বরং লিওনেল মেসিকে ঘিরে এক উৎসব। আর স্টেডিয়ামের ভেতরে প্রায় ৮০ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে তৈরি হয়েছিল এক অন্যরকম আবহ। সাদা-আকাশি পতাকা, গর্জন তোলা স্লোগান আর উচ্ছ্বসিত সমর্থকদের ঢেউয়ে ডালাসের রাত যেন পরিণত হয়েছিল ছোট্ট এক আর্জেন্টিনায়।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে আর্জেন্টিনা জয় পেয়েছে ২-০ গোলে। দুই গোলই করেছেন লিওনেল মেসি। তার এই জোড়া গোল শুধু দলকে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেনি, বরং বিশ্বকাপ ইতিহাসে আরও একটি অনন্য অধ্যায় যুক্ত করেছে।

প্রথম গোলটি ছিল ইতিহাস গড়া। সেটিই ছিল বিশ্বকাপে মেসির ১৭তম গোল, যা তাকে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসিয়েছে। চলতি বিশ্বকাপে মাত্র দুই ম্যাচে পাঁচ গোল করে তিনি এখন টুর্নামেন্টেরও সর্বোচ্চ গোলদাতা।

বাংলাদেশ সময় সোমবার (২২ জুন) রাত ১১টায় শুরু হওয়া ম্যাচটি ডালাসের গ্যালারির সীমানা ছাড়িয়ে পৌঁছে গিয়েছিল বিশ্বের কোটি কোটি দর্শকের কাছে। টেলিভিশন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে চোখ ছিল এক ব্যক্তির দিকেই—লিওনেল মেসি।

তবে ম্যাচের একপর্যায়ে কিছুটা শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। একটি পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে যায় গ্যালারি। কিন্তু মেসির গল্প কি এত সহজে থেমে যায়? ম্যাচের শেষ পাঁচ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করে তিনি আবারও প্রমাণ করেন, চাপের মুহূর্তে তিনিই শেষ কথা বলার মানুষ।

ম্যাচ শেষে অস্ট্রিয়ার কোচ রালফ রাগনিকও মেসির প্রশংসা করতে বাধ্য হন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “যদি ৩৯ বছর বয়সী একজন ফুটবলার এভাবে দুই গোল করেন এবং বিশ্বকাপের শুরুতেই পাঁচ গোল করে ফেলেন, তাহলে বোঝাই যায় তিনি কতটা বিশেষ একজন খেলোয়াড়। মেসি আবারও প্রমাণ করেছেন, তিনি সেরাদের সেরা।”

ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় উচ্ছ্বাসের জোয়ার। ফেসবুক, এক্স ও ইনস্টাগ্রামে ছড়িয়ে পড়ে মেসির গোলের ভিডিও, সমর্থকদের উদযাপনের ছবি এবং অসংখ্য প্রশংসাবার্তা। বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন একজনই—লিওনেল মেসি।

নতুন যুগের দুই তারকা, কিন্তু আলোচনার কেন্দ্র এখনও মেসি

ফুটবলের ইতিহাসে প্রতিটি প্রজন্মই নতুন নায়ক খুঁজে পেয়েছে। পেলের পর এসেছেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। এরপর জিনেদিন জিদান, রোনালদো, রোনালদিনহোদের যুগ। সর্বশেষ প্রায় দুই দশক ধরে বিশ্ব ফুটবল শাসন করেছেন লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

তাদের উত্তরসূরি হিসেবে বিশ্ব ফুটবল পেয়েছে দুই নতুন সুপারস্টার—কিলিয়ান এমবাপে ও আরলিং হালান্ডকে। গতি, দক্ষতা ও গোল করার অসাধারণ সামর্থ্যের কারণে অনেকেই মনে করেছিলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপ হবে এই দুই তারকার যুগ প্রতিষ্ঠার মঞ্চ।

তাদের পারফরম্যান্সও সে কথাই বলছে। ইরাকের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছেন এমবাপে। সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে নরওয়েকে নকআউট পর্বে তুলেছেন হালান্ড। কিন্তু একই দিনে দুই গোল করে আবারও সব আলো নিজের দিকে টেনে নিলেন মেসি।

এটাই যেন বর্তমান ফুটবলের সবচেয়ে বড় বাস্তবতা। এমবাপে ও হালান্ড তাদের ক্যারিয়ারের সেরা বয়সে রয়েছেন। অন্যদিকে মেসি এমন এক বয়সে খেলছেন, যখন অধিকাংশ কিংবদন্তি অনেক আগেই অবসর নিয়েছেন অথবা বেঞ্চে জায়গা নিয়েছেন। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে সেই বয়সের ছাপ খুঁজে পাওয়া কঠিন।

কারণ মেসির ফুটবল এখন শুধু গতি বা শারীরিক শক্তির ওপর নির্ভর করে না। তিনি ম্যাচকে পড়েন, সময়কে নিয়ন্ত্রণ করেন এবং কয়েক সেকেন্ডের জাদুতে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেন। এমবাপে প্রতিপক্ষকে হারান গতিতে, হালান্ড গোল করেন শক্তি ও নিখুঁত পজিশনিংয়ে; আর মেসি বদলে দেন পুরো ম্যাচের ছন্দ।

তুলনার মানদণ্ড এখন মেসি

একসময় মেসিকেও শুনতে হয়েছিল—তিনি কি ম্যারাডোনার সমান? বিশ্বকাপ জয়ের আগে সেই প্রশ্ন তাকে তাড়া করেছে দীর্ঘ সময়। কিন্তু আজ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

এখন প্রশ্ন ওঠে, এমবাপে কি মেসির মতো হতে পারবেন? হালান্ড কি ছুঁতে পারবেন মেসির অর্জন? অর্থাৎ নতুন প্রজন্মের সাফল্যও শেষ পর্যন্ত মাপা হচ্ছে একজন আর্জেন্টাইনের মানদণ্ডে।

ফুটবলের ইতিহাসে এটি বিরল ঘটনা। সাধারণত নতুন প্রজন্ম পুরোনো কিংবদন্তিদের জায়গা দখল করে নেয়। কিন্তু মেসির ক্ষেত্রে চিত্র ভিন্ন। নতুন যুগের সূচনা হলেও পুরোনো রাজা এখনও সিংহাসনের খুব কাছেই দাঁড়িয়ে আছেন।

২০২৬ বিশ্বকাপে এমবাপে ও হালান্ড নিজেদের যুগ প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা গোল করছেন, ম্যাচ জেতাচ্ছেন, নতুন রেকর্ড গড়ছেন। কিন্তু একই সঙ্গে আরেকটি গল্পও লেখা হচ্ছে—একজন মানুষরূপী জাদুকরের গল্প, যিনি নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলেও এখনও স্কোরশিটে নিয়মিত নাম লেখাচ্ছেন।

হয়তো এ কারণেই মেসিকে ঘিরে আলোচনা কখনও শেষ হয় না। কারণ এমবাপে ও হালান্ড ভবিষ্যতের প্রতিনিধিত্ব করেন, আর মেসি যেন একই সঙ্গে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ।

ফুটবলের মঞ্চে প্রতিপক্ষ বদলায়, প্রজন্ম বদলায়, সময় বদলায়। কিন্তু বিশ্বকাপের আলো জ্বলে উঠলে এখনও দেখা যায় একটি পরিচিত দৃশ্য—স্কোরবোর্ডে উজ্জ্বল হয়ে লেখা থাকে একটি নাম, লিওনেল মেসি। আর সেটিই হয়তো এই যুগের সবচেয়ে অসাধারণ ফুটবল গল্প।

x

Check Also

রাজশাহীতে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ, শনাক্তদের দুই-তৃতীয়াংশ সমকামী

রাজশাহী প্রতিনিধি রাজশাহীতে নীরবে বাড়ছে এইচআইভি (এইচআইভি/এইডস) সংক্রমণ। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে ...