Don't Miss
Home / অর্থনীতি / ব্যাংক খাতে ১৫ বছরের অনিয়ম তদন্তে দুদকের নথি তলব, আওতায় আতিউর রহমান, রিজার্ভ চুরি, হলমার্ক ও এস আলম গ্রুপ

ব্যাংক খাতে ১৫ বছরের অনিয়ম তদন্তে দুদকের নথি তলব, আওতায় আতিউর রহমান, রিজার্ভ চুরি, হলমার্ক ও এস আলম গ্রুপ

এমএনএ প্রতিবেদক

গত ১৫ বছরে দেশের ব্যাংকিং খাতে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়ম, নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগের তদন্ত জোরদার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে নতুন করে বিস্তৃত পরিসরের নথিপত্র চেয়েছে সংস্থাটি। তদন্তের আওতায় রয়েছে সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানের সময়কার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, ২০১৬ সালের বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি, হলমার্ক ঋণ কেলেঙ্কারি, এস আলম গ্রুপের ব্যাংকিং কার্যক্রমসহ একাধিক আলোচিত ঘটনা।

গত ১১ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো এক চিঠিতে দুদক ৩০ জুনের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে অনুরোধ জানায়। দুদক সূত্র জানায়, এরই মধ্যে কিছু তথ্য কমিশনের হাতে এসেছে এবং সেগুলো পর্যালোচনা চলছে। প্রয়োজনে আরও তথ্য ও নথি চেয়ে নতুন রিকুইজিশন পাঠানো হবে।

দুদকের এই অনুসন্ধান পরিচালিত হচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ১৯ ধারা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭-এর ২০ বিধি অনুযায়ী।

দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঋণখেলাপিদের সুবিধা দিতে নীতিমালা প্রণয়ন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি, হলমার্ক ঋণ জালিয়াতি, এস আলম গ্রুপের ঋণসংক্রান্ত অনিয়ম এবং গত দেড় দশকে দেশের ব্যাংকিং খাতকে দুর্বল করে দেওয়ার অভিযোগ।

এ লক্ষ্যে তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান হিসেবে রয়েছেন দুদকের উপপরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম। অন্য সদস্যরা হলেন উপপরিচালক রঞ্জিত কুমার কর্মকার এবং সহকারী পরিচালক মো. ইয়াসিন মোল্লা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগ থেকে দুদক যে নথিগুলো চেয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—  ২০১৬ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে জারি করা সিঙ্গেল বোরোয়ার এক্সপোজার লিমিট, বড় ঋণের পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠন সংক্রান্ত সব সার্কুলারের সত্যায়িত অনুলিপি; ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের বিস্তারিত তথ্য; ২০২০ সালের বিআরপিডি সার্কুলার নং-০৮ এর আওতায় স্বল্পসুদে ঋণপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের তালিকা এবং বিতরণকৃত অর্থের পরিমাণ; বিভিন্ন ব্যাংকে এস আলম গ্রুপের মালিকানা অধিগ্রহণ সংক্রান্ত অনুমোদনপত্র ও নোটশিট; সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের আমলে এস আলম নিয়ন্ত্রিত ব্যাংকগুলোকে দেওয়া তারল্য সহায়তার নথি; এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর জোহা প্রস্তুত করা তদন্ত প্রতিবেদন।

এছাড়া ঋণ পুনর্গঠন নীতিমালা, ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তন, তারল্য সহায়তা প্রদান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

দুদকের সহকারী পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. তানজীর আহমেদ বলেন, অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট বিপুল পরিমাণ তথ্য ইতোমধ্যে তদন্ত দলের হাতে এসেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আরও তথ্য চাওয়া হবে।

দুদকের তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ২০১৬ সালের বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা, যা বিশ্বের অন্যতম বড় সাইবারভিত্তিক ব্যাংক ডাকাতি হিসেবে পরিচিত।

ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের কম্পিউটার নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশ করে SWIFT আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে সংরক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। অধিকাংশ জাল লেনদেন আটকে গেলেও ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার স্থানান্তর করতে সক্ষম হয় তারা।

এর মধ্যে শ্রীলঙ্কায় পাঠানো ২ কোটি ডলার একটি বানান ভুল ধরা পড়ায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে ফিলিপাইনে পাঠানো ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ক্যাসিনো ও অর্থ প্রেরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে তুলে নেওয়া হয়, যার বড় অংশ এখনো উদ্ধার করা যায়নি। আইনি ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও এ পর্যন্ত সামান্য অংশই ফেরত এসেছে।

এই ঘটনা বাংলাদেশ ব্যাংকের সাইবার নিরাপত্তা, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং তদারকি কাঠামোর গুরুতর দুর্বলতা প্রকাশ করে। পাশাপাশি ঘটনাটি গোপন রাখা এবং দেরিতে প্রকাশের বিষয়েও তীব্র সমালোচনা হয়েছিল।

ব্যাংকিং খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, দুদক যে ধরনের নথি চেয়েছে, তাতে বোঝা যায় তদন্ত কেবল পৃথক ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় সীমাবদ্ধ নয়। বরং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নীতিগত সিদ্ধান্ত, শিথিল ঋণনীতি, বারবার ঋণ পুনঃতফসিল, ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তন এবং আর্থিক সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোকে তারল্য সহায়তা প্রদানের মতো বিষয়গুলো বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মে ভূমিকা রেখেছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে তদন্ত শেষ হওয়ার সম্ভাব্য সময়সীমা কিংবা অভিযোগে উল্লেখিত সাবেক কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হবে কি না—এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য দেয়নি দুদক।

x

Check Also

১১ শতাংশ মানুষ এখনও আর্সেনিক ঝুঁকিতে, ২০২৬ সালের মধ্যে তা ৫-৬ শতাংশে নামানোর লক্ষ্য: মন্ত্রী

এমএনএ প্রতিবেদক দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১১ শতাংশ এখনও আর্সেনিক দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ...