Don't Miss
Home / আইন আদালত / বাজেয়াপ্ত ৬১৫ কোটি টাকা ফেরতের নির্দেশ

বাজেয়াপ্ত ৬১৫ কোটি টাকা ফেরতের নির্দেশ

এমএনএ অর্থনীতি রিপোর্ট : ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির পর সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত ৬১৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ফেরতের নির্দেশ দিয়েছে আপিল বিভাগ।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আনা বাংলাদেশ ব্যাংকের আপিল খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। হাইকোর্ট ১১টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নেয়া ৬১৫ কোটি টাকা তিন মাসের মধ্যে ফেরত দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকে নির্দেশ দিয়েছিল।

এরমধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৪ কোম্পানি ফেরত পাচ্ছে ১৬৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। পুঁজিবাজারের কোম্পানিগুলোর মধ্যে মেঘনা সিমেন্ট ৫২ কোটি টাকা, ইউনিক হোটেল এন্ড রিসোর্ট ১৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা এবং ইস্টার্ন হাউজিং ৩৫ কোটি টাকা ফেরত পাবে।

এছাড়া এস আলম গ্রুপের ৬ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টীল সম্মিলিতভাবে ৬০ কোটি টাকা ফেরত পাবে।

পাশাপাশি আইপিও’র পাইপ লাইনে থাকা বসুন্ধরা পেপার এবং ইস্টওয়েস্ট প্রপার্টি লি: সম্মিলিতভাবে ১৫ কোটি টাকা ফেরত পাবে।

রায়ের পর আহসানুল করিম বলেন, হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ১১টি আপিল হয়েছিল। যেসব প্রতিষ্ঠান আদালতে রিট করেছিল, কেবল তাদের টাকাই ফেরত দিতে বলেছে আদালত।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বিভাগ বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিয়ে আনা আপিল খারিজ (ডিসমিস্ড) করে আদেশ দেন। গতকাল বুধবার আপিল শুনানি শেষে আজ বৃহস্পতিবার বিষয়টি রায়ের জন্য ধার্য ছিল।

আদালতে ব্যবসায়ীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আহসানুল করিম ও খায়রুল আলম চৌধুরী। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিষ্টার এম আমীর-উল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

রায়ের পর আহসানুল করিম বলেন, হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ১১টি আপিল হয়েছিল। যেসব প্রতিষ্ঠান আদালতে রিট করেছিল, কেবল তাদের টাকাই ফেরত দিতে বলেছে আদালত।

ব্যারিস্টার এম. আমিরুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশের জনগণ, আইন ও সংবিধান কখনও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়নি। এ রায় নিশ্চয় পুনর্বিবেচিত হবে। এতোগুলো টাকা সরকার কোথা থেকে ফেরত দেবে তা চিন্তার বিষয়। এখন সরকার যদি রিভিউয়ের সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে রিভিউ হবে।

রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করবেন কি না জানতে চাইলে এ আইনজীবী বলেন, রিভিউয়ের বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বাধীন নির্বাচনকালীন বিতর্কিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে সরিয়ে ক্ষমতা নেয় সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত ফখরুদ্দীন আহমেদের সরকার। জরুরি অবস্থা জারি করে দুর্নীতি দমন অভিযানের কথা বলে গ্রেপ্তার করা হয় দেশের শীর্ষ রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের। এ সময় তাদের কাছ থেকে কয়েকশত কোটি টাকা আদায় করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংরক্ষিত সরকারি কোষাগারে ওই টাকা জমা দেয়া হয়।

২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় আসার পর ওই অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান-কোম্পানি হাইকোর্টে পৃথক রিট আবেদন দাখিল করে। ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে রিট আবেদনকারী ব্যক্তি ও কোম্পানিকে ওই অর্থ ৯০ দিনের ভেতর ফেরত দিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দিয়ে রায় দেয় হাইকোর্ট।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ওই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৬১৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক লিভ টু আপিল করে (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করে)। এর ওপর শুনানি নিয়ে ২০১৫ সালের ২ আগস্ট আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন। পাশাপাশি হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতাও স্থগিত করা হয়। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে।

মামলার বিবরণী থেকে আরো জানা যায়, এস. আলম স্টিলস লিমিটেডকে ৬০ কোটি টাকা, দ্য কনসোলিডেটেড টি অ্যান্ড ল্যান্ডস কোম্পানি লিমিটেড এবং বারাউরা টি কোম্পানি লিমিটেডকে ২৩৭ কোটি ৬৫ লাখ ৪০ হাজার, মেঘনা সিমেন্ট মিলকে ৫২ কোটি, বসুন্ধরা পেপার মিলকে ১৫ কোটি, ইউনিক ইস্টার্ন প্রাইভেট লিমিটেডকে ৯০ লাখ, ইউনিক সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজকে ৭০ লাখ, ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টসকে ১৭ কোটি ৫৫ লাখ, ইউনিক ভকেশনাল ট্রেনিং সেন্টারের স্বত্বাধিকারী মো. নূর আলীকে ৬৫ লাখ, বোরাক রিয়েল এস্টেট প্রাইভেট লিমিটেডকে ৭ কোটি ১০ লাখ, ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডকে ৩৫ কোটি এবং ইস্ট ওয়েস্ট প্রোপার্টি লিমিটেড ডেভেলপমেন্টকে ১৮৯ কোটি টাকা ফেরত দেয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিটগুলো করা হয়েছিল।

অবশেষে আপিল বিভাগের রায়ে ওই ১১ কোম্পানির অর্থ টাকা ফেরত পাওয়ার পথ তৈরি হল।

x

Check Also

ছাত্রশিবির নেতা জিসানের ধর্ষণ, গ্রেফতার ইস্যুতে সংসদে উত্তেজনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে বিরোধী দলের আপত্তি

সংসদ প্রতিবেদক জাতীয় সংসদে ছাত্রশিবিরের বহিষ্কৃত নেতা মো. জিসান মিয়া প্রধানকে ঘিরে দেওয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এক ...