এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : উপনির্বাচন ঘিরে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর। গতকাল রবিবার রাজনৈতিক সহিংসতায় অন্তত ৮ জন নিহত এবং পুলিশসহ দেড় শতাধিক আহত হয়েছেন।
ভারতীয় শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে অংশ নিয়ে বিক্ষোভকারীরা শ্রীনগরের কাছাকাছি একটি ভোটকেন্দ্রে হামলা চালালে তাদের লক্ষ্য করে আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্যরা শটগান থেকে গুলি ছুড়ে। সহিংসতার এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে কাশ্মীরের অনেক বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা এই ভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন।
সহিংসতার পর কাশ্মীরের ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
গত রবিবার শ্রীনগর লোকসভা উপনির্বাচনে ভোট শুরুর পর পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। পরে এ সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
এক পর্যায়ে নিরাপত্তা বাহিনী জনতার ওপর গুলি চালালে ৮ জন নিহত হন। বহু সাধারণ মানুষ এবং শতাধিক আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য আহত হন। তবে জনতার ওপর গুলি ছোড়ার কথা অস্বীকার করেছে স্থানীয় পুলিশ।
পরে গুজব এবং রাষ্ট্রের জন্য হুমকি ঠেকাতে শ্রীনগর, বাডগাম ও গন্ডারবাল জেলায় মধ্যরাত থেকে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়া হয়।
সরকারি সূত্রের দাবি, পাকিস্তানভিত্তিক একটি গ্রুপ সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে নির্বাচন নিয়ে ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছে। এ কারণে জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থে ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছে।
গত প্রায় ১০ বছর ধরে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নানান ইস্যুতে বিরোধ লেগেই রয়েছে। কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের খেপিয়ে দিচ্ছে পাকিস্তান, ভারত এমন অভিযোগ করে আসলেও ইসলামাবাদ তা অস্বীকার করেছে। তবে উভয় দেশই কাশ্মীরকে নিজের অংশ বলে তার শাসনভার গ্রহণের দাবি করে আসছে।
গত বছরের জুলাই মাসে প্রভাবশালী জঙ্গি বুড়ান ওয়ানি ভারতীয় বাহিনীর হাতে নিহত হলে এ অঞ্চলে তীব্র সংঘর্ষ দানা বাধতে শুরু করে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

