Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হলেন ইমানুয়েল ম্যাখঁ

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হলেন ইমানুয়েল ম্যাখঁ

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হিসেবে জয়লাভ করে দেশটির রাজনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন মধ্যপন্থী ইমানুয়েল ম্যাখঁ।

তিন বছর আগেও যিনি ছিলেন অচেনা একজন, তাকে প্রেসিডেন্ট বানাল ফরাসিরা; ভোটের লড়াইয়ে ডানপন্থি মারিন লো পেনের হারে হাঁফ ছাড়ল ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

গতকাল রবিবার অনুষ্ঠিত ভোটের ফলের আভাস দিয়ে বিসিসি, রয়টার্সসহ আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো বলছে, ৩৯ বছর বয়সী ইমানুয়েল ম্যাখঁই হতে চলেছেন ফ্রান্সের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট।

বিপ্লবোত্তর ফ্রান্সের সবচেয়ে কম বয়সী প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন সাবেক এই ব্যাংকার।

এই জয়ের পথে আরেকটি ইতিহাসও গড়তে যাচ্ছেন ইমানুয়েল ম্যাখঁ, তা হল প্রধান দুই রাজনৈতিক ধারার বাইরে তিনিই প্রথম ইউরোপের প্রভাবশালী এই দেশটির রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হচ্ছেন।

যুক্তরাজ্যে গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে রায় আসার পরের বছর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিকে সবার ছিল নজর, কারণ এই দেশটিতেও একই শোর তুলেছিলেন ইমানুয়েল ম্যাখেঁর প্রতিদ্বন্দ্বী কট্টর ডানপন্থি মারিন লো পেন।

অভিবাসন বিরোধিতার পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ফ্রান্সকে গুটিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন ন্যাশনাল ফ্রন্টের নেতা পেন।

অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে ফ্রান্সকে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মধ্যপন্থি ইমানুয়েল ম্যাখঁ।

গত মাসে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফা ভোটে কেউ ৫০ শতাংশের ভোট বেশি না পাওয়ায় এগিয়ে থাকা দুই প্রার্থী ম্যাখঁ ও পেনের মধ্যে গতকাল রবিবার রানঅফ ভোট হয়।

রাত ৮টায় ভোট শেষ হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রকাশিত তিনটি বুথফেরত জরিপে দেখা যায়, ম্যাখেঁর পক্ষে ৬৫ শতাংশের বিপরীতে লো পেন পেতে চলেছেন ৩৫ শতাংশ ভোট।

প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া অলন্দ সরকারে দুই বছর অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা ম্যাখঁ এই প্রথম নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে চলেছেন।

জয়ের আভাসে ইমানুয়েল ম্যাখঁ বলেন, আমাদের সুদীর্ঘ ইতিহাসে একটি নতুন পাতা খুলল আজ রাতে। আমি এটাকে জনগণের আশা ও আস্থায় রূপান্তর ঘটাতে চাই।

দেশে বাম-ডান শিবিরের মধ্যে সেতুবন্ধ গড়তে চান ম্যাখঁ। তিনি থামাতে চান দেশজুড়ে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠান-বিরোধিতার হুজুগ, যে হুজুগে মার্কিনিরা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে বেছে নিয়েছে এবং ব্রিটিশরা ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ত্যাগের পক্ষে গেছে।

অপরদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী লি পেনই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পশ্চিম ইউরোপে কট্টর-ডানপন্থিদের মধ্যে প্রথম ব্যক্তি, যিনি একটি দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অন্যতম ফেভারিট প্রার্থী হতে পেরেছেন। উগ্রপন্থি এই প্রার্থী ইইউর একক মুদ্রা ইউরো ত্যাগ এবং সীমান্ত বন্ধ করে অভিবাসীদের আগমন বন্ধ করার কথা বলেছিলেন।

ম্যাখেঁর সব কর্মসূচির সঙ্গে সবাই একমত না হলেও প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটার লি পেনকে ঠেকাতে তাকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন জরিপে উঠে আসে।

নির্বাচনের আগে সর্বশেষ টিভি বিতর্কেও দুই প্রার্থীর মধ্যে এ নিয়ে বেশ চড়া সুরে তর্ক হয়। এ সময় লি পেনকে তার বাবার মতোই কট্টরপন্থী মানসিকতার ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন ম্যাখঁ।

অন্যদিকে ভালো প্রচারণা চালিয়েও নিজের কট্টরপন্থী মনোভাবের কারণে শেষ পর্যন্ত ৩০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে পরাজয় বরণ করে নেন লি পেন।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম পর্বের ভোটে এগিয়ে ছিলেন এমানুয়েল ম্যাখঁ ও মারিন লি পেন। গতকাল রবিবারের রানঅফ ভোটে তারা পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

এতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ফরাসি ভোটাররা ৩৯ বছর বয়সী সাবেক ব্যাংকার ম্যাখঁকেই বেছে নেন।

নির্বাচনের আগে ফ্রান্সের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুই প্রার্থী সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ নিয়ে দেশটি কার্যত বিভক্ত হয়ে পড়ে।

ম্যাখঁ ইউরোপপন্থী ও উদার নীতির সমর্থক। তিনি এর আগে কখনই নির্বাচিত হননি। অর্থমন্ত্রী থাকাকালে ২০১৬ সালে এন মার্শে (এগিয়ে চল) দল প্রতিষ্ঠা করেন তিনি।

অন্যদিকে ন্যাশনাল ফ্রন্টের নেতা ৪৮ বছর বয়সী লি পেন বিশ্বায়ন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নবিরোধী উগ্র-ডানপন্থী। তিনি প্রচণ্ড মুসলিমবিরোধী। ফ্রান্সে ‘উগ্রপন্থী’ মসজিদ বন্ধ করে দেয়ার কথা বলেছেন তিনি।

এছাড়া এবারের নির্বাচনে গত কয়েক দশক ক্ষমতায় থাকা সমাজতান্ত্রিক এবং মধ্য ডানপন্থী রিপাবলিকান দলকে নির্বাচনের প্রথম ধাপেই প্রত্যাখ্যান করেন ভোটাররা।

১৪ মে’র মধ্যে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলান্দের কাছ থেকে ক্ষমতা গ্রহণ করবেন ম্যাখঁ।

x

Check Also

জুনে সারা দেশে ৪৭২ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৩৮, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানি সর্বোচ্চ

এমএনএ প্রতিবেদক গত জুন মাসে সারা দেশে ৪৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন নিহত এবং ৫৬১ ...