Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / এক লাখ রোহিঙ্গার আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করে দেবে তুরস্ক

এক লাখ রোহিঙ্গার আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করে দেবে তুরস্ক

এমএনএ রিপোর্ট : মিয়ানমারের রাখাইন থেকে বাংলাদেশে শরণার্থী হয়ে আসা এক লাখ রোহিঙ্গার আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করে দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে তুরস্ক।

আজ রবিবার সকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করে এই আগ্রহের কথা জানান তুরস্কের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সহযোগিতাবিষয়ক সংস্থার সমন্বয়ক আহমেদ রফিক।

মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে আহমেদ রফিক রোহিঙ্গা পরিস্থিতিসহ দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ করেন।

তুর্কি সরকারের প্রতিনিধি রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিষয়টিকে ‘অমানবিক’ হিসেবে উল্লেখ করে সমস্যার দ্রুত সমাধান আশা করেন।

আহমেদ রফিককে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী জানান, একান্ত মানবিক কারণে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। রোহিঙ্গাদের নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের মনোভাব ও অবস্থান তুর্কি সরকারের প্রতিনিধিকে অবহিত করেন ত্রাণমন্ত্রী।

তুরস্কের প্রতিনিধি ত্রাণমন্ত্রীকে জানান, রোহিঙ্গা সমস্যার সুষ্ঠু সমাধানে তুরস্ক বাংলাদেশের পাশে থাকবে। বাংলাদেশে আসা এক লাখ রোহিঙ্গাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করে দেবে তুরস্ক।

রোহিঙ্গাদের আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের স্থান নিয়েও আলোচনা করেন মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী ও আহমেদ রফিক।

আহমেদ রফিক জানান, তুরস্ক শিগগির ১৩টি আইটেমের সমন্বয়ে প্রস্তুত ১০ হাজার প্যাকেট ত্রাণসামগ্রী দেবে। এই ত্রাণের হস্তান্তরপ্রক্রিয়া নিয়ে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

তুরস্ক সরকারের প্রতিনিধি আরও জানান, শিগগির তুর্কি উপপ্রধানমন্ত্রী রিসেপ আব্বাস বাংলাদেশ সফর করবেন।

জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ আগস্টে রাখাইন রাজ্যে সেনা মোতায়েনের পর ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা ‘জাতিগত নিধন’ শুরু করে। ঘটনায় প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী। পুরানো পাঁচ লাখ রোহিঙ্গার সাথে নতুন অভিযানে ইতোমধ্যে যোগ হয়েছে আরও প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা।

সারা বিশ্বে ইউএনএইচসিআর কতৃক নিবন্ধিত ১৭.২ মিলিয়ন শরণার্থীর ৩০% এখন বাংলাদেশে। এরই মধ্যে চলমান রোহিঙ্গা ঢল অব্যাহত থাকলে শরণার্থীর এ সংখ্যা ১০ লাখে পৌঁছাতে পারে বলেও সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। এত সংখ্যক শরণার্থীর দায়িত্ব তাদের পক্ষেও নেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ আগস্ট রাখাইনে বেশ কয়েকটি তল্লাশিচৌকিতে কোনো এক বিদ্রোহী গোষ্ঠী হামলা চালায়। এতে নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্যসহ নিহত হন ৭০ জনের বেশি মানুষ। ওই হামলার জন্য ২৫ আগস্ট থেকে দেশটির সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে দায়ী করে তাদের ওপর নির্বাচারে নির্যাতন ও হত্যা শুরু করে।

এরপর থেকেই রাখাইন ও আরাকান রাজ্য থেকে কক্সবাজারের টেকনাফসহ বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে নাফ নদী পার হয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসতে শুরু করে। সহিংসতায় এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছে প্রায় ৫ হাজার মানুষ।

x

Check Also

টানা ৫ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালানো যাবে না, সতর্ক করল বিআরটিএ

এমএনএ প্রতিবেদক একটানা দীর্ঘ সময় গণপরিবহণ চালানোর ফলে চালকদের ক্লান্তি, ঝিমুনি ও ঘুমের প্রবণতা বাড়ছে, ...