Don't Miss
Home / সারাদেশ / কক্সবাজারের পথে খালেদা জিয়া : বিএনপির শোডাউন

কক্সবাজারের পথে খালেদা জিয়া : বিএনপির শোডাউন

এমএনএ জেলা প্রতিনিধি : রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের উদ্দেশ্যে কক্সবাজারের পথে যাত্রা করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। পথে দলীয় চেয়ারপারসনকে সংবর্ধনা জানাতে স্থানীয় বিএনপি ব্যাপক শোডাউনের আয়োজন করেছে।
খালেদা জিয়া আজ রবিবার বেলা সোয়া ১২ টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ থেকে কক্সবাজারের পথে রওনা হন। এদিকে, খালেদা জিয়াকে এক নজর দেখতে ও সংবর্ধনা জানাতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে জড়ো হয়েছেন বিএনপি নেতাকর্মীসহ উৎসুখ লাখো মানুষ।
সকাল থেকেই দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলার মূল সড়কে অবস্থান নিয়ে স্বাগত স্লোগান দিচ্ছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
সার্কিট হাউজ থেকে ফিরিঙ্গি বাজার, নতুন চাক্তাই, কর্ণফুলীর নতুন সেতু হয়ে দীর্ঘ পথের দুই ধারে ছিলো মানুষের স্রোত। প্লেকার্ড, ফ্যাস্টুন ব্যানার তোরণে ছাওয়া পুরো রাস্তা। দলের নেতা কর্মীদের শোডাউনে তাদের হাতে ছিলো স্থানীয় এমপি প্রার্থী হতে আগ্রহীদের ছবি।
বেগম খালেদা জিয়ার সামনে পিছনে বিশাল গাড়িবহর। নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনার আবহ। কোথাও কোথাও সড়কের পাশে মঞ্চ পেতে বক্তৃতা দিচ্ছেন স্থানীয় নেতারা। যেনো নির্বাচনী প্রচারণার মহড়া।
দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি গ্রামের সাধারণ নারী-পুরুষও খালেদা জিয়াকে দেখার জন্য রাস্তার পাশে দাঁড়িয়েছে। ভিড়ের কারণে ধীর গতিতে চলছে বহর।
আজ রবিবার কক্সবাজার শহরে রাত্রিযাপন করে আগামীকাল সোমবার সকাল ১১টায় উখিয়ায় বালুখালি পানবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্প, বালুখালি-২, হাকিমপাড়া ও শফি উল্লাহকাটা ঢালা ক্যাম্প পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ করবেন খালেদা জিয়া। ওই দিন বিকেলে কক্সবাজার হয়ে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে তার রাত্রি যাপন করার কথা রয়েছে।
এদিকে তার সফরসূচি সফল ও তদারকি করতে গত শুক্রবারই কক্সবাজারে এসেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খাঁন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম ও জাতীয় মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস। এছাড়া বেগম খালেদা জিয়ার সাথে রয়েছেন মির্জা ফখরুলসহ একডজন কেন্দ্রীয় নেতা। মির্জা আব্বাস ও নজরুল ইসলাম খাঁন কক্সবাজারে এসে জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দদের সাথে দফায় দফায় মিটিংয়ে বসে সবকিছু তদারকি করছেন।
এর আগে গতকাল শনিবার মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের দেখতে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
গতকাল সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে খালেদা জিয়া কক্সবাজারের উদ্দেশে সড়কপথে রওনা হন। বেলা দুইটা নাগাদ খালেদা জিয়ার গাড়িবহর কাচপুর ব্রিজ পার হয়। মহাসড়কে যানবাহনের প্রচুর চাপ ছিল।
খালেদা জিয়ার সঙ্গে রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ।
রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে যোগ দেন মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
কুমিল্লায় ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। ফেনীতে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
চট্টগ্রামে ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান। কক্সবাজারে অবস্থান করছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও নজরুল ইসলাম খান।
খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের আগে যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের অগ্রবর্তী দল আছে।
গুলশান থেকে যাত্রার আগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরার পরই রোহিঙ্গাদের দেখতে কক্সবাজার যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন খালেদা জিয়া। তিনি রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণও বিতরণ করবেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সফর যাতে নির্বিঘ্ন হয়, সে জন্য আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সহযোগিতা চেয়েছে। আইজিপি আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন।’
ঢাকা থেকে খালেদা জিয়ার কক্সবাজার যাওয়ার পথে জনসমাগম করার প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি। এ লক্ষ্যে নেতা-কর্মীদের সংগঠিত করতে যাত্রাপথের জেলাগুলোকে বার্তা পাঠানো হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় একটি অগ্রবর্তী দল গত দুই দিন সংশ্লিষ্ট জেলার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে।
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যা ও নির্যাতনের মুখে গত ২৫ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আসা শুরু হয়। ওই সময় খালেদা জিয়া যুক্তরাজ্যে ছিলেন। দেশে ফেরার ১০ দিনের মাথায় আজ কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হলেন তিনি।
বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানায়, খালেদা জিয়ার এ সফর মানবিক। তাই জনসভা বা পথসভার কোনো কর্মসূচি নেই। রাস্তায় কোনো ধরনের তোরণ নির্মাণ না করার ব্যাপারেও দলের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দলীয় প্রধানের যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরার দিন যেভাবে বিমানবন্দর থেকে গুলশানের পথে জমায়েত করা হয়েছিল, সেভাবে কক্সবাজারে যাত্রাপথেও বিপুলসংখ্যক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চাইছেন দলের নেতারা।
তাঁরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত দীর্ঘ পথে দলের নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত করার একটা সুযোগ মিলবে। এ ছাড়া বড় ধরনের জনসমাগম করা গেলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি সামনে রেখে সরকারকেও একটি বার্তা দেওয়া যাবে।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ওনাকে স্বাগত জানাবে সেদিনকার (যুক্তরাজ্য থেকে ফেরার দিন) বিমানবন্দরের মতো। তা ছাড়া আমাদের নেতা-কর্মীরা তো আছেনই, তাঁরা নেত্রীকে স্বাগত জানাতে রাস্তার পাশে দাঁড়াবেন।’
দলীয় সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া গতকাল দুপুরে ফেনীতে যাত্রাবিরতি করেন। রাতে চট্টগ্রামে রাতযাপন করেন। আজ রবিবার তিনি কক্সবাজারে পৌঁছাবেন। আগামীকাল উখিয়ায় কয়েকটি শরণার্থীশিবিরে তাঁর ত্রাণ তৎপরতায় অংশ নেওয়ার কথা।
বিএনপির সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার যাওয়ার পথ ঢাকা-চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার মহাসড়কে যাতে দলীয় কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক সমাগম হয়, সে জন্য কেন্দ্রীয় তিন সদস্যের একটি অগ্রবর্তী দল গত বৃহস্পতি ও গতকাল শুক্রবার ঢাকা থেকে কক্সবাজারে যায়। কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহানের নেতৃত্বে এই দলে আছেন প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী ও সহদপ্তর সম্পাদক বেলাল আহমেদ। গত দুই দিনে তাঁরা কুমিল্লার চান্দিনা, কুমিল্লা সদর, চৌদ্দগ্রাম, ফেনী, মিরসরাই ও সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা, পটিয়া, সাতকানিয়াসহ মহাসড়কের আশপাশের জেলা কমিটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে খালেদা জিয়ার যাত্রাপথের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং রাস্তায় যানজটের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে স্থানীয় নেতাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান শহীদ উদ্দীন চৌধুরী।
x

Check Also

ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬ দুর্নীতি সহায়ক, লুটেরাদের পুনর্বাসন আত্মঘাতী: টিআইবি

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক সদ্য পাস হওয়া ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনার ...