Don't Miss
Home / আইন আদালত / তারেক মাসুদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ

তারেক মাসুদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ

এমএনএ রিপোর্ট : সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদের পরিবারকে চার কোটি ৬১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৫২ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বাসের মালিক, চালক ও ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিকে এই অর্থ দিতে হবে।
ক্ষতিপূরণ চেয়ে তারেক মাসুদের স্ত্রীর দায়ের করা এক মামলায় বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রবিবার এই রায় দেন।
তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদের আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের তিন মাসের মধ্যে ক্ষতিপূরণের ওই অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
এই টাকার মধ্যে ইনস্যুরেন্স কোম্পানি দেবে ৮০ হাজার টাকা, বাসচালক দেবেন ৩০ লাখ এবং বাকি ৪ কোটি ৩০ লাখ ৯৫ হাজার ৪৫২ টাকা তিন বাস মালিককে সমান ভাগ করে দিতে হবে। অর্থাৎ প্রত্যেক মালিককে দিতে হবে ১ কোটি ৪৩ লাখ ৬৫ হাজার ১৫১ টাকা।
২০১১ সালের ১৩ আগস্ট মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জোকা এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে দুর্ঘটনায় মারা যান চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ ও এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মিশুক মুনীর। চুয়াডাঙ্গাগামী একটি বাসের সঙ্গে তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসের সংঘর্ষ হয়; এতে তারেক ও মিশুকসহ মাইক্রোবাসের পাঁচ আরোহী প্রাণ হারান। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করে। গত ২২ ফেব্রুয়ারি ওই মামলার রায়ে বাসচালক জামির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন মানিকগঞ্জের আদালত।
তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরের পরিবারের সদস্যরা ক্ষতিপূরণ চেয়ে মানিকগঞ্জে মোটরযান অর্ডিন্যান্সের ১২৮ ধারায় দুটি মামলা করেন ২০১৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি। সংবিধানের ১১০ অনুচ্ছেদ অনুসারে পরে মামলা দুটি হাইকোর্টে বদলির নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করা হয়।
পরবর্তী সময়ে সংবিধানের ১১০ অনুচ্ছেদ অনুসারে মামলা দুটি হাইকোর্টে বদলির নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করেন বাদীরা। নিম্ন আদালত থেকে মামলা দুটি স্থানান্তরে সংবিধানের ১১০ অনুচ্ছেদ অনুসারে হাইকোর্টে ওই আবেদন দুটি করা হয়। তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথেরিন মাসুদ এবং মিশুক মনিরের স্ত্রী কানিজ এফ কাজী ও ছেলে সুহৃদ মুনীরের দুটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক শুনানি নিয়ে একই বছরের ৩ অক্টোবর রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
রুলে সংবিধানের ১১০ অনুচ্ছেদ অনুসারে মামলা দুটি কেন উচ্চ আদালতে বদলি করা হবে না—তা জানতে চাওয়া হয়। পাশাপাশি মামলা দুটির নথি তলব করা হয়। এ রুলের শুনানি শেষে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর ওই দুই আবেদন মঞ্জুর করেন হাইকোর্ট। সে অনুযায়ী বিচারপতি জিনাত আরার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে মামলা দুটির শুনানি শুরু হয়। ২০১৬ সালের ১৩ মার্চ হাইকোর্টে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। এর মধ্যে আজ রবিবার তারেক মাসুদের মামলার রায় হলো। অপরটির শুনানি ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুলতবি রয়েছে।
আদালতে ক্যাথরিন মাসুদের পক্ষে সাতজন এবং বাস মালিক সমিতির পক্ষে পাঁচজন ও ‘রিলায়েন্স ইন্সুরেন্স কোম্পানির’ পক্ষে একজন সাক্ষ্য দেন।
এ মামলায় তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদের পক্ষে শুনানি করেন ড. কামাল হোসেন। চুয়াডাঙ্গা বাস মালিকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আব্দুস সুবহান তরফদার এবং ইন্সুরেন্স কোম্পানির পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার ইমরান এ সিদ্দিকী ও ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিকী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল ইসরাত জাহান।
বাংলাদেশে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ঘটনা বিরল।
এর আগে ১৯৮৯ সালে মিনিট্রাকের চাপায় দৈনিক সংবাদের বার্তা সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন মন্টু নিহত হওয়ার ঘটনায় ২০১০ সালে ২ কোটি ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণের রায় দিয়েছিল হাই কোর্ট। তবে এরকম উদাহরণ খুব বেশি নেই।
x

Check Also

এক মামলায় জামিন পেয়েছেন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী

আদালত প্রতিবেদক সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী একটি মামলায় জামিন পেয়েছেন। রোববার (১২ এপ্রিল) ঢাকা ...