দুই মামলায় ৪৯ জন আসামির মৃত্যুদন্ড চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ
Posted by: News Desk
January 1, 2018
এমএনএ রিপোর্ট : রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগ সমাবেশে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসংক্রান্ত দুই মামলায় ৪৯ জন আসামির সর্বোচ্চ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি মৃত্যুদন্ড প্রার্থনা করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
আজ সোমবার ঢাকা দ্রুত ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এ আবেদন জানান রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌশলী সৈয়দ রেজাউর রহমান।
গত ২৭ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ ২৪৫ জনের সাক্ষ্য পর্যবেক্ষণের আলোকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেছিল। আজ ১ জানুয়ারি (২০১৮) আসামিপক্ষে যুক্তিতর্ক এবং রাষ্ট্রপক্ষে আইনগত যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য ছিল।
আসামিপক্ষ সময় চেয়ে আবেদন করায় আদালত তা মঞ্জুর করে আগামীকাল মঙ্গলবার আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করেছেন।
এই দুই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ২৫ কার্যদিবসে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর ন্যায় বিচারের স্বার্থে সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি (মৃত্যুদণ্ড) প্রার্থনা করেছে।
রাজধানীর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার এক নম্বর দ্রত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে এ মামলার বিচার চলছে। আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলেই মামলা দুটির রায় ঘোষণা করা হবে।
এর আগে এই দুই মামলায় গত বুধবার রাষ্ট্রপক্ষ তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে। যুক্তিতর্কে রাষ্ট্রপক্ষ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক, বিভিন্ন সরকারি ও প্রশাসনিক সহযোগিতার তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেন। তারেক রহমানের রাজনৈতিক কার্যালয় বনানীর হাওয়া ভবন, বিএনপি-জামায়াত সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু’র ধানমণ্ডির সরকারি বাসভবনসহ ষড়যন্ত্রমূলক সভার স্থানসমূহ তথ্য-প্রমাণের আলোকে তুলে ধরেন।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নানসহ তার সহযোগীদের পরিচালিত বিভিন্ন তৎপরতার তথ্য যুক্তিতর্কে তুলে ধরা হয়। প্রকৃত আসামিদের আড়াল করতে নিরীহ জজ মিয়াসহ অন্য নিরীহদের মামলায় সম্পৃক্ত করার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়েও যুক্তি উপস্থাপন করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, চারদলীয় জোট সরকারের মন্ত্রী, প্রভাবশালী নেতা, প্রশাসনের প্রভাবশালী কর্মকর্তসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা পরস্পর যোগসাজসে ঘটিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন দলের তিন শতাধিক নেতাকর্মী।
ঘটনার পরদিন মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। এক পর্যায়ে মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে যায়।
এই ঘটনায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মামলা দিতে গেলে পুলিশ সে মামলা নেয়নি। তার আগে পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করে। তৎকালীন সরকার মামলার তদন্ত ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করে। নোয়াখালীর গ্রাম থেকে জজ মিয়া নামের এক যুবককে ধরে নিয়ে এসে আদালতে মিথ্যা জবানবন্দি আদায় করে। পরবর্তী সময়ে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে মামলাটির নতুন করে তদন্ত শুরু করে এবং একের পর এক সত্য বেরিয়ে আসতে থাকে। পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে অধিকতর তদন্ত করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয়। এতে বিএনপির নেতা তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ আরও অনেকের নাম আসে।
২০০৮ সালের ১১ জুন সিআইডির জ্যেষ্ঠ এএসপি ফজলুল কবির মুফতি হান্নানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন।
২০০৯ সালের ৩ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটি অধিকতর তদন্তের আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন। মামলা তদন্তের দায়িত্ব পান সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহ্হার আখন্দ। তিনি ২০১১ সালের ৩ জুলাই তারেক রহমানসহ ৩০ জনের নাম যুক্ত করে মোট ৫২ জনের নামে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি অভিযোগপত্র দেন। আসামিদের মধ্যে অন্য মামলায় ইতিমধ্যে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় মামলা দুটি থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
মৃত্যুদন্ড আসামির চেয়েছে দুই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ৪৯ জন 2018-01-01