শুভ জন্মদিন কম্পিউটার বিপ্লবের পথিকৃৎ স্টিভ জবস
Posted by: News Desk
February 24, 2018
এমএনএ সাটেক ডেস্ক : স্টিভ জবস। এক নামেই সবাই চিনেন তাকে। তিনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র তথা বিশ্বের অন্যতম একজন উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবক। তিনি পার্সোনাল কম্পিউটার বিপ্লবের পথিকৃৎ হিসেবেও স্বীকৃত। আজ তাঁর ৬৩তম শুভ জন্মদিন।
১৯৫৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিস্কোতে জন্মগ্রহণ করেন। পরে পল ও ক্লারা জবস দম্পতি তাকে দত্তক হিসাবে গ্রহণ করে নিয়ে এলে তার নাম রাখা হয় স্টিভেন পল জবস।
জবস এর প্রকৃত পিতা-মাতা ছিলেন জোয়ান ক্যারোল এবং আব্দুল্লাহ ফাতাহ জান্দালি। জনাব আব্দুল্লাহ ফাতাহ জান্দালি সিরিয়া বংশোদ্ভুত ছিলেন।
স্টিভ জবসের প্রকৃত পিতা-মাতার ঘরে তার এক বোন রয়েছে যিনি সাহিত্যিক মোনা সিম্পসন নামে সুপরিচিত।
জবস কুপারটিনো জুনিয়র হাই স্কুলে এবং হোমস্টিড হাই স্কুলে গিয়েছিলেন। ১৯৭২ সালে তিনি হাই স্কুল শেষ করেন এবং রীড কলেজ়ে ভর্তি হন। ১৯৭৪ সালে জবস ক্যালির্ফোনিয়াতে পুনরায় চলে আসেন।
স্টিভ জবস, যুক্তরাষ্ট্রের একজন উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবক। অ্যাপল ইনকর্পোরেশনের প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম ও সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।
দূরদৃষ্টিসম্পন্ন স্টিভ জবস এই বিশ্বকে তাঁর জাদুর ছোঁয়ায় বদলে দিয়েছিলেন। তাঁর হাত ধরেই এসেছিল স্মার্টফোনের বিস্ময় ‘আইফোন’।
তার পুরোনাম : স্টিভেন পল জবস। তাকে পার্সোনাল কম্পিউটার বিপ্লবের পথিকৃৎ বলা হয়। বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে প্রগতিশীল, প্রভাবশালি, প্রতিভাবান আর সফল প্রযুক্তিক ভাবনার অধিকারী হিসেবে স্টিভ জবসের নাম সর্বাগ্রে।
জবস এর উত্থানের শুরুটা ছিল ‘আর্কেড ভিডিও গেম’ ব্রেকআউটের জন্য সার্কিট বোর্ড তৈরি থেকে। প্রত্যেক চিপের জন্য ১০০ ডলার দেওয়ার প্রস্তাবে তিনি এ কাজে যুক্ত হন।
এরপর জবস ওজনিয়াকের সহায়তায় টেলিফোন নেটওয়ার্ককে নিপূনভাবে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় টোন উৎপন্ন করতে একটি কম খরচের ‘ব্লু বক্স’ তৈরি করেন। এতে দীর্ঘ দূরত্বের টেলিফোন কল বিনামূল্যে করা যেত।
১৯৯৪ সালে একটি সাক্ষাৎকারে জবস বলেন, ‘ব্লু বক্স কিভাবে তৈরি করতে হয় তা বুঝে উঠতে তাদের ছয় মাস সময় লেগেছিল। তিনি বলেন, যদি ব্লু বক্সগুলো তৈরি না হত, তাহলে হয়ত অ্যাপলও থাকত না। এটি তাদেরকে দেখিয়েছিল যে তা বড় কোম্পানিগুলোকে হারিয়ে দিতে পারে।’
১৯৭৬ সালে জবস এবং ওজনিয়াক নিজেদের ব্যবসা শুরু করেন। তারা তাদের কোম্পানির নাম দেন ‘অ্যাপল কম্পিউটার কোম্পানি’ প্রথম দিকে সার্কিট বোর্ড বিক্রয়ের মাধ্যমে তারা এই কোম্পানি চালু করেন।
জবস ‘পিক্সার এ্যানিমেশন স্টুডিওস’ এরও প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম ও সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। তবে ১৯৮৫ সালে অ্যাপল ইনকর্পোরেশনের ‘বোর্ড অব ডিরেক্টর্সের’ সদস্যদের সাথে বিরোধে জড়িয়ে তিনি অ্যাপল ইনকর্পোরেশনের থেকে পদত্যাগ করেন এবং ‘নেক্সট কম্পিউটার’ প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯৯৬ সালে অ্যাপল কম্পিউটার নেক্সট কম্পিউটারকে কিনে নিলে তিনি অ্যাপলে ফিরে আসেন।
জবস অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী হিসেবে বছরে মাত্র ১ মার্কিন ডলার বেতন গ্রহণ করতেন। অবশ্য তার কাছে অ্যাপলের ৫.৪২৬ মিলিয়ন শেয়ার ছিল, যার মূল্য ২.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এছাড়াও তার কাছে ছিল ডিজনির ১৩৮ মিলিয়ন শেয়ার, যার মূল্য ৪.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
জবস ঠাট্টাস্বরূপ বলতেন , ‘অ্যাপল থেকে তিনি বছরে যে ১ মার্কিন ডলার পান, তার ৫০ সেন্ট পান বার্ষিক সম্মেলনে উপস্থিত হওয়ার জন্য এবং বাকি ৫০ সেন্ট পান নিজের কাজের জন্য।’
২০১০ সালে ফোর্বসের হিসাব অনুসারে, স্টিভ জবস এর সম্পত্তির পরিমাণ ৮.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা তাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৪২তম ধনী ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।
অক্টোবর ২০১১ পর্যন্ত স্টিভ জবসের নামে ৩৪২টি আমেরিকান উদ্ভাবনের স্বত্ত্ব অধিকার রয়েছে।
অ্যাপলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী স্টিভ জবস অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারে ভুগে ২০১১ সালের ৫ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।
অ্যাপলের সহপ্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের সাফল্যের কথা কার না জানা। অ্যাপলের মতো একটি সফল প্রতিষ্ঠান দাঁড় করানো খুব একটি সহজ ব্যাপার নয়। কিন্তু স্টিভ জবস তার জীবদ্দশায় এই কাজটিকেই সম্ভব করে গিয়েছেন। আর এ কারণেই তার মৃত্যুর পরও এখনও প্রযুক্তি বিশ্ব তাকে আগের মতোই স্মরণ করে।
প্রায় সব বিষয়ই তিনি দেখতেন গভীরভাবে। আর এই গভীর পর্যবেক্ষণ থেকে তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন যা সবাইকেই যুগিয়েছে উৎসাহ এবং তার মৃত্যুর পরও তার এই উক্তিগুলো সমানভাবে সবাইকে উৎসাহ জুগিয়ে আসছে।
স্টিভ জবসের জন্মদিনে তার ভক্তদের জন্য সেরা কয়েকটি উক্তি তুলে ধরা হলো-
এক. সৃজনশীলতা হলো একটা কিছুর সাথে অন্য কিছুর সংযোগ দেওয়ার সক্ষমতা। আপনি যদি সৃজনশীল কাউকে জিজ্ঞাসা করেন কিভাবে তারা কোন কাজ করে, তাহলে তারা নিজেকে কিছুটা অপরাধী মনে করে। কারণ প্রকৃতপক্ষে তারা নিজেরা সেটি করেনি, তারা কেবলমাত্র সেটি গভীরভাবে দেখেছে। আর কিছু সময় পর সেই কাজটি করা তাদের জন্য অবধারিত হয়ে গেছে।
দুই. একটি নির্দিষ্ট ব্যবহারকারী গোষ্ঠীকে ফোকাস করে পণ্যের ডিজাইন করা সত্যিই কঠিন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অনেকেই বুঝে উঠতে পারেন না তারা কী চান যতক্ষণ না তাদের সামনে একটি পণ্য হাজির করা হয়।
তিন. আপনাকেও পৃথিবী ছেড়ে যেতে হবে, এমন চিন্তাই কেবল পারে কোন কিছু হারানোর দুশ্চিন্তা থেকে আপনাকে রক্ষা করতে পারে বলে আমার কাছে মনে হয়।
চার. আপনার জীবনের একটি বড় অংশ জুড়েই থাকবে আপনার কর্ম এবং যে কাজটি নিজের কাছে সেরা বলে মনে হয়, সেই কাজটি করতে পারাই হলো আত্মতুষ্টির একমাত্র উপায়।
পাঁচ. কবরাস্থানে সবচেয়ে ধনী হয়ে থাকার ব্যাপারটি আমার কাছে তেমন কিছুই মনে হয় না…রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় এটা ভেবে ঘুমানো উচিত যে আমরা দারুণ কিছু করতে পেরেছি…এটাই আমার কাছে বড় ব্যাপার।
ছয়. অ্যাপল থেকে চাকরিচ্যুত হওয়ার ঘটনা ছিল আমার জীবনে ঘটে যাওয়া শ্রেষ্ঠ ঘটনা। আমার জীবনের সেরা একটি সময়ে প্রবেশের পথ করে দিয়েছিল এই ঘটনাটি।
সাত. অনেক কিছু করার জন্য যেমন আমি গর্বিত, তেমনি অনেক কিছু না করার জন্যও আমি গর্বিত। উদ্ভাবন মানেই হলো হাজারটা জিনিসকে ‘না’ বলা।
আট. আমি মনে করি, আপনি যদি কোন কাজ করেন এবং সেটি যদি সত্যিই ভালো কিছু হয়, তাহলে আপনার উচিত হবে আরও দারুণ কিছু করার জন্য কাজ শুরু করে দেওয়া, আগেরটি নিয়ে পড়ে থাকার দরকার নেই। শুধু ভাবুন যে এরপর কী করা যায়।
নয়. আমার বয়স যখন ১৭ বছর, তখন আমি একটি লেখা পড়েছিলাম যাতে ছিল, “আপনি যদি প্রতিটি দিনকেই জীবনের শেষ দিন মনে করেন, তাহলে আপনি একদিন সত্যি সত্যিই নিজেকে সঠিক প্রমাণ করতে পারবেন।” এই কথাটি আমার মনে দাগ কেটেছিল। আর এরপর থেকেই গত ৩৩ বছর ধরে প্রতি সকালে আমি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে জিজ্ঞাসা করতাম, আজই যদি আমার জীবনের শেষ দিন হতো, তাহলে কি আমি সেই কাজগুলোই করতাম যেগুলো আমি আজ করতে চেয়েছি? নিজেকে করার এই প্রশ্নের জবাবে যদি একটানা কয়েকদিন ‘না’ উত্তর শুনতাম, তাহলেই ধরে নিতাম যে কিছু ব্যাপার পরিবর্তনের সময় এসেছে।
দশ. আমি এটা ভেবেই সন্তুষ্ট যে সফল উদ্যোক্তাদের ব্যর্থ উদ্যোক্তাদের থেকে যা আলাদা করেছে, তার অর্ধেকই হলো অধ্যবসায়।
কম্পিউটার পথিকৃৎ বিপ্লবের শুভ জন্মদিন স্টিভ জবস 2018-02-24