Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / অস্ট্রেলিয়ায় সংবাদমাধ্যমগুলোর অভিনব প্রতিবাদ

অস্ট্রেলিয়ায় সংবাদমাধ্যমগুলোর অভিনব প্রতিবাদ

এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : অস্ট্রেলিয়ায় রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তার অজুহাতে সংবাদপ্রকাশের ক্ষেত্রে বাধা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে সরকারের অভিযানের অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশটির জাতীয় ও আঞ্চলিক প্রধান সারির দৈনিক পত্রিকাগুলো। আজ সোমবার (২১ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রথম পাতার খবরের লাইনগুলো কালো কালিতে কেটে দেয়া হয়েছে এবং পাশে লাল কালিতে স্ট্যাম্প মার্কে লেখা হয়েছে ‘নট ফর রিলিজ, সিক্রেট’।

এই প্রতিবাদের মিছিলে শামিল হয়েছে প্রভাবশালী দৈনিক ‘দ্য অস্ট্রেলিয়ান’, ‘দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ড’ ও ‘দ্য অস্ট্রেলিয়ান ফিন্যান্সিয়াল রিভিউ’র মতো সংবাদমাধ্যমগুলো। কালো কালিতে মুছে দেওয়া প্রতিবেদনের ওপরে লাল কালির সিলে দেখা যায়, ‘সিক্রেট: নট ফর রিলিজ’ (গোপনীয়: প্রকাশের জন্য নয়) লেখা, যা গোপনীয়তার অজুহাতে সরকারের বাড়াবাড়িকেই ইঙ্গিত করেছে। অনেক টেলিভিশনেও একই ধরনের প্রতিবাদ দেখা যায়। দর্শকদের উদ্দেশ্যে ফাঁকে ফাঁকে তারা বিজ্ঞাপন আকারে প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছিল, ‘সরকার যখন আপনার কাছ থেকে সত্য লুকোতে চায়, তারা আসলে কী ঢাকতে চায়?’

সরকারের গোপনীয়তার অজুহাত এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েই ভিন্ন ধারার এই প্রতিবাদ দেখাল সংবাদমাধ্যমগুলো।

টিভি, রেডিও এবং বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকাগুলোর সমর্থনে ‘রাইট টু নো’ সংগঠন সরকারের গণমাধ্যম দমনের বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদের পেছনে ভূমিকা পালন করছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এ বছরের শুরুতে দু’টি প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে টেলিভিশন চ্যানেল অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (এবিসি)র কার্যালয় ও নিউজ কর্প’র একজন সাংবাদিকের বাড়িতে কেন্দ্রীয় পুলিশের অভিযানের পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসছে তারা।

বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা বলছে, হুইসেলব্লোয়ার্স থেকে ফাঁস হওয়া বেশ তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি কিছু প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করেই ওই অভিযান চালানো হয়েছে। নিউজ কর্প’র সাংবাদিক অ্যানিকা স্মেথার্স্টের প্রতিবেদনে সরকার অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের ওপর একটি সরকারি সংস্থা নজরদারির পরিকল্পনা করছে বলে অভিযোগ আনা হয়। অপরদিকে অন্য প্রতিবেদনে এবিসির দুই প্রতিবেদক আফগানিস্তানে পশ্চিমা জোটের হয়ে অংশ নেওয়া অস্ট্রেলিয়ার বিশেষ বাহিনীর যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের বিষয়াদি তুলে ধরেন। দু’টি প্রতিবেদনই সরকারকে বেশ অস্বস্তিতে ফেলে দেয়।

ওই অভিযানের পর অ্যানিকা এবং এবিসির দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযাগ গঠন করতে চলেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

এ বিষয়ে মিডিয়া এন্টারটেইনমেন্ট অ্যান্ড আর্টস অ্যালায়েন্স ইউনিয়নের প্রধান পল মার্ফি বলেছিলেন, নিউজ কর্প’র সাংবাদিক অ্যানিকা স্মেথার্স্টের বাড়ি ও এবিসির সিডনি হেডকোয়ার্টারে অভিযান অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ।

বিশ্ব সংবাদমাধ্যম বলছে, অনেক উদার গণতন্ত্রের মতো অস্ট্রেলিয়ায় বাকস্বাধীনতা নিশ্চিতে সাংবিধানিক সুরক্ষা নেই। এ সংক্রান্ত কোনো বিশেষ আদেশও নেই। যেজন্য সেখানে বরাবরই দমন-পীড়নের শিকার হওয়ার অভিযোগ করে আসছে সংবাদমাধ্যম।

যদিও এ অভিযোগের ব্যাপারে দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বারবার বলে আসছেন, তার সরকার সবসময় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। তবে সাংবাদিকরাও আইনের ঊর্ধ্বে নন।

x

Check Also

জীবন বিমা খাতে বকেয়া দাবির পাহাড়, আস্থার সংকটে পুরো সেক্টর

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক বিমাকে বলা হয় বিপদের বন্ধু—দুর্যোগ, অনিশ্চয়তা কিংবা জীবনের কঠিন সময়ে আর্থিক সুরক্ষার এক ...