Don't Miss
Home / আইন আদালত / ইউজিসির নিষেধাজ্ঞা-সিন্ডিকেট অনুমোদন ছাড়াই ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নিয়োগ, আরও চার পদে নিয়োগে তোড়জোড়; লিখিত অভিযোগ

ইউজিসির নিষেধাজ্ঞা-সিন্ডিকেট অনুমোদন ছাড়াই ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নিয়োগ, আরও চার পদে নিয়োগে তোড়জোড়; লিখিত অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদক

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশনা, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নজরদারি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের অনুমোদন প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইআবি) গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে গোপনে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবু জাফর খানের দিকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদে সিন্ডিকেটের অনুমোদন ছাড়াই একজন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং তিনি ইতোমধ্যে দায়িত্বও গ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে অর্থ বিভাগের পরিচালক, মাদ্রাসা পরিদর্শক, দুই অনুষদের ডিনসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসি এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, নিয়োগ-সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে আগে থেকেই তদন্ত চলমান রয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য ইউজিসি থেকেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করেছে।

‘গোপনীয়ভাবে চলছে নিয়োগ প্রক্রিয়া’

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নিয়োগ কার্যক্রম এমনভাবে পরিচালিত হচ্ছে যে উপাচার্য ও রেজিস্ট্রার ছাড়া প্রশাসনের অধিকাংশ কর্মকর্তা এ বিষয়ে অবগত নন। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ব্যক্তিরাও নিয়োগ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, “বিভিন্ন পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এসব নিয়োগ যদি প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত বিধি ও অনুমোদন প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে দেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতার পাশাপাশি রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতিরও আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণেই আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনেছি।”

তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সিন্ডিকেটের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। কিন্তু এখানে পুরো প্রক্রিয়াটিই অস্বচ্ছভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে।”

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ এমদাদুল হককে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি ইতোমধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানও করেছেন।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, “আমি লিয়েন ছুটির জন্য আবেদন করেছি এবং এখানে যোগদান করেছি। তবে আমি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন থাকার ইচ্ছা নেই। আমি আমার নিয়োগপত্র প্রত্যাহারের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিতে পারি।”

তাঁর এই বক্তব্য নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কারণ, যোগদানের পরপরই নিয়োগপত্র প্রত্যাহারের সম্ভাবনার কথা বলা হলে নিয়োগের উদ্দেশ্য ও প্রক্রিয়া নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে।

আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের প্রস্তুতি

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী এবং আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন নিজ নিজ কর্মস্থলে লিয়েন ছুটির আবেদনও করেছেন বলে জানা গেছে।

এছাড়া অর্থ বিভাগের পরিচালক, মাদ্রাসা পরিদর্শক এবং দুই ডিনের পদেও নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, এসব পদে নিয়োগের বিষয়ে কোনো উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তি, প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া কিংবা স্বচ্ছ বাছাই পদ্ধতির তথ্য প্রশাসনের অধিকাংশ সদস্যের কাছে নেই।

সিন্ডিকেট সদস্যরাও অন্ধকারে?

অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের সদস্যদের অনেকেই নিয়োগ কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত নন বলে দাবি করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার শাহীনুল ইসলাম বলেন, “আমি সিন্ডিকেট সদস্য হলেও এ বিষয়ে কিছু জানি না। বিষয়টি আজই শুনলাম। যদি সিন্ডিকেটের অনুমোদন ছাড়া নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেটি বিধি অনুযায়ী হয়নি।”

তাঁর এই বক্তব্য নিয়োগ প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণত সিন্ডিকেটের অনুমোদনকে অপরিহার্য ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি

এদিকে নিয়োগ-সংক্রান্ত অভিযোগগুলো শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার বা আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

তাঁদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে তা শুধু প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিই ক্ষুণ্ন করে না, বরং উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবু জাফর খানের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

তবে শিক্ষা খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা হলে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের অবসান ঘটতে পারে।

x

Check Also

ঢাকায় আবারও ৫০০ কিলোমিটারের বেশি সড়ক কাটবে ওয়াসা, দীর্ঘমেয়াদি ভোগান্তির শঙ্কায় নগরবাসী

বিশেষ প্রতিবেদক রাজধানী ঢাকার বাসিন্দারা যখন কিছুদিনের জন্য খানাখন্দমুক্ত ও চলাচলযোগ্য সড়কের স্বস্তি উপভোগ করতে ...