Don't Miss
Home / আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ / চট্টগ্রামে ভয়ংকর অপরাধীরাই পুলিশের সোর্স

চট্টগ্রামে ভয়ংকর অপরাধীরাই পুলিশের সোর্স

এমএনএ ডেস্ক রিপোর্ট :  চট্টগ্রামে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্ভরযোগ্য ‘সোর্স’রাই ভয়ংকর অপরাধী। জানা যায় এখানকার ‘সোর্স’ ও ‘ক্যাশিয়ার’রাই নানারকম ভয়ংকর অপরাধে জড়িত। এখানকার অপরাধ জগত ও আইনশৃংখলা বাহিনী মধ্যে সুসম্পর্ক যেনো অনেকটা হিন্দি সিনেমার কাহিনীর মতোই ।

মাদক ব্যবসা, অস্ত্র ব্যবসা, চোরাচালান, পতিতাবৃত্তি, জুয়া, হাউজি, খুন, ছিনতাই, চুরি-ডাকাতি, সন্ত্রাস ও পণ্যে ভেজাল দেয়াসহ এমন কোনো অপরাধ নেই যার সঙ্গে এদের সংশ্লিষ্টতা নেই। সম্পর্কে (অপরাধীদের সঙ্গে) গোলমাল বাধলে কিংবা ‘লেনদেন চুক্তি’তে সোর্সরা পুলিশকে অপরাধীদের সম্পর্কে তথ্য দেয়, আর ক্যাশিয়াররা গ্রেপ্তার, মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়াসহ নানা ভয় দেখিয়ে অপরাধ স্পট ও অপরাধীদের কাছ থেকে টাকা তোলে। পুলিশের নামেই তোলা হয় এসব টাকা।

Sourceপ্রশাসনে বদল হয়, বহাল তবিয়তে থাকেন সোর্স ও ক্যাশিয়াররা। তবে এবার নড়েচড়ে বসতেই হচ্ছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ। মাহমুদা খানম মিতু হত্যায় এসপি বাবুল আক্তারের সোর্স জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় তাদের বিষয়ে ভাবতে হচ্ছে খোদ পুলিশকেই। নজরদারির পাশাপাশি তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে অপরাধে জড়িত সোর্সদের। চট্টগ্রামে বিভিন্ন থানা এলাকায় পুলিশ ও র‌্যাবের শতাধিক ব্যক্তি ‘সোর্স’ ও ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে নিয়োজিত রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে এদের দিয়ে চট্টগ্রামে বহু অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।

৫ জুন নগরীর জিইসি মোড়ে গুলি করে ও ছুরিকাঘাতে খুন করা হয় পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতুকে। এ ঘটনায় গত শনিবার আনোয়ার হোসেন ও ওয়াসিম নামে দু’জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে তারা বলেন, পুলিশের সোর্স আবু মুছা ওরফে মুসা সিকদারের পরিকল্পনায় এবং অপর সোর্স এহতেশামুল হক ওরফে ভোলার দেয়া অস্ত্রে খুন হন মিতু। ভোলা এবং মুছা দু’জনই ভয়ংকর অপরাধী। ভোলার বিরুদ্ধে ১৬টি মামলা রয়েছে। মুছার বিরুদ্ধেও রয়েছে একাধিক। জবানবন্দির পর ভয়ংকর সোর্সদের ব্যাপারে পুলিশ সদস্যদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সিএমপির শীর্ষ কর্মকর্তারা।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, ‘অপরাধী যে হোক তার ব্যাপারে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।’ অপরাধী সোর্সদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে? এ প্রশ্নে অবশ্য তিনি কিছুই বলতে রাজি হননি।

সিএমপি সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে প্রতি মাসে সোর্সদের জন্য ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা আসে। ওই টাকা পুলিশের মধ্যে বণ্টন করা হয়। তবে নগর পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, সোর্সদের জন্য টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও তারা সে টাকা Police-3ঠিকভাবে পান না। হয় নিজের পকেট থেকে সোর্সদের টাকা দিতে হয়, নয়তো উদ্ধার করা মাদকের ৩০ শতাংশ সোর্সদের দিয়ে দিতে হয়। ফলে ঘুরেফিরে মাদকের একটি অংশ চলে যায় তাদেরই হাতে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসায় লিপ্ত থাকে তারা।

৪ ফেব্রুয়ারি নগরীর বাকলিয়া থানাধীন তুলাতলি থেকে আবদুল মালেক ওরফে বার্মাইয়া মালেক নামের পুলিশের এক সোর্সকে ১৭০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মালেক পুলিশের সোর্স পরিচয়ে বাকলিয়া থানার বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবার ব্যবসা করছিল। সদরঘাট থানা এলাকার দুর্ধর্ষ ডাকাত কাউসার ও জলদস্যু বেলালের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি, সদরঘাট, পতেঙ্গা, বন্দরসহ বিভিন্ন থানায় রয়েছে একাধিক মামলা। তবে তারা পুলিশের বিশ্বস্ত সোর্স হিসেবে পরিচিত।

শুধু তারা নয়, থানা পুলিশ এবং বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, সিএমপির অপরাধী সোর্সদের মধ্যে রয়েছে- ডবলমুরিং এলাকায় রাজিব, রুবেল, চান্দু, ফারুক, হেলাল, বেলাল ও মুন্না। হালিশহরে শাহাবুদ্দিন ও নাসিমা। পাহাড়তলীতে মাসুদ, শাহাবুদ্দিন, সুমন, মাসুদ ও দুলাল। আকবরশাহে শরীফ, ইসমাইল, মামুন, বাবুল, সেলিম ও নুরু। কোতোয়ালিতে মিন্টু, সেলিম, আলো, খোকন ও রতন। খুলশীতে কাইয়ুম, জাবেদ, আনোয়ার, মানিক ও আলী। বন্দরে দুলাল ও মতিন। পতেঙ্গা এলাকায় সুমন, বেলাল, শামীম ও ইলিয়াছ। রেলওয়ে থানায় মুসলিম, বদি, আমিন, ফারুক। সদরঘাট থানায় ডাকাত কাউসার, জলদস্যু বেলাল ও সেলিম ওরফে কালা সেলিম। বাকলিয়া থানায় সাইফুল, আবুল কালাম আজাদ, তাহেরুল ইসলাম আছাদ, দিদারুল আলম, চাকরিচ্যুত পুলিশ কনস্টেবল আবদুল হাকিম ও আনোয়ার হোসেন। চকবাজারে নাছির ওরফে সিটিং নাছির। ইপিজেডে জব্বার। বায়েজিদে কালাম, মান্নান, আলাউদ্দিন, সবুজ, জাহাঙ্গীর, কাসেম, শাহজাহান ওরফে আকাশ ও পাঁচলাইশ এলাকার রাজু।

Police-5পাশাপাশি থানা পুলিশের কথিত ক্যাশিয়াররাও জড়িত রয়েছে নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে। তারা টাকার জন্য সাধারণ মানুষকেও ফাঁসিয়ে দিচ্ছে বিভিন্ন মামলায়। অধিকাংশ থানার ক্যাশিয়ার জড়িত রয়েছে মাদক ব্যবসায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিএমপির সাবেক পুলিশ কমিশনার আবদুল জলিল মণ্ডল নগরীর কথিত পুলিশের ক্যাশিয়ারদের গ্রেফতারে নির্দেশনা দেন থানা পুলিশকে। এরমধ্যে ৭ থেকে ৮ জনকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করার পর তারা জামিন পান। এরপর পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে অপরাধ করে বেড়ানো এসব ক্যাশিয়ারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

সূত্র মতে, সিএমপির ১৬ থানা এলাকায় দায়িত্বরত ক্যাশিয়ারের মধ্যে রয়েছে সদরঘাট থানায় অবসরপ্রাপ্ত কনস্টেবল লতিফ, খুলশীতে রয়েছে মাদক ব্যবসায়ী বড় মিয়া, হালিশহরে শাহাবুদ্দিন, বন্দর থানায় রয়েছে সাবেক পুলিশ কনস্টেবল লতিফ, চান্দগাঁও থানায় রয়েছে জাকির, পাঁচলাইশ এবং ইপিজেড থানায় রয়েছে জব্বার, কর্ণফুলীতে রয়েছে এক সময়ের পুলিশের সোর্স শফি, ডবংলমুরিংয়ে অলি, পতেঙ্গা থানায় রয়েছে পুলিশের সাবেক কনস্টেবল মোহাম্মদ আলী, আকবর শাহ থানায় রয়েছে এক সময়কার পুলিশের সোর্স হানিফ, বায়েজিদ বোস্তামী থানায় রয়েছে পুলিশের এক সময়কার সোর্স জাহাঙ্গীর আলম, কোতোয়ালি থানায় রয়েছে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কনস্টেবল নুর মোহাম্মদ ওরফে নুরু মিয়া, পাহাড়তলীতে মাসুদ ওরফে গরু মাসুদ, বাকলিয়ায় কাজ করে এক সময়কার পুলিশের সোর্স ও মাদক ব্যবসায়ী আবুল কালাম, আবদুর রউফ ও শফি এবং চকবাজার থানায় রয়েছে কনস্টেবল অলিউর রহমান অলি, চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানায় চাকরিচ্যুত আনসার সদস্য মুসলিম।

x

Check Also

আগামী এক বছরকে ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম–এর ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আগামী এক বছরকে ‘নজরুল বর্ষ’ ...