দেশের উত্তর-দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে তিনটি শৈত্য প্রবাহের আভাস
Posted by: News Desk
January 3, 2018
এমএনএ রিপোর্ট : বছরের প্রথম দিনেই বৃষ্টি হয়েছে দক্ষিণে, উত্তরে কমছে তাপমাত্রা। পৌষের তৃতীয় সপ্তাহেই মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরুর আভাসও রয়েছে।
গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল তেঁতুলিয়ায় ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস; এসময় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ময়মনসিংহে ২৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এদিন কক্সবাজারে ১৯ মিলিমিটার, কুতুবদিয়ায় ১ মিলিমিটার ও টেকনাফে ৫১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রাতের তাপমাত্রা কমতে পেতে পারে এবং রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কোথাও কোথাও শৈত্য প্রবাহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
জানুয়ারির পূর্বাভাসের বিষয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ জানান, চলতি মাসে দেশের উত্তর, দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে তিনটি শৈত্য প্রবাহ বইতে পারে। এ মাসে উত্তর ও দক্ষিণ যা তীব্র শৈত্য প্রবাহে (৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস) রুপ নিতে পারে। এছাড়া দেশের উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে আরেকটি মাঝারি শৈত্য প্রবাহের (৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) আভাস থাকলেও, রাজধানী ঢাকায় শীতের দাপটের সম্ভাবনা ক্ষীণ। এছাড়া দেশের অন্যত্র ১ থেকে ২টি মৃদু (৮-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) শৈত্য প্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
জানুয়ারি মাসে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে এবং নদ-নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে।
এবার অক্টোবর মাস থেকেই শীত আসি আসি করেও আসেনি। নভেম্বরে শীতের বাতাস উত্তর ভারত পর্যন্ত পৌছালে, ঘূর্ণিঝড় অক্ষির দাপটে বাংলাদেশে ঢুকতে পারেনি। ডিসেম্বরের শুরতে বঙ্গোপসাগারে সৃষ্টি নিম্নচাপের বাতাসের কাছে মার খায় উত্তরের হাওয়া। গত দুই বছর শীতকালে ছিল অগ্রাহায়ণের তাপ। এবারও শীত ফাঁকি দেবে কী না, শঙ্কা রয়েছে শীত প্রেমীদের মনে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস ছিল, ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে এক দুই ডিগ্রি কম থাকবে। কিন্তু তা ফলেনি। গত শনিবার ও রবিবার দক্ষিণে উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিতে বাতাসে জলীয়বাষ্প কমে গেছে। এবার শীতের হাওয়ার বিস্তার ঘটবে বলে আভাস দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। শৈত্য প্রবাহগুলোর স্থায়িত্ব হতে পারে তিন থেকে চার দিন।
আবহাওয়াবিদ শামীম হাসান ভূঁইয়া জানান, ডিসেম্বরের শুরুতে নিম্নচাপের পরও বাতাসের প্রচুর জলীয়বাষ্প রয়ে যায়। এ কারণে তাপমাত্রা কমতে পারেনি। গত সপ্তাহ ঘন কুয়াশার কারণে ঘণ কুয়াশার কারণে সড়ক ও আকাশ পথে যোগাযোগ চরমভাবে ব্যহত হয়। কুয়াশা থাকলেও শীত পড়েনি। এর কারণ হিসেবে শামীম হাসান ভূঁইয়া বলেন, ‘জেড প্রবাহ’ দুর্বল থাকলে, বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরের জলীয় বাষ্প কুয়াশায় রুপ নেয়।
ঢাকায় শেষ কনকনে শীতের দেখা মিলেছিল ২০১৩ সালে। ওই বছরের ৯ জানুয়ারি সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৭ দশমিক ২ ডিগ্রি। সেবার উত্তরবঙ্গে ৪৫ বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। ওই শেষ। এরপর ঢাকায় আর ১০ ডিগ্রির নীচে নামেনি পারদ।
জলীয় বাষ্পের কারণ সম্পর্কে আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসেবে বলা হয়েছে, ডিসেম্বরে স্বাভাবিকের তুলনায় ৩৮৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। সিলেট বিভাগের মাসের গড় বৃষ্টিপাতের তুলনায় ৯৪৯ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। রংপুরে আবার এক ফোঁটাও বৃষ্টি হয়নি। অন্য ছয় বিভাগে গড় বৃষ্টিপাতের চেয়ে ২৫০ থেকে ৬০০ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। গত ৩০ নভেম্বর সৃষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে ১১ ডিসেম্বর নিম্নচাপে রুপ নিয়ে নিঃশেষ হয়।
শীতের দাপট না থাকার কারণ সম্পর্কে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, ডিসেম্বর মাসে বায়ুমন্ডলের নিম্নস্তরে জলীয় বাষ্পের জোগান বেশি থাকায় মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়; কোথাও কোথাও তা দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক শামসুদ্দীন আহমেদ জানিয়েছেন, বাংলাদেশে শীত বাড়ে বায়ুমন্ডলের ‘জেড প্রবাহ’ শক্তিশালী হলে। এবার এখনও শক্তিশালী হয়নি। শিগগির হবার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বায়ুমণ্ডলের উচ্চস্তরকে ‘জেড প্রবাহ’ বলে। সাইবেরিয়া থেকে আসা শীতল হাওয়া হিমালয় ছুঁয়ে আরো শীতল হলে এই স্তর দিয়ে বাংলাদেশের ওপর দিকে অস্ট্রেলিয়ার দিকে যায়। ‘জেড প্রবাহ’ জোরদার হলে তাকে শৈত্য প্রবাহ বলে। এর প্রভাবে তাপামাত্রা ১০ ডিগ্রির নীচে নেমে আসে।
দেশে মধ্যাঞ্চলে মাঝারি (৬ থেকে ৮ ডিগ্রি) থেকে মৃদু (৮ থেকে ১০ ডিগ্রি) শৈত্য প্রবাহের আভাস থাকলেও, ঢাকা শহরে তার কতটা প্রভাব পড়বে তেমন সম্ভাবনা ক্ষীণ।
এর কারণ হিসেবে শামীম হাসান ভূঁইয়া বলেন, সারাদেশে ঘন কুয়াশা থাকলেও, ঢাকা শহরে নেই। কারণ শহরে কংক্রিটের ভবনের আধিক্য। সারাদিনের রোদে ভবনগুলো ভবনগুলো তাপ শোষণ করে। সন্ধ্যায় নিঃসরণ করে। তাই কুয়াশা নেই। একই কারণে শীতও বাড়তে পারে না। বাড়ি ও গাড়িতে সৃষ্ট তাপের কারণে পারদ নামতে পারে না ঢাকায়।
গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি। কিন্তু ৫০ কিলোমিটার দূরের শহর টাঙ্গাইলে তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৪। রাজধানীবাসীকে হাড় কাঁপানো শীত উপভোগ করতে হলে উত্তরে যেতে হবে।
দেশের তিনটি আভাস উত্তর-দক্ষিণ মধ্যাঞ্চলে শৈত্য প্রবাহের 2018-01-03