Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / পদ্মা রেলসেতুর পিলারের নিচের মাটি অপসারণে পরিবেশগত সুফল মিলবে: সেতুমন্ত্রী

পদ্মা রেলসেতুর পিলারের নিচের মাটি অপসারণে পরিবেশগত সুফল মিলবে: সেতুমন্ত্রী

এমএনএ প্রতিবেদক

ঢাকার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংলাপে সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, সমীক্ষা অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পদ্মা রেলসেতুর পিলারের আশপাশে নির্মাণকাজের সময় ভরাট করা মাটি অপসারণ করলে পরিবেশগত ও নৌপথ ব্যবস্থাপনার দিক থেকে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ তিনি এ কথা বলেন।

সম্প্রতি ফতুল্লায় পদ্মা রেলসেতুর একটি পিলারের নিচের অংশ থেকে মাটি কাটার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর আগে মঙ্গলবার (১৬ জুন) মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, সেখানে মাটি কাটার কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

সংলাপে মন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন, বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণের সময় প্রকল্প বাস্তবায়নের সুবিধার্থে অনেক ক্ষেত্রে অস্থায়ীভাবে মাটি ভরাট, চলাচলের রাস্তা নির্মাণ কিংবা অন্যান্য সহায়ক কাঠামো তৈরি করতে হয়। সেতু নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার পর এসব অস্থায়ী ব্যবস্থা অপসারণ করা চুক্তিরই অংশ।

তিনি বলেন, পদ্মা রেলসেতুর ক্ষেত্রে নির্মাণকাজের সুবিধার্থে যে মাটি ভরাট করা হয়েছিল, সেতুর কাজ শেষ হওয়ার পর তা সরিয়ে নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার নির্ধারিত সময়ে সেই কাজ সম্পন্ন করেননি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে মাটি সেখানে রয়ে যায় এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা শক্ত হয়ে ঘাসে আচ্ছাদিত হওয়ায় স্বাভাবিক ভূমির অংশ বলে মনে হতে শুরু করে।

মন্ত্রী জানান, প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) অনুযায়ী ওই মাটি স্থায়ীভাবে থাকার কথা নয়। বরং তা অপসারণ করা হলে পানি প্রবাহ, নৌযান চলাচল এবং আশপাশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় সুবিধা হবে। বিশেষ করে বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে এটি সহায়ক হবে।

তিনি আরও বলেন, অনেকের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে যে পিলারের নিচ থেকে মাটি সরিয়ে নেওয়ায় সেতুর ভিত্তি ঝুঁকির মুখে পড়বে। তবে প্রকৌশলগতভাবে পিলারের স্থায়িত্বের সঙ্গে ওই ভরাট মাটির কোনো সম্পর্ক নেই। সেতুর কাঠামো স্বাধীনভাবে নির্মিত এবং মাটি অপসারণে এর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা নেই।

মন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমে বিষয়টি আলোচনায় আসার পর সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হয়েছে। তাদের মতামত অনুযায়ী, মাটি অপসারণের মাধ্যমে প্রকল্পের মূল নকশা ও সমীক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, সেতু চালুর পরপরই যদি মাটি সরিয়ে ফেলা হতো, তাহলে বর্তমান বিতর্কের সৃষ্টি হতো না। দীর্ঘদিন পরে কাজটি শুরু হওয়ায় অনেকের মনে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে ব্যক্তিস্বার্থে বা মাটি বিক্রির উদ্দেশ্যে এটি করা হচ্ছে। বাস্তবে এটি সেতু নির্মাণ প্রকল্পের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং পূর্বনির্ধারিত চুক্তির আওতাভুক্ত কাজ বলেই তিনি দাবি করেন।

x

Check Also

বগুড়ার উন্নয়ন নিয়ে যখন কাজ শুরু করেছি, তখন নানামুখী ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

বগুড়া প্রতিনিধি বগুড়া জেলা গত ২০ বছর উন্নয়ন বঞ্চিত ছিল। এখন এই বগুড়ার উন্নয়ন নিয়ে ...