Don't Miss
Home / অর্থনীতি / বিশ্ববাজারে কমতে শুরু করেছে জ্বালানি তেলের দাম
তেল

বিশ্ববাজারে কমতে শুরু করেছে জ্বালানি তেলের দাম

এমএনএ অর্থনীতি ডেস্ক : দফায় দফায় বাড়ার পর গত সপ্তাহে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। সে সঙ্গে কমেছে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম। গত এক সপ্তাহে অপরিশোধিত তেল এবং ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম কমেছে প্রায় ১ শতাংশ। হিটিং অয়েলের দাম কমেছে ২ শতাংশের ওপরে। প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম কমেছে প্রায় সাড়ে ১৩ শতাংশ।

গেল এক সপ্তাহে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমার প্রবণতা দেখা গেল। গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম দশমিক ৯০ ডলার কমে ৮০ দশমিক ৬৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এতে সপ্তাহের ব্যবধানে অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে দশমিক ৭৩ শতাংশ। তবে মাসের ব্যবধানে অপরিশোধিত তেলের দাম এখনও দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি। আর বছরের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এখন ৬৬ দশমিক ২৮ শতাংশ বেশি।

অপরিশোধিত তেলের পাশাপাশি ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দামও গত সপ্তাহ কিছুটা কমেছে। গেল সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দশমিক ৭৩ ডলার কমে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম দাঁড়িয়েছে ৮২ দশমিক ১৪ ডলার। এতে গত এক সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম কমেছে দশমিক ৭৩ শতাংশ। আর মাসের ব্যবধানে কমেছে ১ দশমিক ২৫ শতাংশ। তবে বছরের ব্যবধানে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম এখনও ৫৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেশি।

অপরদিকে গত এক সপ্তাহে ২ দশমিক ১১ শতাংশ কমে প্রতি গ্যালন হিটিং অয়েলের দাম ২ দশমিক ৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর মাধ্যমে মাসের ব্যবধানে হিটিং অয়েলের দাম কমেছে ৪ দশমকি ৬৬ শতাংশ। তবে বছরের ব্যবধানে হিটিং অয়েলের দাম এখনও ৬১ দশমিক ৯৭ শতাংশ বেশি।

রেকর্ড এই দরপতনের পরই অবশ্য তেলের দাম বাড়তে থাকে। এতে রেকর্ড দরপতনের ধকল সামলে গত বছরের বেশিরভাগ সময় প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ৪০ ডলারের আশপাশে ঘুরপাক খাচ্ছিল।

কিন্তু বিশ্বজুড়ে মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়া এবং লিবিয়ার তেল উত্তোলন বৃদ্ধি পাওয়ায় মাঝে বিশ্ববাজারে তেলের বড় দরপতন হয়। গত বছরের অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে অপরিশোধিত ও ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ কমে যায়।

তবে এ পতনের ধকল কাটিয়ে গত বছরের নভেম্বর থেকে আবার তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। অবশ্য প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ৫০ ডলারের নিচে থেকেই ২০২০ সাল শেষ হয়।
আর চলতি বছরের শুরুতে তেলের দামের এ বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যায়। কয়েক দফা দাম বেড়ে করোনার মধ্যে প্রথমবার চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ৬০ ডলারে উঠে আসে। এর মাধ্যমে মহামারি শুরু হওয়ার আগের দামে ফিরে যায় অপরিশোধিত তেল।

আর ২০১৮ সালের অক্টোবরের পর গত জুনে করোনার প্রকোপের মধ্যে প্রথমবারের মতো অপরিশোধিত তেলের ব্যারেল ৭৫ ডলারে উঠে আসে। আর অক্টোবরে এসে তেলের দাম বৃদ্ধির পালে নতুন করে যেন হাওয়া লাগে। এতে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে এসে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ৮৪ ডলার ছাড়িয়ে যায়। এর মাধ্যমে সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে উঠে আসে তেলের দাম।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ার প্রেক্ষিতে গত ৩ নভেম্বর দেশের বাজারে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বাড়ায় সরকার। ওইদিন রাতে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ১৫ টাকা করে বাড়িয়ে বিজ্ঞপ্তি দেয় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

এদিকে জ্বালানি তেলের পাশাপাশি গেল এক সপ্তাহে বিশ্ববাজারে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও কমেছে। গত এক সপ্তাহে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম কমেছে ১৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এতে মাসের ব্যবধানে প্রকৃতিক গ্যাসের দাম কমেছে ১৪ দশমিক ৬০ শতাংশ। তবে এরপরও বছরের ব্যবধানে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম এখনও ৮৮ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ বেশি।

x

Check Also

দুবাইয়ে গ্রেফতার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ: দেশে ফেরাতে শুরু হচ্ছে আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া

বিশেষ প্রতিবেদক বাংলাদেশের সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে গ্রেফতার ...