Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / ভারতকে হোয়াইটওয়াশ করল নিউজিল্যান্ড

ভারতকে হোয়াইটওয়াশ করল নিউজিল্যান্ড

এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : টি-২০ সিরিজে ভারতের কাছে হোয়াইটওয়াশ হবার পর এবার দুর্দান্ত এক প্রতিশোধ নিলো নিউজিল্যান্ড। ব্লাক ক্যাপার্সরা ভারতকে হোয়াইটওয়াশ করে জিতে নিলো ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ।

গত ছয় বছরে ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশের তেতো স্বাদ পায়নি ভারত। তবে অবশেষে অদম্য এই টিম ইন্ডিয়াকে সেই লজ্জা দিল নিউজিল্যান্ড। ঘরের মাঠে তিন ম্যাচ সিরিজের তৃতীয় ও শেষটিতে ৫ উইকেটে জিতে সফরকারীদের ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশই করল কিউইরা।

শেষ ম্যাচে ভারতের দেয়া ২৯৬ রানের টার্গেট তাড়া করে মাত্র ৫ উইকেট হারিয়ে প্রায় তিন ওভার হাতে নিয়ে বিজয় অর্জন করে নিলো নিউজিল্যান্ড। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৮০ রান করেন নিকোলাস। তার ওপেনিং পার্টনার মার্টিন গাপ্টিল করেন ৬৬ রান। ওপেনারদের স্বল্প বল খরচে করা এই সংগ্রহের উপর ভিত্তি করে অনায়াসে জিতে যায় কিউইরা। ভারতের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট শিকার করেন যুবেন্দ্র চাহেল।

এদিকে কেএল রাহুলের সেঞ্চুরির ওপর ভর করে ২৯৬ রানের টার্গেট দেয় ভারত। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ চার উইকেট শিকার করেন হামিশ বেনেট।

সর্বশেষ ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল ভারত। বৃষ্টির কারণে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডে পরিত্যক্ত হয়েছিল। তবে ১৯৮৮/৮৯ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৫ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের সবকটিতেই হেরেছিল ভারত। এ হিসেবে মতে, প্রায় ৩২ বছর পর ৫০ ওভারের ক্রিকেটে হোয়াইটওয়াশ হলো ভারত।

অথচ ভারত এবারের নিউজিল্যান্ড সফর কি দুর্দান্তভাবই না শুরু করেছিল। কিউইদের পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টিতে ৫-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছিল বিরাট কোহলিবাহিনী। তবে ওয়ানডেতে এসে লজ্জাই পেতে হলো।

আগেই সিরিজ নিশ্চিত করা স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে মাঠে নামে। যেখানে প্রথম ব্যাট করা ভারত ফর্মে থাকা লোকেশ রাহুলের সেঞ্চুরিতে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৯৬ রান করে। জবাবে ১৭ বল বাকি থাকতে ৫ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় কিউইরা।

২৯৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে ঝড়ো শুরু করেন নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার মার্টিন গাপটিল ও হেনরি নিকোলস। ১৬.৩ ওভারে ১০৬ রানের জুটি গড়েন তারা। ৪৬ বলে ৬টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৬৬ করে যুজভেন্দ্র চাহালের বলে বোল্ড হন মার্টিন গাপটিল।

দলে ফেরা অধিনায়ক উইলিয়ামসনকে নিয়ে অর্ধশত রানের জুটি গড়েন আরেক ওপেনার হেনরি নিকোলস। ৩০ রানের মধ্যে উইলিয়ামসন, রস টেইলর ও নিকোলসকে হারিয়ে চাপে পাড়ে যায় কিউরা।

ম্যাচ সেরা নিকোলসের ব্যাট থেকে আসে দলীয় সর্বোচ্চ ৮০ রান। ১০৩ বলে তিনি ৯টি চারের মার মারেন। উইলিয়ামসন-টেইলর পারেননি ইনিংস বড় করতে। এক করে ছক্কা ও চারে ১৯ করে থামেন জেমস নিশাম।

তবে ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে টম ল্যাথাম ও কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম ৮০ রান করে দলের জয় সহজ করেন। ২২০ রানে ৫ উইকেট হারানো নিউজিল্যান্ড আর কোনো ক্ষতি ছাড়াই লক্ষ্য পৌঁছায় টম ল্যাথাম ও কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের দৃঢ়তায়। এসেই পাল্টা আক্রমণ শুরু করা ডি গ্র্যান্ডহোম ২১ বলে তুলে নেন ফিফটি। কিপার-ব্যাটসম্যান টম ল্যাথামকে নিয়ে ৪৮ বলে গড়েন অবিচ্ছিন্ন ৮০ রানের জুটি।

বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যাওয়া অলরাউন্ডার ডি গ্র্যান্ডহোম ২৮ বলে ছয় চার ও তিন ছক্কায় করেন ৫৮ রান। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ৩৪ বলে ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন ল্যাথাম।

ভারতীয় বোলারদের মধ্যে চাহাল ৪৭ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ভারতের সেরা বোলার। যেন ঝড় বয়ে গেছে শার্দুলের ঠাকুরের ওপর দিয়ে। ৯ ওভার ১ বলে ৮৭ রান দিয়ে পেয়েছেন ১ উইকেট এবং অজয় জাদেজা ১০ ওভার বল করে ৪৫ রান দিয়ে পেয়েছেন ১ উইকেট।

৫০ রান দিয়ে উইকেটশূন্য জাসপ্রিত বুমরাহ। পুরো সিরিজেই কোনো উইকেট পাননি এই পেসার। চোট কাটিয়ে দলে ফেরার পর সবশেষ ছয় ওয়ানডেতে নিয়েছেন কেবল এক উইকেট।

টস হেরে এর আগে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ড বোলারদের সামনে নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট হারাতে থাকে ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৬২ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় ভারত। অভিষেক ওয়ানডে সিরিজের তিন ম্যাচেই ব্যর্থ মায়াঙ্ক আগারওয়াল।

থিতু হওয়ার আগেই সবচেয়ে বড় হুমকি বিরাট কোহলিকে থামান হামিশ বেনেট। ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন জাগিয়ে রান আউট হয়ে ফিরেন পৃথ্বী শ।

মাঝে অবশ্য রাহুল দুটি ভিন্ন জুটিতে শত রান তুলে দলকে উদ্ধার করেন। সেই সঙ্গে তুলে নেন ক্যারিয়ারের চতুর্থ ওয়ানডে সেঞ্চুরি। তিনি শেষ পর্যন্ত ১১৩ বলে ৯টি চার ও দুটি ছক্কায় ১১২ করে হামিশ বেনেটের বলে বিদায় নেন। তার সঙ্গে ১০০ রানের জুটি গড়া শ্রেয়াস আইয়ার ৯ চারে করেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬২ বলে ৬৩ রান। কেদার যাদবের পরিবর্তে দলে ফেরা মনিশ পান্ডে রাহুলের সঙ্গে উপহার দেন ১০৭ রানের জুটি।

শেষ দিকে বেনেটের দারুণ বোলিংয়ে তিনশ পেরুতে পারেনি ভারত।

টানা দুই বলে রাহুল ও মনিশকে ফেরান বেনেট। প্রথম ম্যাচে অপরাজিত ৮৮ রান করা রাহুল এবার তুলে নেন ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি। লং অফে ক্যাচ দেওয়া রাহুল ১১৩ বলে ৯ চার ও ২ ছক্কায় করেন ১১২ রান। মনিশ করেন ৪৮ বলে ৪২।

কিউই বোলার বেনেট একাই ৪ উইকেট দখল করেন। কাইল জেমিসন ও জিমি নিশাম একটি করে উইকেট পান।

ম্যাচ সেরা নিকোলস হলেও, পুরো সিরিজে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে সিরিজ সেরার পুরস্কার পান কিউই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান রস টেইলর।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

ভারত : ৫০ ওভারে ২৯৬/৭ (পৃথ্বী ৪০, মায়াঙ্ক ১, কোহলি ৯, শ্রেয়াস ৬২, রাহুল ১১২, মনিশ ৪২, জাদেজা ৮*, শার্দুল ৭, সাইনি ৮*; সাউদি ৯-০-৫৯-০, জেমিসন ১০-০-৫৩-১, বেনেট ১০-১-৬৪-৪, ডি গ্র্যান্ডহোম ৩-০-১০-০, স্যান্টনার ১০-০-৫৯-০)

নিউজিল্যান্ড : ৪৭.১ ওভারে ৩০০/৫ (গাপটিল ৬৬, নিকোলস ৮০, উইলিয়ামসন ২২, টেইলর ১২, ল্যাথাম ৩২*, নিশাম ১৯, ডি গ্র্যান্ডহোম ৫৮*; বুমরাহ ১০-০-৫০-০, সাইনি ৮-০-৬৮-০, চেহেল ১০-১-৪৭-৩, শার্দুল ৯.১-০-৮৭-১, জাদেজা ১০-০-৪৫-১)

ফল : নিউজিল্যান্ড ৫ উইকেটে জয়ী

সিরিজ : ৩ ম্যাচ সিরিজে নিউ জিল্যান্ড ৩-০ তে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ : হেনরি নিকোলস।

x

Check Also

সক্ষমতা

জেলা-উপজেলা হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকারঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

এমএনএ জাতীয় ডেস্কঃ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় ...