এমএনএ প্রতিবেদক
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের গণমাধ্যমের একটি বড় অংশ এখন আর প্রকৃত অর্থে মিডিয়া হিসেবে কাজ করছে না; বরং বিভিন্ন ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিতে পরিণত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে ক্ষমতাসীনদের প্রতি অতিরিক্ত তোষামোদ ও চাটুকারিতার কারণে গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রোববার (১৪ জুন) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব-এ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-কে স্মরণে আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রেসক্লাব সভাপতি হাসান হাফিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রেসক্লাব সাধারণসম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়াসহ বিভিন্ন রাজনীতিক ও সাংবাদিকবৃন্দ।
মির্জা ফখরুল বলেন, জিয়াউর রহমান গণতন্ত্রকে দেশের জন্য সবচেয়ে কার্যকর শাসনব্যবস্থা হিসেবে বিশ্বাস করতেন। তাঁর মতে, জিয়া এমন একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেছিলেন, যা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা রেজিমেন্টের প্রতিনিধিত্ব করে না; বরং দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা একটি উদারপন্থী গণতান্ত্রিক দল।
তিনি বলেন, “বিএনপি একটি সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। এটি কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর দল নয়, বরং দেশের সাধারণ মানুষের দল।”
অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় জিয়াউর রহমানের ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ ছিল মানুষের তৈরি একটি বিপর্যয়। তিনি দাবি করেন, তৎকালীন সরকারের ব্যর্থতা ও দুর্বল নীতির কারণেই ওই দুর্ভিক্ষ সংঘটিত হয়েছিল, যাতে বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিকাশে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ রাইস রিসার্চ ইনস্টিটিউট, জুট রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং সুগারক্যান রিসার্চ ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সম্প্রসারণে জিয়ার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধিতে কাজ করেছেন। জাতিসংঘের বিভিন্ন ফোরামে দেশের অবস্থান সুদৃঢ় করা এবং শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা অনুধাবনে তাঁর দূরদর্শিতা ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বক্তব্যের একপর্যায়ে গণমাধ্যমের বর্তমান ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “মিডিয়া এখন আর মিডিয়া নেই, এটি বিজনেস হাউজের প্রতিনিধি হয়ে গেছে। চাটুকারিতা কাকে বলে, তা এখন মিডিয়ার কিছু অংশকে দেখলেই বোঝা যায়।”
তিনি দাবি করেন, বিগত সরকারের আমলে গণমাধ্যমের একটি অংশ ক্ষমতাসীনদের প্রতি অতিরিক্ত অনুগত আচরণ করেছে। তবে বর্তমানে সাংবাদিকরা সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “আপনারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। এখন সেই অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে হবে। গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
আলোচনা সভায় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক জীবন, রাষ্ট্র পরিচালনা এবং দেশের উন্নয়নে তাঁর অবদান তুলে ধরা হয়।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক
