Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস

আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস

মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী (এমএনএ) : আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। আদি নাম আন্তর্জাতিক কর্মজীবী নারী দিবস। প্রতি বছর ৮ মার্চ তারিখে পালিত হয়। বিশ্বব্যাপী নারীরা একটি প্রধান উপলক্ষ্য হিসেবে এই দিবস উদযাপন করে থাকেন।

নারীর প্রতি সম্মান জানিয়ে ও তাদের সমঅধিকার আদায়ের লক্ষ্যে প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী দিনটি পালন করা হয়।

বিশ্বের একেক প্রান্তে নারী দিবস পালনের প্রধান লক্ষ্য একেক রকম। কোথাও নারীর প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জানানো দিনটি পালনের মুখ্য বিষয় হয়। আবার কোথাও নারীর আর্থিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠার বিষয় বেশি গুরুত্ব পায়।

International-Womens-Day-1

অনেক দেশে ৮ মার্চ নারীর সম্মানে সরকারি ছুটিও থাকে। বাংলাদেশেও দিবসটি যথাযথভাবে পালন করা হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় ‘অধিকার মর্যাদায় নারী-পুরুষ সমানে সমান’।

২০১৫ সালে নারী দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘নারীর ক্ষমতায়ন ও মাবতার উন্নয়ন’, ২০১৪ সালে ছিল ‘নারীর সমান অধিকার সকলের অগ্রগতির নিশ্চয়তা’ এবং ২০১৩ সালে প্রতিপাদ্য ছিল ‘নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার এখনই সময়’।

দিবসটি পালনের পেছনে রয়েছে নারী শ্রমিকের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ইতিহাস। মানুষ হিসেবে একজন নারীর পরিপূর্ণ অধিকারের দাবিতে সুদীর্ঘকালের আন্দোলনের সম্মানস্বরূপ পালিত হচ্ছে নারী দিবস।

১৮৫৭ সালে মজুরি বৈষম্য, কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, কাজের অমানবিক পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের রাস্তায় নেমেছিলেন সুতা কারখানার নারী শ্রমিকরা। সেই মিছিলে চালানো হয় সরকারি বাহিনীর দমন-পীড়ন।

International-Womens-Day-3

যুক্তরাষ্ট্রে নারী শ্রমিকদের অবস্থা ছিল খুবই করুণ। সমমর্যাদা তো দূরের কথা, পুরুষদের সমান কাজ করলেও তাদের মজুরি দেওয়া হতো খুবই কম। এ নিয়ে নারী শ্রমিকদের মধ্যে বিক্ষোভ দানা বাধতে থাকে। ১৯০৮ সালে ১৫ হাজার নারী নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা, ভাল বেতন এবং ভোটের অধিকারের দাবিতে রাস্তায় নামেন।

১৯০৮ সালে নিউইয়র্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে নারী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। জার্মানির সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির নারী নেত্রী ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন হয়। ক্লারা ছিলেন জার্মান রাজনীতিবিদ; জার্মান কমিউনিস্ট পার্টির স্থপতিদের একজন।

যুক্তরাষ্ট্রের সমাজতান্ত্রিক পার্টি ১৯০৯ সালে প্রথম দেশটিতে জাতীয়ভাবে নারী দিবস পালন করে। তবে দিনটি ছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি।

এরপর ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। এ সম্মেলনে ক্লারা জেটকিন প্রতি বছর ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেন।

International-Womens-Day-2

তিনি মনে করতেন, সকল দেশেই দিবসটি পালন করা প্রয়োজন, যাতে সেই দিনে একযোগে সারা বিশ্বে নারীরা তাদের অধিকারের কথা বলতে পারেন।

১৭টি দেশের ১০০ জনেরও অধিক নারী প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন ওই সভায়। তারা সবাই গেটকিনের প্রস্তাব সমর্থন করেন।

সম্মেলনে সিদ্ধান্ত হয়, ১৯১১ খ্রিস্টাব্দ থেকে নারীদের সম-অধিকার দিবস হিসেবে দিনটি পালিত হবে।

দিবসটি পালনে এগিয়ে আসেন বিভিন্ন দেশের সমাজতন্ত্রীরা। ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে বেশ কয়েকটি দেশে ৮ মার্চ পালিত হয়।

১৯৭৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মত ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করে। এরপর ১৯৭৭ সালের ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস আরও বড় পরিসরে বিশ্বব্যাপী উৎযাপিত হয়, যখন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ তার সকল সদস্য দেশকে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্ব শান্তির লক্ষ্যে দিবসটি পালনের আহ্বান জানায়।

বাংলাদেশেও ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার লাভের আগে থেকেই দিবসটি পালিত হচ্ছে। ১৯৭৫ সালে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এরপর থেকে পৃথিবী জুড়েই ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হচ্ছে। সূত্র: উইকিপিডিয়া, টেলিগ্রাফ, জাতিসংঘের ওয়েবসাইট।

x

Check Also

২০২৭ থেকে ৪র্থ ও ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে চার নতুন বই, জিপিএতে নম্বর যোগ না হলেও পাস বাধ্যতামূলক

শিক্ষাঙ্গন প্রতিবেদক শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেবে, মূল্যায়নের মুখোমুখিও হবে; তবে সেই নম্বর বার্ষিক ফলাফল বা ...