Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / আজ যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন – শুভ বড়দিন
বড়দিন

আজ যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন – শুভ বড়দিন

এমএনএ ফিচার ডেস্কঃ খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শুভ বড়দিন (ক্রিসমাস) আজ। বছর ঘুরে আবার এলো তাদের সবচেয়ে খুশির সেই দিন। আনন্দ-হাসি-গানে আজ প্রাণ মিলবে প্রাণে। গির্জায় গির্জায় হবে প্রার্থনা। মানবতার কল্যাণে যিশুখ্রিস্টের শান্তির বাণী ছড়িয়ে যাবে মানুষে মানুষে। আলোকসজ্জা, ক্রিসমাস ট্রি আর সান্তা ক্লজের উপহারে মেতে উঠবে শিশুরা। এদিকে শুভ বড়দিন উপলক্ষে রাস্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীসহ সকলের শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে পৃথক বাণী দিয়েছেন। দেশবাসীকে বড় দিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তারা।

দুই হাজার বছর আগে এ শুভ দিনেই জন্মগ্রহণ করেন খ্রিস্ট ধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিস্ট। বেথেলহেমের এক গোয়ালঘরে কুমারী মাতা মেরির কোলে জন্ম হয়েছিল তার। খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, মানবজাতিকে সত্য, সুন্দর ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করতে যিশুর জন্ম হয়। ‘ঈশ্বরের আগ্রহে ও অলৌকিক ক্ষমতায় মা মেরি কুমারী হওয়া সত্তে্বও গর্ভবতী হন।

ঈশ্বরের দূতের কথামতো শিশুটির নাম রাখা হয় যিশাস, বাংলায় বলা হয় ‘যিশু’। শিশুটি কোনো সাধারণ শিশু ছিল না। ঈশ্বর যাকে পাঠানোর কথা বলেছিলেন মানবজাতির মুক্তির জন্য। যিশু নামের সেই শিশুটি বড় হয়ে পাপের শৃঙ্খলে আবদ্ধ মানুষকে মুক্তির বাণী শোনান। তাই তার জš§দিনটিকে ধর্মীয় নানা আচার ও উৎসবের মধ্য দিয়ে উদযাপন করেন তারা। এটি তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। বিশ্বের নানা দেশের মতো আজ বাংলাদেশের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ও উদযাপন করবে এ উৎসব।

এদিকে বড়দিন উপলক্ষে রাস্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীসহ সকলের শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘ধর্মের মূল কথাই হচ্ছে মানুষ হিসেবে মানুষের সেবা করা। সব ধর্মই মানুষের কল্যাণের কথা বলে। তাই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। রাস্ট্রপতি বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীগণ মহামতি যিশু খ্রিস্টের জন্মদিনকে যথাযথ মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সাথে ‘বড়দিন’ হিসেবে উদ্যাপন করে থাকেন। খ্রিস্ট ধর্মানুসারে যিশু খ্রিস্ট ছিলেন সত্যান্বেষী, মানবজাতির মুক্তির দূত এবং আলোর দিশারী।

বাণীতে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রণীত আমাদের সংবিধানে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সমানাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি- ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। সকল শ্রেণি-পেশার জনগণের উন্নয়নই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। এলক্ষ্য অর্জনে আমরা সকল সম্প্রদায়ের মানুষের মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছি। বড়দিন উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি। অপরদিকে দিনটি উপলক্ষে অনেক খ্রিস্টান পরিবারে কেক তৈরি করা হবে, থাকবে বিশেষ খাবারের আয়োজন। এদিকে দেশের অনেক অঞ্চলে আয়োজন করা হয়েছে কীর্তনের পাশাপাশি ধর্মীয় গানের। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অনেকেই আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার জন্য বড়দিনকে বেছে নেন। পরিবারের সদস্যদের সাথে আনন্দ ভাগ করে নিতে অনেকেই রাজধানী ছেড়ে গিয়েছেন গ্রামের বাড়িতে।

রাজধানীর তারকা হোটেলগুলোতে আলোক সজ্জার পাশাপাশি হোটেলের ভিতরে কৃত্রিমভাবে স্থাপন করা হয়েছে ক্রিসমাস ট্রি ও শান্তাক্লজ। বড়দিনের প্রাক্কালে গতকাল রবিবার রাত থেকে বিভিন্ন গির্জায় বিশেষ প্রার্থনাও অনুষ্ঠিত হয়। আর আজ সোমবার সকাল থেকে শুরু হবে বড়দিনের প্রার্থনা। বড়দিন উপলক্ষ্যে গির্জাগুলো সাজানো হয়েছে রঙিন বাতিতে। সকালে সেখানে বিশেষ প্রার্থনা দিয়ে দিনের শুরু হবে আজ। গির্জায় ধর্মীয় গান হবে। এছাড়া নানা আয়োজন করেছেন যিশুভক্তরা। ঘরে ঘরে জ্বালানো হয়েছে রঙিন আলো। সাজানো হয়েছে ক্রিসমাস ট্রি। যিশু গোয়ালঘরে জšে§ছিলেন বলে তার অনুসারীরা ঘরে ঘরে প্রতীকী গোশালা তৈরি করেছেন। পারিবারিক, সামাজিক ও ধর্মীয় মেলবন্ধনের এদিনে অনেকে বেড়াতে যাবেন আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে।

বড়দিনের উৎসব ঘিরে আনন্দমুখর আয়োজনে পিছিয়ে নেই ঢাকাসহ দেশের বড় বড় শহরের অভিজাত হোটেলগুলো। রঙিন বাতি, ফুল আর প্রতীকী ক্রিসমাস ট্রিতে সাজানো হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি। সংবাদপত্রগুলো দিনটিতে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ বেতার, সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন ও রেডিওতে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বিভিন্ন অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হচ্ছে।

অপরদিকে পাঁচ তারকা হোটেলে বড়দিনের আয়োজন, ‘জিঙ্গল বেলস জিঙ্গল বেলস, জিঙ্গল অল দ্য ওয়ে।’ গতকাল থেকে শুরু হয়েছে বড় দিনের উৎসব। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে রাজধানীর পাঁচ তারকা হোটেলগুলোতে প্রস্তুতি করে তুলে এই উৎসবের আমেজ।

প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও: হোটেলের পুলের পাশে বসেছে ‘ক্রিসমাস ব্রাঞ্চ পার্টি’। রয়েছে বিভিন্ন ফান রাইড ও ঘোড়ায় চড়া এবং ‘গেম’ খেলার সুযোগ, মিনি ট্রেন ভ্রমণ! মেরি গো রাউন্ড, সান্তা ক্লজের সঙ্গে সেলফি তোলার আয়োজন। মিলবে মিকি এবং মিনির সাক্ষাৎ। সঙ্গে আছে বিশেষ র্যাফেল-ড্র সহ উপভোগ্য আরও অনেক কিছু। সকাল নয়টা থেকে প্রবেশদ্বার খোলা থাকবে। টিকিটের দাম ৩ হাজার ৫০০ টাকা।

ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট: বড়দিনে ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে থাকছে বর্ণিল আয়োজন। হোটেলের প্রতিটি তলা বর্ণিল বাতি, সান্তা ক্লজ, ক্রিসমাস ট্রিতে সাজছে। হোটেলের রুফটপ গার্ডেন রেস্তোরাঁ ‘দ্য স্কাই লাইন’ এ শিশুদের জন্য রয়েছে কিডস কার্নিভ্যাল। বাচ্চাদের আনন্দ বাড়িয়ে দিতে নানান উপহার নিয়ে হাজির হবে সান্তা ক্লজ। রয়েছে টয় ট্রেন, বাউন্সিং হাউস, বল হাউস, ম্যাজিক শো, মূকাভিনয়, ক্যানডি ফ্লসসহ বিভিন্ন ধরনের খেলা। চলবে আজ ২৫ ডিসেম্বর সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। গতকাল ২৪ ডিসেম্বর ছিল এবং আজও ২৫ ডিসেম্বর থাকছে বিশেষ হ্যাপি ক্রিসমাস ইভ সেলিব্রেশন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলবে এই আয়োজন। এ ছাড়া ক্রিসমাস উপলক্ষে এখানে ৫ হাজার ৫৫০ টাকায় থাকছে বিশেষ বুফে ডিনারের আয়োজন।

র‌্যাডিসন ব্লু– ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন: র‌্যাডিসন বø– ওয়াটার গার্ডেনের টেরেসে বসেছে শিশুদের আসর ‘হলি-জলি কিডস ক্রিসমাস’। চলবে আজ দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। রয়েছে ম্যাজিক শো, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সান্তা ক্লজের উপহার। শিশুদের জন্য থাকছে হরেক রকম ফলের জুস, চিকেন পাফ, পপকর্ন ও আইসক্রিম। এখানে প্রবেশমূল্য ১ হাজার ৯০০ টাকা।

দ্য ওয়েস্টিন ঢাকা: গতকাল রবিবার থেকে আজ ২৫ ডিসেম্বর ওয়েস্টিনে ৮ হাজার ৪৫০ টাকায় থাকছে বিশেষ বুফে ডিনার। বলরুমে থাকছে শিশুদের জন্য নানা আয়োজন। বড়দিনের আয়োজনে এই হোটেল প্রবেশ করতে চাইলে দুই বছরের ঊর্ধ্বে সবার জন্য খরচ হবে ২ হাজার ৫০০ টাকা। হোটেলটির প্রতিটি রেস্টুরেন্টেই থাকছে ক্রিসমাসের বিশেষ বুফের ব্যবস্থা। এ জন্য খরচ হবে ৭ হাজার ৭৫০ টাকা।

ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা: পুরো হোটেলেই থাকছে উৎসবের আমেজে। ‘ক্যাফে সোশ্যাল ফর পিক-আপস’ শীর্ষক আয়োজনে থাকছে ক্রিসমাস কেক, রুটি, বাদাম, খেজুর, মিক্সড ড্রাই ফুড, কুকিজসহ মুখরোচক বিভিন্ন আইটেমে সাজানো উপহার। দাম পড়বে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। বড়দিনের এই আয়োজন শুরু হয়েছে আজ ২৫ ডিসেম্বর সকাল ১০টা থেকে, চলবে বেলা ২টা পর্যন্ত। দুই বছরের ঊর্ধ্বে সবার জন্য প্রবেশমূল্য ২ হাজার ৫০০ টাকা।

বড়দিনে মানতে হবে ডিএমপির ১৩ নির্দেশনা: বড়দিন উপলক্ষে প্রত্যেক গির্জায় স্থায়ীভাবে পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি পুলিশি টহল বৃদ্ধিসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন ও গোয়েন্দা কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি। ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক বার্তায় ১৩টি নিরাপত্তা নির্দেশনা দিয়ে এ কথা জানানো হয়। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

x

Check Also

নিজের শহর পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব নাগরিকদেরও, বগুড়ায় সিটি করপোরেশনের উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী

এমএনএ প্রতিবেদক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার বগুড়ায় একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বগুড়া সিটি করপোরেশনের ...