Don't Miss
Home / আইন আদালত / আসামি হলেও আইনি যোগ্যতা থাকলে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে আ’লীগ নেতারা: উপদেষ্টা জাহেদ, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত খোলার আশাবাদ

আসামি হলেও আইনি যোগ্যতা থাকলে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে আ’লীগ নেতারা: উপদেষ্টা জাহেদ, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত খোলার আশাবাদ

বিশেষ প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগের কোনো নেতা বা কর্মী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত বা মামলার আসামি হলেই নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার হারাবেন না। আইন অনুযায়ী নির্ধারিত যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ করতে পারলে যে কেউ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার, গণমাধ্যম কমিশন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য ও নারীদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা এবং সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সারওয়ার আলমের বদলি প্রসঙ্গসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।

আওয়ামী লীগের নেতারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন বর্তমানে নির্দলীয় ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি, জামায়াত, আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা নির্বাচনে অংশ নিলেও তাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।

তিনি বলেন, “কোনো রাজনৈতিক দলের পরিচয়, প্রতীক বা কর্মসূচি সামনে এনে প্রচারণা চালানোর সুযোগ নেই। আওয়ামী লীগের নেতা যেমন দলীয় পরিচয়ে নির্বাচন করতে পারবেন না, একইভাবে বিএনপি বা অন্য কোনো দলের নেতার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।”

নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সংক্রান্ত আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে কারা প্রার্থী হতে পারবেন। যাদের বিরুদ্ধে আইনি কোনো অযোগ্যতা নেই, তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।

তার ভাষায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচন মূলত রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের প্রশ্ন নয়; বরং এটি ব্যক্তির আইনগত যোগ্যতার বিষয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরের পর বাংলাদেশের জন্য দেশটির শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তথ্য উপদেষ্টা। এ বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি মূলত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। তবে সরকারের পর্যবেক্ষণে মনে হচ্ছে আলোচনায় শ্রমবাজারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে এসেছে।

“আমি খুব নিশ্চিতভাবে বলছি না, তবে ব্যক্তিগত কিছু পর্যবেক্ষণ ও আলোচনার ভিত্তিতে মনে হয়েছে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুব দ্রুতই বাংলাদেশের জন্য উন্মুক্ত হতে পারে। আমরা সে আশা করতেই পারি,” বলেন তিনি।

মালয়েশিয়া দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি কর্মীদের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার। ফলে শ্রমবাজার পুনরায় চালু হলে কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধিতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গণমাধ্যম কমিশন গঠনের বিষয়ে সরকার কোনো তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিতে চায় না বলেও জানান জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, পূর্বে গঠিত কমিশনের প্রতিবেদনকে সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তবে সেই প্রতিবেদনের সব সুপারিশের সঙ্গে সরকার শতভাগ একমত নয়।

“যোগ্য ব্যক্তিদের পরিশ্রমে তৈরি ওই প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ অনেক সুপারিশ রয়েছে। তবে রাজনৈতিক সরকার হিসেবে আমাদের নিজস্ব কিছু দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। একই সঙ্গে কিছু ঘাটতিও আমরা দেখতে পেয়েছি,” বলেন তিনি।

তার মতে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের পেশাদারিত্ব, নৈতিকতা এবং নারী, শিশু ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনা শেষে একটি কার্যকর ও স্বাধীন নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তোলা হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, কুৎসা ও মানহানিকর কনটেন্ট ছড়ানোর বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থান নিতে যাচ্ছে বলেও ইঙ্গিত দেন তথ্য উপদেষ্টা।

প্রধানমন্ত্রীর কন্যাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টের জেরে একজনকে গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কোনো ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠানের মতামতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। রাষ্ট্রের নিজস্ব তদন্ত ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া রয়েছে।

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কন্যা, কোনো সাধারণ নারী কিংবা সমাজের প্রান্তিক কোনো নারী—রাষ্ট্রের কাছে সবাই সমান অধিকারপ্রাপ্ত। সবার নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের।”

ডা. জাহেদ জানান, অনলাইনে নারীদের বিরুদ্ধে নোংরা ও বিদ্বেষমূলক প্রচারণা বন্ধে প্রধানমন্ত্রী নিজেও অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন। “নারী হওয়ার কারণে যেসব বীভৎস ও অবমাননাকর মন্তব্যের শিকার হতে হয়, সেগুলো আর সহ্য করা হবে না। এগুলোকে আমরা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করছি,” বলেন তিনি।

অনলাইনে অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর বিরুদ্ধে সরকার শিগগিরই দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, একটি বিশেষ আইনজীবী প্যানেল গঠনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এই প্যানেল প্রয়োজন হলে আইনি নোটিশ দেওয়া থেকে শুরু করে আদালতে মামলা পরিচালনাসহ প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে পারবে।

“ডিসইনফরমেশন বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপতথ্য একটি মারাত্মক অপরাধ। আমাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে জনগণ সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে পাবে,” বলেন তিনি।

সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের সাম্প্রতিক বদলি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে, সে বিষয়েও বক্তব্য দেন জাহেদ উর রহমান। কিছু মহল দাবি করছে, মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নেওয়ার কারণেই তাকে বদলি করা হয়েছে। তবে তথ্য উপদেষ্টা এ ধরনের ব্যাখ্যাকে অনুমাননির্ভর বলে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “একটি ঘটনার পরে আরেকটি ঘটনা ঘটেছে বলেই যে দুটির মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক আছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।” তার মতে, বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সরকারি সিদ্ধান্তকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে থাকে। তবে সরকারের অবস্থান ইতোমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার স্বচ্ছতায় বিশ্বাসী হলেও সব প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিস্তারিত ব্যাখ্যা সব সময় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। কিছু ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তার বিষয়ও থাকতে পারে। তিনি জনগণকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জল্পনা-কল্পনার পরিবর্তে সরকারি ও যাচাইকৃত তথ্যের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানান।

x

Check Also

রাজশাহীতে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ, শনাক্তদের দুই-তৃতীয়াংশ সমকামী

রাজশাহী প্রতিনিধি রাজশাহীতে নীরবে বাড়ছে এইচআইভি (এইচআইভি/এইডস) সংক্রমণ। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে ...