Don't Miss
Home / সম্পাদকীয় / ছাত্রলীগের নেতৃত্ব প্রকৃত শিক্ষার্থীদের হাতেই দেয়া উচিত ছিল

ছাত্রলীগের নেতৃত্ব প্রকৃত শিক্ষার্থীদের হাতেই দেয়া উচিত ছিল

সম্প্রতি ঘোষিত ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে চলছে নানা ধরণের সমালোচনা আর গুঞ্জন। ছাত্রলীগের মতো ঐতিহ্যবাহী একটি সংগঠনের নেতৃত্ব প্রকৃত শিক্ষার্থীদের হাতেই দেয়া উচিত ছিল বলে আমরা মনে করি।

ছাত্রলীগের ঘোষিত বর্তমান কমিটি নিয়ে বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। বলা হচ্ছে, কমিটিতে এমন অনেকে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ, মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে এবং এজন্য অতীতে তারা সংগঠন থেকে বহিষ্কৃতও হয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, এসব কারণে কারও কারও জেল-জরিমানাও হয়েছিল। এছাড়া নিয়মবহির্ভূতভাবে কমিটিতে অছাত্র, বিবাহিত ও কর্মজীবীদেরও রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছরের ২৬ ও ২৭ জুলাই ছাত্রলীগের ২৮তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এর প্রায় সাত মাস পর গত সোমবার রাতে সংগঠনটির ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সংগঠনের গঠনতন্ত্র লংঘন করার অভিযোগ উঠেছে। গঠনতন্ত্রে সহ-সভাপতি ৪১ জন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ১০ জন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ১০ জনসহ মোট ২৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি গঠনের কথা বলা হলেও এবার ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

Chatroleague 2

কমিটি গঠন নিয়ে এসব অভিযোগ এমন এক সময় উত্থাপিত হল, যখন দীর্ঘ ছয় দশকের ঐতিহ্যবাহী এ সংগঠনটির বিরুদ্ধে মানুষের অভিযোগের অন্ত নেই। দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বেপরোয়া আচরণের কারণে সৃষ্ট নানা অনভিপ্রেত ঘটনা প্রায়ই গণমাধ্যমে শিরোনাম হয়। অথচ বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন থেকে শুরু করে জাতির যে কোনো সংকট ও ক্রান্তিকালে বলিষ্ঠ ভূমিকা গ্রহণকারী সংগঠন হিসেবে ছাত্রলীগ একসময় অনন্য মর্যাদা ও জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছিল। পরবর্তীকালে কিছু নেতাকর্মীর কার্যকলাপ সংগঠনটির ললাটে এঁকে দিয়েছে কলংক চিহ্ন।

নতুন কমিটি গঠনের প্রাক্কালে নেতৃবৃন্দ এসব কথা বিস্মৃত হয়েছিলেন, এমনটি মনে করার কারণ নেই। ‘সুবিধাবাদী’ ও বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত নেতাকর্মীদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, ভবিষ্যৎ প্রতিদ্বন্দ্বী, জন্মস্থান ইত্যাদি বিবেচনায় নেয়া ছাড়াও সিন্ডিকেটের অশুভ ছায়া প্রভাব ফেলেছে বলেই মনে হয়। আমরা মনে করি, ছাত্র নামধারী সুযোগ সন্ধানীদের কমিটি থেকে, এমনকি সংগঠন থেকেও দূরে রাখাই শ্রেয়। মনে রাখতে হবে, দুর্জন সবসময় পরিত্যাজ্য। এ কথা বললে অত্যুক্তি করা হবে না, কমিটি তথা সংগঠনে দুর্জনের পুনর্বাসন ঘটার ফলেই বিরামহীন স্খলনের শিকার হয় ছাত্রলীগ। টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও শিক্ষাঙ্গনগুলোয় সন্ত্রাস সৃষ্টির পাশাপাশি অস্ত্র ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে সংগঠনের কিছু নেতাকর্মী। এ ধরনের নেতাকর্মীদের দুর্দমনীয়তা এতটাই প্রকট রূপ ধারণ করে যে, এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের ‘সাংগঠনিক প্রধানে’র পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

নতুন কমিটিতে নামের তালিকা দেখে মনে হয় না, নেতৃবৃন্দ অতীত থেকে কোনো শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। বিষয়টি দুঃখজনক। আমরা মনে করি, কেবল প্রকৃত শিক্ষার্থী ও মেধাবীদের হাতেই সংগঠনের নেতৃত্ব দেয়া উচিত। এ লক্ষ্যে নিয়মিত ছাত্র, মেধাবী, যোগ্য, দক্ষ ও জনপ্রিয়দের মধ্য থেকে নেতৃত্ব বাছাইয়ের কাজটি সম্পন্ন করা প্রয়োজন। ক্ষমতার বৃত্ত-বলয়ে থেকে ও নাম-ধাম ভাঙিয়ে সুবিধা আদায়কারীদের মুুখে যতই দলীয় আনুগত্য প্রকাশ পাক না কেন, এতে প্রকারান্তরে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশ ও দেশের মানুষ। বিষয়টি দলীয় নেতৃবৃন্দকে গুরুত্ব সহকারে ভাবতে হবে।

-সম্পাদক

x

Check Also

২০২১ গুরুত্বপূর্ণ একটি বছর

এমএনএ সম্পাদকীয় : হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনার মধ্য দিয়ে কেটে গেলো একটি বছর। শতাব্দির ভয়াবহ মহামারির কবলে ...