Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ, আসছে বিকেন্দ্রীকরণ ও নতুন পদোন্নতি কাঠামো

সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ, আসছে বিকেন্দ্রীকরণ ও নতুন পদোন্নতি কাঠামো

শিক্ষাঙ্গন প্রতিবেদক

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ, দীর্ঘসূত্রতা, জটিলতা ও অনিয়মের অভিযোগ থাকা বদলি প্রক্রিয়াকে এবার মাঠপর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন ও পদোন্নতির সুযোগ বাড়াতে নতুন কাঠামো নিয়েও কাজ এগিয়ে চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নতুন ব্যবস্থায় শিক্ষক বদলির আবেদন আর পুরোপুরি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নিষ্পত্তি হবে না। উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও সিটি করপোরেশন পর্যায়ে কমিটি গঠন করে স্থানীয় পর্যায়ে আবেদন যাচাই ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

নীতিমালা চূড়ান্ত হলে উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি কমিটি বদলির আবেদন যাচাই করবে। যাচাই-বাছাই শেষে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বদলির আদেশ জারি করবেন। একইভাবে জেলা, বিভাগীয় ও সিটি করপোরেশন পর্যায়েও পৃথক কমিটি কাজ করবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বদলি প্রক্রিয়াকে মাঠপর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে। কেন্দ্রীয়ভাবে সব আবেদন নিষ্পত্তির পরিবর্তে মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমে বিষয়টি পরিচালনার দিকে যাওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, বদলি ব্যবস্থার এই পরিবর্তন দ্রুত বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে। তবে শুধু বদলি নয়, শিক্ষকদের পদোন্নতি ও পেশাগত অগ্রগতির বিষয়টিও মন্ত্রণালয়ের আলোচনায় রয়েছে।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, অতীতে শিক্ষক বদলি ব্যবস্থা একটি বড় ধরনের সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছিল। এর ফলে শিক্ষার মান উন্নয়নেও বাধা তৈরি হয়েছিল। নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে বদলি ব্যবস্থাকে স্থানীয় পর্যায়ে বিকেন্দ্রীকরণ করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন ব্যবস্থা চালু হলে কয়েকটি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসতে পারে—  বদলির আবেদন নিষ্পত্তির সময় কমে আসতে পারে; স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ বাড়বে; কেন্দ্রীয় প্রশাসনের চাপ কমবে; ও দূরবর্তী এলাকায় কর্মরত শিক্ষকরা দ্রুত সিদ্ধান্ত পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

বিশেষ করে নারী শিক্ষক, পরিবার থেকে দূরে কর্মরত শিক্ষক এবং দুর্গম এলাকার শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সিদ্ধান্তের ক্ষমতা মাঠপর্যায়ে দিলেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। নতুন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং ডিজিটাল নজরদারি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বদলির পাশাপাশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পদোন্নতি কাঠামো নিয়েও কাজ এগিয়ে চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমান কাঠামোয় সহকারী শিক্ষক থেকে উচ্চতর পর্যায়ে যাওয়ার সুযোগ সীমিত হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ রয়েছে।

নতুন কাঠামোতে শিক্ষকদের জন্য একাধিক ধাপে পদোন্নতির সুযোগ তৈরির বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। সম্ভাব্য ব্যবস্থায় ভবিষ্যতে তিন ধাপ পর্যন্ত পেশাগত অগ্রগতির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

শিক্ষক নেতারা বলছেন, পদোন্নতি শুধু আর্থিক সুবিধার বিষয় নয়; এটি শিক্ষকদের পেশাগত স্বীকৃতি, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দায়িত্ববোধের সঙ্গে সম্পর্কিত।

প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক মু. মাহবুবুর রহমান বলেন, শিক্ষকদের জন্য বিস্তৃত পদোন্নতি কাঠামো অনেক আগেই প্রয়োজন ছিল। তবে চূড়ান্ত নীতিমালা প্রকাশের পরই পুরো বিষয়টির মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।

শিক্ষকদের একটি অংশ মনে করছেন, বদলি ব্যবস্থা স্থানীয় পর্যায়ে গেলে হয়রানি কমতে পারে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে শক্তিশালী পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবেদন প্রক্রিয়া ডিজিটাল করা, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত বাধ্যতামূলক করা এবং আপিলের সুযোগ রাখা হলে নতুন ব্যবস্থাটি কার্যকর হতে পারে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বদলি নীতিমালা চলতি সপ্তাহেই চূড়ান্ত হতে পারে। আর নিয়োগবিধি ও পদোন্নতি কাঠামোর সংস্কার নিয়ে কাজ চলমান রয়েছে।

x

Check Also

ইরান সংকট, হরমুজ প্রণালি ও সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আলোচনার মধ্যেই জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার (১৫ জুন) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় পৌঁছেছেন। সেখান থেকে তিনি ...