Don't Miss
Home / আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ / যানজট কমাতে বাস টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনার উদ্যোগ, ঢাকার বাইরে যাচ্ছে আন্তঃজেলা বাস সার্ভিস

যানজট কমাতে বাস টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনার উদ্যোগ, ঢাকার বাইরে যাচ্ছে আন্তঃজেলা বাস সার্ভিস

এমএনএ প্রতিবেদক

রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনে বাস টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ঢাকার প্রধান বাস টার্মিনালগুলোকে আরও সুশৃঙ্খল ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকার ভেতরে থাকা চারটি বড় আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল—মহাখালী, সায়েদাবাদ, ফুলবাড়িয়া ও গাবতলী থেকে ধাপে ধাপে আন্তঃজেলা বাস সার্ভিস সরিয়ে নেওয়া হবে। এ জন্য রাজধানীর বাইরে অস্থায়ী ও স্থায়ী বাস ডিপো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন নিয়ে অনুষ্ঠিত তৃতীয় উচ্চপর্যায়ের সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভাপতিত্ব করেন। এতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।

সভা শেষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলোকে পরিকল্পিত ও শৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার মধ্যে আনার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, ভবিষ্যতে ঢাকার ভেতর থেকে আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ করে শহরের বাইরের নির্ধারিত টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার বাস পরিচালনা করা হবে। তবে নগরীর অভ্যন্তরীণ বাস সার্ভিস চালু থাকবে।

তিনি আরও জানান, ধাপে ধাপে ঢাকার বাইরে নতুন টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। এর মাধ্যমে রাজধানীর সড়কে দীর্ঘ সময় ধরে বাস অবস্থান করার প্রবণতা কমবে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হবে।

মহাখালী টার্মিনাল থেকে চলাচলকারী বাসের জন্য পূর্বাচলে অস্থায়ী বাস ডিপোর স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়া টার্মিনালের বাসের জন্য কাঁচপুর এলাকায় বিকল্প জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, পূর্বাচলে অস্থায়ী ডিপো চালু হলে মহাখালী এলাকায় সড়ক দখল করে বাস রাখার সমস্যা কমবে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দুই সিটি করপোরেশন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।

এ ছাড়া গুলিস্তান বাস টার্মিনাল এলাকার ব্যবস্থাপনা উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হকারদের উচ্ছেদ না করে তাদের একটি নিয়ন্ত্রিত ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থার আওতায় আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, যাতে জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক থাকে এবং তাদের জীবিকাও ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, বৈঠকে পথচারীদের জন্য ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং হকারদের বিকল্প কর্মসংস্থানের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পে ইতোমধ্যে বিপুল বিনিয়োগ হয়েছে এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পর প্রকল্পটি বাতিল করা হলে তা নেতিবাচক বার্তা দেবে। তাই বিদ্যমান অবকাঠামোকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করে উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

ড. হাদিউজ্জামান জানান, বাস টার্মিনাল স্থানান্তর পরিকল্পনা নিয়ে বিকল্প প্রস্তাব আগামী সাত দিনের মধ্যে জমা দেওয়া হবে। এরপর বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে মহাখালী থেকে চলাচলকারী বাসগুলো পূর্বাচলের নির্ধারিত ডিপোতে রাখা হবে এবং যাত্রী ওঠানামার প্রয়োজন ছাড়া টার্মিনাল এলাকায় প্রবেশ করবে না। একই ব্যবস্থা সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়া টার্মিনালের ক্ষেত্রেও নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে শাহবাগ মোড়ে ট্রাফিক সিগন্যাল কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে এটি চালু হওয়ার কথা রয়েছে।

সরকার আশা করছে, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে ঢাকার যানজট কমবে, গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরবে এবং নগরবাসীর চলাচল আরও সহজ হবে।

x

Check Also

ইরান সংকট, হরমুজ প্রণালি ও সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আলোচনার মধ্যেই জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার (১৫ জুন) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় পৌঁছেছেন। সেখান থেকে তিনি ...