Don't Miss
Home / আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ / জেলা প্রশাসক সম্মেলন: তৃতীয় দিনে বহুমাত্রিক উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও সুশাসনে জোর

জেলা প্রশাসক সম্মেলন: তৃতীয় দিনে বহুমাত্রিক উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও সুশাসনে জোর

এমএনএ প্রতিবেদক

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ চলমান চার দিনব্যাপী জেলাপ্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন–২০২৬-এর তৃতীয় দিনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধিবেশনে উন্নয়ন, প্রশাসনিক সমন্বয়, জাতীয় নিরাপত্তা এবং সুশাসন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ সম্পর্কিত অধিবেশনে বরগুনায় আবহাওয়া অফিস স্থাপন, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে গার্বেজ পয়েন্ট স্থাপন এবং বিদ্যমান সিভিল-মিলিটারি সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে “হোল অব গভর্ণমেন্ট অ্যাপ্রোচ” অপরিহার্য। তিনি সিভিল প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রমকে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধিবেশনে তেলিয়াপাড়া চা বাগান বাংলোকে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে রূপান্তর, বিভাগীয় পর্যায়ে স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

স্থানীয় সরকার বিভাগ বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, আর্সেনিকমুক্ত পানি সরবরাহ, গ্রামীণ সড়ক নির্মাণে খাল খনন এবং রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম দ্রুত চালুর ওপর গুরুত্ব দেয়।

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ জেলাভিত্তিক সমবায় ডেটাবেজ তৈরি এবং সমবায় সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের ওপর জোর দেয়।

অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, আগামী এক বছরের মধ্যে সব ধাপের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “স্থানীয় সরকার শক্তিশালী হলে রাষ্ট্রও শক্তিশালী হবে।”

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আলোচনায় জেলাভিত্তিক সমন্বিত সরকারি ভবন নির্মাণ, অফিসার্স ডরমেটরি স্থাপন, চট্টগ্রামের জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের সংস্কার এবং মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী পরিকল্পিত নগরায়নের বিষয়গুলো উঠে আসে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভাগীয় পর্যায়ে আধুনিক গবেষণাগার স্থাপন এবং ফেলোশিপ বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হয়।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ক্ষতিকর ওয়েবসাইট ব্লক এবং পার্বত্য অঞ্চলে মোবাইল নেটওয়ার্ক উন্নয়নে জোর দেয়।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ গুজব প্রতিরোধে ফ্যাক্ট-চেকিং সেন্টার স্থাপন এবং জেলায় আইটি পার্ক চালুকরণের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তুলে ধরে।

বিদ্যুৎ বিভাগ রাঙ্গামাটির দুর্গম এলাকায় সোলার প্যানেল স্থাপন, অফিস ভবনের ছাদে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার এবং সেচ মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা করে।

জ্বালানি বিভাগ গ্যাস সংযোগ সম্প্রসারণ, অবৈধ জ্বালানি মজুদ প্রতিরোধ এবং ফিলিং স্টেশনে অনিয়ম বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয় তুলে ধরে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি, অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ, নারী উদ্যোক্তাদের রপ্তানিতে সহায়তা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে।

ডিসি সম্মেলনকে কেন্দ্র ও মাঠ প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের সক্রিয় ভূমিকা এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ৩ মে ২০২৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চার দিনব্যাপী এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।

x

Check Also

চামড়া সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি, আলেমদের সুরক্ষায় ‘যেকোনো ত্যাগে’ প্রস্তুত ধর্মমন্ত্রী

এমএনএ প্রতিবেদক ধর্মমন্ত্রী কাজি শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ কাঁচা চামড়ার বাজারে সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ...