Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / অর্থনীতি / ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট থেকে সরে আসছে বিশ্বব্যাংক
বাংলাদেশের প্রায় ৪ কোটি নগরবাসীকে ৩০ কোটি

ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট থেকে সরে আসছে বিশ্বব্যাংক

এমএনএ অর্থনীতি ডেস্ক : বিশ্বব্যাংক বিভিন্ন দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ‘ডুয়িং বিজনেস’ রিপোর্টকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছিল। আর এই রিপোর্টের বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে তারা একটি দেশের অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা প্রকাশ করত। বিশেষ করে একটি দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা, বিনিয়োগ ও রাজস্ব আহরণের বিষয়টি গুরুত্ব দিত। এবার এই ডুইং বিজনেস থেকে বিশ্বব্যাংক সরে আসছে। চলতি মাসেই এ বিষয়ে বিভিন্ন দেশের আবাসিক প্রতিনিধিদের নিয়ে সভা করার সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে লেখা এক চিঠিতে এই তথ্যসহ বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করেছেন। অন্যান্য বিষয় হচ্ছে- করোনার ভ্যাকসিন, জলবায়ু, ঋণ, ট্রেড ও ডিজিটাল বিপ্লব।
চিঠিতে তিনি প্রথমেই উল্লেখ করেছেন, পৃথিবীর সবচেয়ে দরিদ্র মানুষেরা, বিশেষ করে ঝুঁকিতে থাকা মানুষগুলো এখনও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। বিশ্বব্যাংক তাদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে। সারা পৃথিবী যখন করোনার ছোবলে হাবুডুবু খাচ্ছে সেই সময় বিশ্বব্যাংক বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এই দুর্যোগ থেকে রক্ষা করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। আইডিএ ২৩.৫ বিলিয়ন ডলার সহায়তা করেছে মূলধন বাজারের তহবিল গঠনের ক্ষেত্রে। এ ছাড়া করোনায় আক্রান্ত গরিব দেশগুলোর জন্য ৯৩ বিলিয়ন ডলারের প্যাকেজ ঘোষণা দিয়েছে। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে এই সহায়তা বিশেষ সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে বিশ^ব্যাংক ৭.৫ বিলিয়ন ডলারের ভ্যাকসিন কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ৬৭টি দেশের মধ্যে এই ভ্যাকসিন কেনার অর্থ সরবরাহ করা হয়েছে। আশা করি চলতি বছর এই বরাদ্দ অব্যাহত থাকবে। বিশ্বব্যাংক ৩০০ মিলিয়ন ডোজ কেনায় বরাদ্দ দেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইতোমধ্যে ৩৯ দেশের মধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে। আগামী করোনাতে ১০০টি দেশের মধ্যে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে দরিদ্র মানুষদের সুরক্ষার জন্য সহায়তা অব্যাহত রাখবে। এই সহায়তায় চাকরির সুযোগ সৃষ্টি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে সহায়তার জন্য বরাদ্দ থাকবে।
জলবায়ু সম্পর্কে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন, ইতোমধ্যে আমাদের পক্ষ থেকে ২০২১-২৫ জলবায়ু পরিবর্তন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর জন্য ১২৫ বিলিয়ন ডলার আগামী পাঁচ বছরের জন্য সহায়তা দেওয়া হবে। আমাদের মূল লক্ষ্য প্যারিস চুক্তির লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানো। গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো হবে আগামী দিনের মূল কার্যক্রম।
ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক স্বচ্ছতা চায়। যে কারণে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেছেন, ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয় বিশ্বব্যাংক অনুসরণ করবে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, ফ্ল্যাগশিপ রিপোর্ট ও অ্যাডভোকেসি। তবু দারিদ্র্য নিরসন, উৎপাদনমুখী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
ট্রেডের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক বর্তমান ক্রান্তিকালে ট্রেডের ট্রেড অর্থায়ন করবে বলে জানিয়েছেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট। আইএফসি ট্রেড ফাইন্যান্সিংয়ের ক্ষেত্রে ৮০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা করেছে বলে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। প্রেসিডেন্ট মনে করেন, ট্রেড ফাইন্যান্সিংয়ের মাধ্যমে দারিদ্র্য নিরসনে একটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে তিনি ট্রেড রিফর্মের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের দেশগুলোর জন্য এটি বিশেষ কার্যকর হবে।
চলতি বছরের পরিকল্পনার মধ্যে করোনাকে অগ্রাধিকারমূলক হিসেবে বিবেচনায় নিয়েছেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট। এই করোনাকালে ডিজিটাল বিপ্লব ঘটেছে বলে তিনি মনে করেন। এই বিপ্লবকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে বিশ্বব্যাংক বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
x

Check Also

তেল

রাশিয়া বাংলাদেশের কাছে তেল বিক্রি করতে চায়

এমএনএ শিল্প ও বাণিজ্য ডেস্কঃ বাংলাদেশের কাছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। আর, ...

Scroll Up