Don't Miss
Home / আইন আদালত / প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে মন্তব্য ঘিরে সংসদে বিতর্ক, বক্তব্য এক্সপাঞ্জের দাবি বিএনপির

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে মন্তব্য ঘিরে সংসদে বিতর্ক, বক্তব্য এক্সপাঞ্জের দাবি বিএনপির

সংসদ প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বিরোধী দলের এক সংসদ সদস্যের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। রোববার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনার এক পর্যায়ে এ অনির্ধারিত বিতর্কের সূত্রপাত হয়।

বাজেট আলোচনায় বক্তব্যের শেষ দিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন জনসভা ও ভাষণে বিরোধী দল সম্পর্কে ‘অসত্য তথ্য’ উপস্থাপন করছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এমন বক্তব্য দিয়েছেন যে বিরোধী দল মদের ও সিগারেটের দাম বৃদ্ধির বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

হান্নান মাসউদ আরও দাবি করেন, সংসদে ঋণখেলাপি ও ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে বিরোধী সদস্যরা কথা বলতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী এমন মন্তব্য করেন, যা ঋণখেলাপিদের উৎসাহিত করার শামিল। তাঁর এ বক্তব্যের পরপরই সরকারি দলের সদস্যরা প্রতিবাদ জানিয়ে হইচই শুরু করেন।

পরবর্তীতে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন ফারুক হান্নান মাসউদের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, সংসদ নেতাকে নিয়ে অসত্য বক্তব্য বা কটূক্তি সংসদীয় রীতির পরিপন্থী। একই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট বক্তব্য কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান।

এর জবাবে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, হান্নান মাসউদের বক্তব্যের কোন অংশটি অসত্য, তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীও ভুল করতে পারেন এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা করার অধিকার বিরোধী দলের রয়েছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা প্রধানমন্ত্রীকে সম্মান করি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে তাঁর কোনো বক্তব্যের সমালোচনা করা যাবে না। আমরা গণতন্ত্রের দিকে এগোতে চাই, কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদের দিকে নয়।”

এ সময় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বক্তব্য দিয়ে বলেন, বিরোধী দলের চিফ হুইপের ব্যাখ্যা সঠিক নয়। তাঁর মতে, হান্নান মাসউদ সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে অসত্য বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ করেছেন, যা সংসদীয় শিষ্টাচারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনিও ওই বক্তব্যের সংশ্লিষ্ট অংশ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান।

বিতর্কের একপর্যায়ে হান্নান মাসউদ পুনরায় কথা বলতে চাইলে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল তাঁকে ফ্লোর দেননি। এরপরও তিনি আসন থেকে কথা বলতে থাকলে ডেপুটি স্পিকার বলেন, “এভাবে যখন খুশি দাঁড়ানো সংসদীয় নিয়ম নয়। অনুগ্রহ করে আসনে বসুন। এটা শাহবাগ চত্বর নয়, জাতীয় সংসদ।”

পরে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির শফিকুর রহমান বক্তব্য দেন। তিনি সংসদের আলোচনায় বাইরের রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে না আনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংসদের বিষয় সংসদেই নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। সত্য-মিথ্যা নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে জড়ালে তা সবার জন্য বিব্রতকর হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন।

সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল জানান, বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে হান্নান মাসউদের বক্তব্যের কোনো অংশ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

x

Check Also

চাঁদাবাজির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এমপি মান্নানের ছেলে সজীবকে ডিবি হেফাজতে

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান-এর ছেলে ও জেলা যুবদলের ...