Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের চার দশক আজ
স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের চার দশক আজ

এমএনএ ফিচার ডেস্কঃ আজ ১৭ মে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৪০তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। সেসময় স্বামীর চাকরিসূত্রে জার্মানিতে অবস্থান করছিলেন শেখ হাসিনা। পিতা-মাতা ও ভাইবোনসহ আপনজনদের হারানোর পর ১৯৮১ সালের এই দিনে দেশে ফেরেন তিনি।

১৭ মে প্রিয় স্বদেশভ‚মিতে প্রত্যাবর্তন করেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। সেদিন রাজধানী ঢাকা মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ঢাকা শহর মিছিল আর স্লোগানে প্রকম্পিত হয়। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া সেদিন লাখ লাখ মানুষের মিছিলকে গতিরোধ করতে পারেনি। কুর্মিটোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও শেরেবাংলা নগর পরিণত হয় জনসমুদ্রে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে এক নজর দেখতে সেদিন সারা বাংলাদেশের মানুষের গন্তব্য ছিল রাজধানী ঢাকা। স্বাধীনতার অমর স্লোগান, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয় বাংলার আকাশ-বাতাস। জনতার কণ্ঠে বজ নিনাদে ঘোষিত হয়েছিল ‘হাসিনা তোমায় কথা দিলাম- পিতৃ হত্যার বদলা নেব’। ‘শেখ হাসিনার আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’।

সেই দিন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ‘শেখ হাসিনা স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস’ পালন করে আসছেন। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেন। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন শেখ হাসিনা।

সেখানে তিনি দেশে ফিরে আসার স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আমি যখন ফিরে আসলাম, লাখো মানুষের ঢল। মুষলধারে বৃষ্টি ছিল। যখন বাংলাদেশের মাটি ছেড়ে যাই, মা-বাবা, ভাই সবাই ছিল। ছোট রাসেলও ছিল। কিন্তু আমি যখন ফিরে আসলাম লাখো মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি কিন্তু যে প্রিয়জনদের রেখে গিয়েছিলাম তাদের আর পাইনি। পেলাম বনানীর কবরস্থানে সারি সারি কবর। এটা একটা অত্যন্ত কঠিন সময় ছিল আমার জন্য। আমি নিঃস্ব রিক্ত হয়ে ফিরে এসেছি। কিন্তু আমার সৌভাগ্য, বাংলাদেশের অগণিত মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি, আমার সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সাহস ও সহযোগিতা। আমি আসার পর আমাকে কিন্তু ৩২ নম্বর বাড়িতে ঢুকতে দেয়া হয়নি। আমার বাবা-মা, ভাইদের জন্য মিলাদ করব, দোয়া পড়ব, ওই বন্ধ দরজার কাছ থেকে আমাকে ফিরে আসতে হয়েছে। রাস্তায় বসে আমাদের মিলাদ পড়তে হয়েছে। কারণ জিয়াউর রহমানের নিষেধ ছিল। ওই দরজার সামনে গিয়ে বসে থাকতাম। লেকের পাড়ে বসে থাকতাম। অনেক সময় কাটাতাম। যত সহজে আজকে আমি বলতে পারছি, ওই অবস্থা মেনে নেয়া এত সহজ ছিল না। কারণ, দূরে বসে জানা আর ফিরে এসে শূন্যতা দেখা এটা খুব কঠিন। খুব কঠিন।’

১৯৮১ সালের ১৭ মে ঝড়-বাদল আর জনতার আনন্দাশ্রুতে অবগাহন করে শেরেবাংলা নগরে লাখ লাখ জনতার সংবর্ধনার জবাবে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘সব হারিয়ে আমি আপনাদের মাঝে এসেছি, বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তার আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জাতির পিতার হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণে আমি জীবন উৎসর্গ করতে চাই। আমার আর হারাবার কিছুই নেই। পিতা-মাতা, ভাই রাসেল সকলকে হারিয়ে আমি আপনাদের কাছে এসেছি, আমি আপনাদের মাঝেই তাদের ফিরে পেতে চাই। আপনাদের নিয়েই আমি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তা বাস্তবায়ন করে বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চাই, বাঙালি জাতির আর্থ-সামাজিক তথা সার্বিক মুক্তি ছিনিয়ে আনতে চাই।’

তিনি আরো বলেছিলেন, ‘জীবনে ঝুঁকি নিতেই হয়, মৃত্যুকে ভয় করলে জীবন মহত্ত্ব থেকে বঞ্চিত হয়।’

দেশে ফেরার আগেই ১৯৮১ সালে ফেব্রুয়ারির ১৪, ১৫ ও ১৬ তারিখে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী করা হয়। ওই বছরেরই ১৭ মে তারিখে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তিনি বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। এদিন বিকাল সাড়ে ৪টায় ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের বোয়িং বিমানে তিনি ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে কলকাতা হয়ে তৎকালীন ঢাকা কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। ওই দিনটি ছিল রবিবার।

বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে তাকে একনজর দেখার জন্য কুর্মিটোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শেরেবাংলা নগর পর্যন্ত এলাকাজুড়ে লাখো জনতার ঢল নামে। সেদিনের গগণবিদারী মেঘ গর্জন, ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ প্রকৃতি যেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার বদলা নেয়ার লক্ষ্যে গর্জে উঠেছিল, আর অবিরাম মুষলধারে ভারি বর্ষণে যেন ধুয়ে-মুছে যাচ্ছিল বাংলার মাটিতে পিতৃ হত্যার জমাট বাঁধা পাপ আর কলঙ্কের চিহ্ন।

শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমান ছুঁয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন হাজার হাজার মানুষ। বাবা-মা-ভাইসহ পরিবারের সব সদস্যের রক্তে ভেজা বাংলার মাটি স্পর্শ করে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। এই সময় উন্মত্ত জনতা সামরিক শাসক জিয়ার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিভিন্ন স্লোগানে আকাশ বাতাস প্রকম্পিত করে তোলে।

সংবর্ধনার পর শেখ হাসিনা তার পরিবারের সদস্যদের রক্তে রঞ্জিত ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর রোডের ৩২ নম্বর বাসায় প্রবেশ করতে চাইলে জিয়ার বাহিনী তাকে তার পৈত্রিক বাসায় প্রবেশ করতে দেয়নি। তখন তিনি বাড়ির সামনের রাস্তায় বসে কোরআন তেলাওয়াত করেন। জিয়া বেঁচে থাকা পর্যন্ত প্রত্যেক দিন তিনি বাসার সামনে বসে কোরআন তেলাওয়াত করতেন। তাতেও বিন্দুমাত্র দয়া হয়নি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯)-এর সংক্রমণের কথা বিবেচনায় রেখে যথাযথভাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে সীমিত পরিসরে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক উপকমিটি আয়োজিত তথ্য ও সংবাদচিত্র প্রদর্শনী। বেলা ১১টায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর এবং বিকাল ৩টায় মহানগর নাট্য মঞ্চে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল।

x

Check Also

সিপিডি

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বাজেটে ৩ শুভঙ্করের ফাঁকি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

এমএনএ অর্থনীতি ডেস্কঃ আগামী অর্থবছরের বাজেটে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) ...

Scroll Up