এমএনএ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ জেনারেল মার্ক মিলি সতর্ক করে বলেছেন, আফগানিস্তানে আল কায়েদার যে সন্ত্রাসীরা লুকিয়ে আছেন তারা আগামী এক বছরের মধ্যেই শক্তি সঞ্চয় করে যুক্তরাষ্ট্রে হামলা চালাতে পারেন। মঙ্গলবার মার্কিন সিনেটে এক শুনানিতে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা এটা নিশ্চিত যে তালেবান মুখে যাই বলুক না কেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ হামলায় জড়িত আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করেনি। আর এতেই আতঙ্ক বাড়ছে।এদিকে দেশটিতে দিন দিন করুণ হচ্ছে নারীদের সংকট। এবার দুই শতাধিক নারী বিচারক প্রাণভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে জানা গেছে। আর বিদেশি সংবাদমাধ্যমের জন্য নীতিমালা বেঁধে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে তালেবান।
তালেবান নেতৃত্বের কাছে এই নারীদের আকুতি কি পৌঁছাবে? গেল ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানজুড়ে তালেবানের পুনরুত্থানের পর নারীরা সবচেয়ে বেশি অধিকারবঞ্চিত হয়েছেন। এমনটাই বলছেন তারা। তারা দাবি জানিয়েছেন, মেয়েদের জন্য স্কুল খুলে দেওয়ার।তারা যখন এ দাবি করছেন, তখন ইসলামিক পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত নারীদের আর কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস বা কাজ করার অনুমতি দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তালেবান নিযুক্ত উপাচার্য মোহাম্মদ আশরাফ ঘাইরাত।
অন্যদিকে প্রাণনাশের হুমকি থাকায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন আফগান নারী বিচারকেরা। যে খুনি-অপরাধীদের তারা সাজা দিয়েছিলেন, আজ তাদের হাত থেকেই বাঁচতে আত্মগোপন করে আছেন ২২০ জনেরও বেশি আফগান নারী বিচারক।এত কিছুর পরও আফগানরা যেন দেশ ছেড়ে না পালান, সেটির বিষয়েও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। তালেবান নেতারা আরও বলছেন, বিদেশি মিডিয়ার জন্য নীতিমালা তৈরি করা হবে শিগগিরই, যেন তারা ইচ্ছে অনুযায়ী কোনো কাজ করতে না পারে।
তালেবান নেতারা সাময়িকভাবে দেশটির রাজতন্ত্রের, ১৯৬৪ সালের সংবিধান অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করবেন বলে জানিয়েছেন। ওই সংবিধান অনুযায়ী, নারীদের ভোটাধিকার ছিল। তবে তালেবান বলছে, কোনো কিছু তাদের মন মতো না হলে সেটা বাতিল করার এখতিয়ার তারা রাখেন।সিনেটে সম্ভাব্য হুমকির বিষয়টি ওঠার পর সিনেটররা যুক্তরাষ্ট্রকে তালেবানের ওপর কঠোর নজরদারির দাবি জানান। আর মার্কিন সেনা প্রত্যাহার নিয়ে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের পক্ষেই সাফাই গেয়েছেন হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকী।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

