কুটনৈতিক প্রতিবেদক
রোববার (৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে মূলত বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র-এর পারস্পরিক সম্পর্ক, বিশেষ করে জ্বালানি, বাণিজ্য এবং উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে সাধারণ আলোচনা হয়। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহায়তার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বের সবচেয়ে বড় দাতা দেশ। এই সহায়তা ভবিষ্যতেও চালু রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং এ নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে।
জ্বালানি খাতে সহযোগিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে। যদিও আলোচনার কিছু অংশ কূটনৈতিক কারণে প্রকাশ করা যাচ্ছে না, তবে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।
বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও প্রতিযোগিতামূলক উৎস থেকেই তেল কেনা হবে। এ ক্ষেত্রে ভারত, মধ্যপ্রাচ্য কিংবা যুক্তরাষ্ট্র—সব ধরনের বিকল্পই খোলা রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো গোপন চুক্তি নেই। যেসব চুক্তি হয়েছে, সেগুলো স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। তাই এই চুক্তির কারণে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে তেল আমদানির অনুমতি নিতে হচ্ছে—এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
রাশিয়া থেকে তেল আমদানির বিষয়ে তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক কিছু নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। সেই কারণে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ‘ওয়েভার’ বা ছাড়ের প্রয়োজন হতে পারে। তবে এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো বাণিজ্যিক চুক্তির সম্পর্ক নেই।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য বিদেশ সফর নিয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এখনো কোনো দেশ চূড়ান্ত হয়নি।
সবশেষে তিনি বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এজন্য বিশ্ববাজারে সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও প্রতিযোগিতামূলক উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক
