Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / ৩ যুদ্ধাপরাধীর আমৃত্যু কারাদন্ড

৩ যুদ্ধাপরাধীর আমৃত্যু কারাদন্ড

 এমএনএ সংবাদ ডেস্ক : বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও হত্যার মত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ময়মনসিংহের খলিলুর রহমানসহ ৯ আসামির মধ্যে ৩ জনকে যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া ৫ আসামিকে ২০ বছর কারাদণ্ড ও একজন খালাস দিয়েছে আদালত।

বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বৃহস্পতিবার এ মামলার রায় ঘোষণা করে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি আমির হোসেন ও বিচারপতি আবু আহমেদ জমাদার।

এ মামলার নয় আসামির মধ্যে একজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত রায় আসা ৪২টি মামলার ১১৪ জন আসামির মধ্যে এই প্রথম কেউ বেকসুর খালাস পেলেন।

এর আগে বিচারকরা ২২২ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ের সংক্ষিপ্ত রায় পড়ে শোনান। আসামিদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে হত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, নির্যাতনের চারটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। ৯ আসামির মধ্যে বর্তমানে ৪ জন পলাতক রয়েছেন।

সকালে ৫ আসামিকে হাজির করা হয় ট্রাইব্যুনালে। তবে রায়ের দিন পলাতক এক আসামি আলিমুদ্দিন খান ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রায় ঘোষণা শেষ হলে সে আসল আসামি কিনা যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

২০১৮ সালের ৪ মার্চ এ মামলায় মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেছিল ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি শাহিনূর ইসলাম রায়ের জন্য আজকের দিন ঘোষনা করেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় আসামি ছিলেন ১১ জন। পঅভিযুক্ত আসামিদের মধ্যে মো. আব্দুল মালেক আকন্দ ওরফে আবুল হোসেন ওরফে আবুল মেম্বার গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিচার চলাকালে মারা যান। আর আসামি নুরুল আমিন শাজাহান মারা যান পলাতক অবস্থায়।

এ মামলার আসামিদের মধ্যে গ্রেপ্তার মো. খলিলুর রহমান মীর, মো. শামসুজ্জামান ওরফে আবুল কালাম, মো. আব্দুল্লাহ, মো. রইছ উদ্দিন আজাদী ওরফে আক্কেল আলী ও আব্দুল লতিফ আদালতে উপস্থিত আছেন।

আর এ এফ এম ফয়জুল্লাহ, আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডল, সিরাজুল ইসলাম তোতা ও আলিম উদ্দিন খান পলাতক।

২০১৪ সালের ১৬ অক্টোবর এ মামলার তদন্ত শুরু হয়। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনে ট্রাইব্যুনাল ২৫ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

হত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের মত অপরাধের তিনটি অভিযোগ এনে ২০১৮ সালের ৪ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

অভিযোগ গঠনের পর ওই বছরের ১০ মে থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ ও শুনানি শুরু হয়। মোট ১৮ জন সাক্ষী এ মামলায় সাক্ষ্য দেন।

সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ২০১৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর যুক্তিতর্ক শুরু হয়ে শেষ হয় গত বছরের ২৬ জানুয়ারি। ওই দিনই মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষায় রাখা হয়।

সর্বশেষ ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর রাজশাহীর বোয়ালিয়ার সাবেক শিবির নেতা মো. আব্দুস সাত্তার ওরফে টিপু সুলতানের যুদ্ধাপরাধ মামলার রায় এসেছিল ট্রাইব্যুনালে। সেই রায়ে টিপু সুলতানকে মৃত্যুদণ্ড দেয় যুদ্ধাপরাধ আদালত।

সব মিলিয়ে এ পর‌্যন্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মোট রায় হয়েছে ৪০টি মামলার। এর মধ্যে ট্রাইব্যুনাল-১ এ রায় হয়েছে ২৮টি। আর ট্রাইব্যুনাল-২ রায় দিয়েছে ১২টি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত রায় আসা ৪১টি মামলার ১০৩ জন আসামির মধ্যে ছয়জন বিচারাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মোট ৯৫ জনের সাজা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৬৮ যুদ্ধাপরাধীর সর্বোচ্চ সাজার রায় এসেছে।

x

Check Also

ঢাকা দক্ষিণে মেয়র পদে জামায়াতের প্রার্থী ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, শিবিরের অস্বীকার!

এমএনএ প্রতিবেদক ঢাকা মহানগর দক্ষিণে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর সম্ভাব্য ...