এমএনএ প্রতিবেদক
রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন উইমেনস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের পর সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখতে ঢাকার ছয়টি সরকারি হাসপাতালে তাৎক্ষণিক ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
শুক্রবার (১২ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহের পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়, গত ১১ জুন জারি করা আদেশ অনুযায়ী আদ্-দ্বীন উইমেনস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে হাসপাতাল থেকে রেফার করা রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে তাদের দ্রুত ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি হাসপাতালগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রেফার করা রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য নির্ধারিত হাসপাতালগুলো হলো— ১. ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল; ২. স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল; ৩. শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল; ৪. মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল; ৫. কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও ৬. বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট।
এদিকে লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর রাজধানীর বড় মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বর্তমানে ভর্তি থাকা রোগীদের পর্যায়ক্রমে ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
গত ২৭ মে হাসপাতালটির পোস্ট-ডেলিভারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয় নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যু ঘটে। এক থেকে দুই দিন বয়সী এসব নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় দেশব্যাপী ব্যাপক উদ্বেগ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ‘দ্য মেডিক্যাল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২’-এর ১১(১) ধারা অনুযায়ী একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গুরুতর অবহেলার বিষয় উঠে আসার পর গত ৪ জুন প্রতিষ্ঠানটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
নোটিশে প্রথমে ৭ জুন বিকেল ৫টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছিল। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে সময়সীমা ৯ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। নির্ধারিত সময়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিলেও তা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে সন্তোষজনক বলে বিবেচিত হয়নি।
এরপর সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশের ১১(২)(খ) ধারা অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়। আইন অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিলের আদেশ জারির সঙ্গে সঙ্গে তা কার্যকর হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চাইলে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য আপিল করতে পারবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও দ্রুততম সময়ের মধ্যে আপিল করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আপিলের মাধ্যমে সরকারের কাছ থেকে কোনো স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস কো) বা স্থগিতাদেশ (স্টে অর্ডার) না পাওয়া পর্যন্ত হাসপাতালটি লাইসেন্সবিহীন হিসেবে বিবেচিত হবে। ফলে নতুন রোগী ভর্তি বা নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করা আইনগতভাবে বৈধ নয়।
অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আরও জানান, মানবিক কারণে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীদের চিকিৎসা অব্যাহত রাখার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে রোগীদের নিরাপদে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় গৃহীত এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ দেশের বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতে জবাবদিহিতা ও রোগী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক
