এমএনএ রিপোর্ট : পুলিশ হেফাজতে ইয়াসমিন হত্যার ২১তম বর্ষপূর্তি আজ। ২১ বছর আগে এই দিনে দিনাজপুরে কিছু বিপথগামী পুলিশের হাতে তরুণী ইয়াসমিন পৈশাচিকভাবে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়। এ হত্যাকাণ্ড স্মরণে প্রতিবছর দিনটি দেশব্যাপী নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস হিসাবে পালিত হচ্ছে।
১৯৯৫ সালের ২৪ আগস্ট ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁওগামী নৈশ কোচের যাত্রী ইয়াসমিনকে দিনাজপুরের দশমাইল মোড়ে এক চায়ের
দোকানের সামনে নামলে টহল পুলিশের একটি দল ইয়াসমিনকে দিনাজপুর শহরে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে জোর করে পিক-আপ ভ্যানে তুলে নেয়। এরপর তারা দশমাইল সংলগ্ন সাধনা আদিবাসী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইয়াসমিনকে পালাক্রমে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ রাস্তার পাশে ফেলে রেখে চলে যায়।
ঘটনার প্রতিবাদে জেলার সর্বস্তরের মানুষ কোতয়ালী থানা ঘেরাও করে। এ সময় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালালে ৩ জন নিহত হয়। আহত হয় শতাধিক মানুষ। এ ঘটনায় ১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট রংপুরে বিশেষ আদালতের বিচারক পুলিশের এএসআই ময়নুল হোসেন, কনস্টেবল আব্দুস সাত্তার ও অমৃতলালকে মৃত্যুদণ্ডোদেশ প্রদান করেন। পরবর্তীতে তাদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয়।

কতিপয় পুলিশের পৈশাচিক লালসার শিকার ইয়াসমিন আক্তারের মৃতদেহ।
পৈশাচিক
নিহত ইয়াসমিনের মা শরীফা বেগম বলেন, ‘যখন আমার মেয়েটার মৃত্যুবার্ষিকী আসে তখন সাংবাদিক ভাইয়েরা ছাড়া আর কেউ আমাদের খোঁজ নেয় না।’
ইয়াসমিন আন্দোলনের অন্যতম নেতা, বর্তমানে সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল আক্ষেপ করে বলেন, সেদিন দিনাজপুরবাসী যে কারণে প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নেমেছিল সে লক্ষ্য আজও অর্জিত হয়নি।
ইয়াসমিনের স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য দশ মাইল মোড়ে একটি স্মৃতি ভাস্কর্য স্থাপন করেছে দিনাজপুর জেলা পরিষদ। ইয়াসমিন ট্রাজেডি দিবসে এ বছরও দিনাজপুরে মহিলা পরিষদসহ নারী সংগঠন, সিপিবি, ছাত্র ইউনিয়ন, জাগপা, পল্লীশ্রীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান শোল র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। এ ছাড়াও অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে কালো পতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাজ ধারণ, মিছিল, ইয়াসমিনের কবর জিয়ারত ও মিলাদ মাহফিল।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক
