এমএনএ ফিচার ডেস্ক : সীমাহীন সৌন্দর্য আর আসীম ক্ষমতার অধিকারী ক্লিওপেট্রা। প্রাচীন মিসর এবং ইতিহাসের এক বিস্ময়কর নাম ক্লিওপেট্রা। ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত নারী তিনি। মিসরীয় রানিদের মধ্যে তিনি ‘ক্লিওপেট্রা সপ্তম’ হিসেবে পরিচিত। তার আগে আরো ছয়জন ক্লিওপেট্রা ছিলেন।
তার সহজাত বৈশিষ্ট্য ও তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তাই তাকে সর্বকালের সেরা নারীদের কাতারে স্থান করে দিয়েছে। বাবা দ্বাদশ টলেমি আওলেটেসের সঙ্গে তিনি দ্বৈতভাবে মিশর শাসন করতেন। বাবার মৃত্যুর পর তিনি তার ভাতৃদ্বয় ত্রয়োদশ টলেমি ও চতুর্দশ টলেমির সঙ্গে রাজ্য শাসন করতেন।
সে কালে মিশরে ভাই-বোন বিয়ে প্রচলিত ছিল। তৎকালীন মিশরীয় ঐতিহ্য অনুসারে তিনি আপন দুই ভাইকে বিয়েও করেছিলেন। পরবর্তীতে একসময় ক্লিওপেট্রা মিশরের একক শাসক হিসেবে অধিষ্ঠিত হন। ফারাও হিসেবে তিনি রোমের শাসক গাউস জুলিয়াস সিজারের সঙ্গে একটি ভালো সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন যা মিশরের সিংহাসনের উপর তার হাতকে আরো শক্তিশালী করেছিল।
পরবর্তীতে জুলিয়াস সিজারের নামানুসারে ক্লিওপেট্রা তার বড় ছেলের নাম রেখেছিলেন ‘সিজারিওন’। প্রাণবন্ত এই রাজকুমারী মিশরীয়সহ মোট নয়টি ভাষা জানতেন। গণিতবিদ ও ব্যবসায়ী হিসেবেও তার সুনাম ছিল। রাজনৈতিক কারণে তিনি নিজেকে সূর্যদেবতার বংশধর হিসেবে প্রচার করতেন এবং দেবী আইসিসের শিরোস্ত্রাণ পরতেন।
সাহিত্য ও দর্শনে তার প্রবল অনুরাগ ছিল। তার চূড়ান্ত অভিলাষ ছিল রোমের আওতার বাইরে থেকে প্রথম টলেমি প্রতিষ্ঠিত পুরো এলাকার রাজমতা লাভ করা। ক্লিওপেট্রা সব সরকারি দলিলপত্র থেকে তার ভাইদের নাম মুছে ফেলেছিলেন। এমনকি মুদ্রায় তার একক পোর্ট্রেট ও নাম সংযোজন করেন।
রোমে সিজার ক্লিওপেট্রাকে অত্যন্ত সম্মানিত আসন দান করেন। এমনকি ভেনাসের মন্দিরে ক্লিওপেট্রার একটি স্বর্ণমূর্তিও স্থাপন করা হয়। সিজারের আকস্মিক মৃত্যুর পর মার্ক অ্যান্টনি অল্প বয়স্ক অক্টাভিয়াসকে বেকায়দায় রেখে রোমের শাসনভার গ্রহণ করেন। বুদ্ধিমতী ক্লিওপেট্রা এবার এবার মার্ক অ্যান্টনিকে নিজের কবজায় আনার জন্য বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেন। ২৮ বছরের সুন্দরী ক্লিওপেট্রার মোহনীয় সৌন্দর্য ও বুদ্ধিমত্তার কাছে ধরা দেন সম্রাট মার্ক অ্যান্টনি।
ক্লিওপেট্রার মোহে বন্দি রোমান সম্রাট অ্যান্টনি ঘোষণা করেন, মিশর রোমের করদরাজ্য নয়, বরং মিশর একটি স্বাধীন দেশ। আর ক্লিওপেট্রা এ দেশের রানি। খ্রিষ্টপূর্ব ৩৬ সালে তারা বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হন। এটি ছিল একটি চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী ঘটনা। ক্লিওপেট্রাকে খুশি করতে ৩৪ সালে তিনি মিশর, সাইপ্রাস, ক্রিট, সিরিয়ার শাসনমতা ক্লিওপেট্রাকে দান করেন।
খ্রিষ্টপূর্ব ৩১ সালে অ্যান্টনি গ্রিসে তার চির প্রতিদ্বন্দ্বী অক্টাভিয়াসের সঙ্গে যুদ্ধে হেরে যান। ফলে রোমের শাসন ক্ষমতা চলে যায় অক্টাভিয়াসের কাছে। সেই সঙ্গে ক্লিওপেট্রার কাছে মূল্যহীন হয়ে পড়লেন অ্যান্টনি। অক্টাভিয়াসের ক্লিওপেট্রা তার মায়াজালে বন্দি করতে যেয়ে অ্যান্টনিকে সুকৌশলে মৃত্যুর দিকে থেলে দেন। অ্যান্টনি মৃত্যুবরণ করলেও অক্টাভিয়াসকে হাত করার অপপ্রয়াস পুরোপুরি ব্যর্থ হয়। অক্টাভিয়াস ক্লিওপেট্রাকে জীবিত চায়। অক্টাভিয়াস কাছে আরো অপমানিত হবার চেয়ে মৃত্যুই তার কাছে শ্রেয় মনে হলো।
তাই তদানীন্তন রাজকীয় প্রথা হিসেবে অ্যাস্প নামের এক বিশেষ ধরনের সাপের ছোবলে ক্লিওপেট্রা আত্মহত্যা করেন। ক্লিওপেট্রার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মিশরে প্রায় ৩০০ বছরের মেসিডোনিয়ান শাসনের অবসান ঘটে। অতি স্বল্প আয়ুর এই বিখ্যাত রানির শাসনকালে অতি সংক্ষিপ্ত হলেও তার জৌলুসপূর্ণ শাসনামলের কথা পৃথিবী যুগে যুগে স্মরণ করবে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

