চীনের আজীবন প্রেসিডেন্ট হলেন শি জিনপিং
Posted by: News Desk
March 11, 2018
এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : শি জিনপিংকে চীনের আজীবন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করে বিল পাস করেছে কংগ্রেস। এজন্য সংবিধান সংশোধন করে দেশটির সংসদ প্রেসিডেন্টের জন্য নির্ধারিত মেয়াদ সীমা অবলুপ্ত করেছে। ফলে আমৃত্যু চীনের প্রেসিডেন্ট থাকতে পারবেন শি জিনপিং।
শি জিন পিং এখন সর্বময়, অসীম, নিরঙ্কুশ ও তুলনাহিত ক্ষমতার অধিকারী এক প্রেসিডেন্ট হয়ে উঠলেন। মৃত্যু ছাড়া বা শারীরিক অক্ষমতা ছাড়া আর কোনো কারণে তাকে তার পদ থেকে কেউ নামাতে পারবে না।
আজ রবিবার এ সংক্রান্ত একটি বিল পাস হয়েছে। প্রায় তিন হাজার প্রতিনিধির মধ্যে দুই হাজার ৯৫৮ জন পক্ষে ভোট দেন।
শি জিনপিং ২০১২ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তিনি দেশটির কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক। এর পরই তিনি দেশটির ইতিহাসে ধারাবাহিকভাবে আত্মপ্রত্যয়, জবরদস্তি ও কর্তৃত্ববাদের একটি যুগের সূচনা করেন। পাশাপাশি তার হাত ধরে চীন এক নতুন জাগরণ দেখতে পেয়েছে।
চীনা জাগরণের নতুন মহানায়ক আজ শি জিনপিং। তার হাত ধরে চীন মহাকাব্যিক উন্নয়নের এক নতুন এক অধ্যয়ে প্রবেশ করেছে। যার ধারাবাহিকতায় পরাক্রমশালী দেশ হিসেবে বিশ্বের কাছে চীনের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে তিনিই এখন সামনে এবং কেন্দ্র থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। পাশাপাশি ভিন্নমতাবলম্বী ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড়ও শুরু করেন।
শি জিনপিং যে আজীবন প্রেসিডেন্ট পদে থাকতে চান, সেটা গত অক্টোবরেই বোঝা গিয়েছিল। সেবার কমিউনিস্ট পার্টি কংগ্রেসে চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী একজন সম্ভাব্য উত্তরসূরী মনোনয়ন করার কথা ছিল তার। কিন্তু তিনি তখন তা করেননি। বরং নিজের ক্ষমতা আরো সংহত, আরো ব্যাপকতর এর ‘চিরকালীন’ করার উদ্যোগ নেন। হয়ে ওঠেন একক ক্ষমতাধর, অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
দলে তার ক্ষমতা ও প্রতিপত্তির এমন পর্যায়ে চলে যায় যে, কেবল মাও সে তুং(মাও জে দং) –এর ক্ষমতার সঙ্গেই যা তুলনা চলে।
এরপর গত ফেব্রুয়ারি মাসে কমিউনিস্ট পার্টি শি জিন পিংয়ের ক্ষমতাকে আকাশচুম্বি করার পথের শেষ বাধাটিও দূর করার প্রস্তাব করে। আর তা হলো প্রেসিডেন্টের দু’মেয়াদের বাধ্যবাধকতা সংবিধান থেকে একেবারে তুলে নেওয়া। এবার সেটাও হলো। ১৯৯০ সালের দিক থেকে চীনের একজন প্রেসিডেন্ট ৫ বছর করে সর্বোচ্চ দু’বারের জন্য নির্বাচিত হতে পারতেন।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে কমিউনিস্ট পার্টি চীনের সংবিধান থেকে প্রেসিডেন্টের মেয়াদসীমা তুলে দেয়ার প্রস্তাব তোলে। ২০২৩ সাল পর্যন্ত মেয়াদ ছিল শি জিনপিংয়ের।
আগে থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল সংবিধান সংশোধন করতে জিনপিংকে কোনো বেগ পেতে হবে না। কারণ, কাগজে-কলমে কংগ্রেসই হলো চীনের সবচেয়ে বড় আইন প্রণয়নকারী সংস্থা। কিন্তু এটাকে স্রেফ একটা কাঠের পুতুল বলেই মনে করা হয়, কারণ, যেমন নির্দেশনা থাকে কংগ্রেস সেভাবেই সব অনুমোদন করে থাকে। বিগত ৫০ বছরের ইতিহাসে এর ব্যত্যয় ঘটেওনি।
আজ রবিবার সংবিধান সংশোধনীর উদ্দেশ্যে আয়োজিত ভোটে প্রধম ভোটটিই দেন শি জিনপিং। লাল একটি বক্সে প্রতিটি ব্যালট পেপার পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই হাতে তালি দিয়ে প্রেসিডেন্টের মেয়াদসীমা বিলুপ্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রতিনিধিরা।
২০৫০ সালের মধ্যে চীনকে অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে সুপারপাওয়ারে পরিণত করার স্বপ্ন লালন করেন শি। সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে আজীবন ক্ষমতায় থাকার পথ পরিষ্কার করে নিজের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন তিনি।
আজীবন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং হলেন 2018-03-11