এমএনএ শিক্ষা ও ভর্তি ডেস্ক : শীতকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) পিঠা তৈরির ধুম পড়েছে। দুপুর গড়িয়ে একটু বেলা পড়তেই ক্যাম্পাসে অস্থায়ী পিঠা তৈরির দোকানগুলোতে ভিড় জমে যায়। শীতের পিঠা যেন জাহাঙ্গীরনগরে এক উৎসবে রূপ নেয়।
ক্যাম্পাসের অস্থায়ী পিঠার দোকানের বেশিরভাগ ক্রেতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হলেও ঢাকার আশপাশ থেকে প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী আসেন ক্যাম্পাসে। তারাও শীতের পিঠার স্বাদ নিতে ভোলেন না।
এসব ছোট ছোট পিঠার দোকানে পাওয়া যায় মাটির চুলায় বানানো ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, ডিম চিতই, মাংসের পিঠা, পুলি পিঠা, পাটিসাপটা, তেলের পিঠা, জামাই পিঠার সঙ্গে বেশ কয়েক ধরনের মজাদার ঝালের পিঠাও আছে।
আগে পিঠা চত্বর থাকলেও এখন আর নেই। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ডজনখানেক পিঠার অস্থায়ী দোকান গড়ে উঠেছে। পরিবহন চত্বর, মুরাদ চত্বর, ছবি চত্বর, অমর একুশের পাশে, টার্জান পয়েন্ট, বটতলা, আলবেরুনি হল, প্রীতিলতা ও শেখ হাসিনা হলের সামনে বসে পিঠার দোকানগুলো।
বিশ্ববিদ্যালয়ে এসব পিঠার দোকানের অধিকাংশ বিক্রেতাই নারী। কোথাও দোকানি নিজেই পিঠা তৈরি করে বিপণন করছেন। কোথাও আবার স্বামী, সন্তান বা অন্য স্বজনরা সহযোগিতা করছেন তাদের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে স্বামী ও ছেলের সহযোগিতা নিয়ে পিঠা বিক্রি করেন হনুপা বেগম (৫০)। হনুপা বেগম বলেন, করোনার দিনগুলো অনেক কষ্টে কেটেছে। এখন প্রতিদিন পিঠা বিক্রি করে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা ইনকাম করি। এই আয় দিয়েই সংসার চালাই। আগের দ্রব্যমূল্যের দাম কম থাকায় লাভ বেশি হয়তো। এখন পিঠা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম অনেক বেশি। তাই আয়ও কমে গেছে আমাদের।
কয়েকজন দোকানি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে হওয়ায় তাদের ক্রেতাদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী। তবে ছুটির দিনসহ অন্যান্য দিনে দর্শনার্থীরাও তাদের দোকানের পিঠার স্বাদ নেন। বিকেল থেকে এসব দোকানে পিঠা তৈরি শুরু হলেও মূলত ক্রেতাদের ভিড় থাকে সন্ধ্যায়। দোকানিদের কেউ কেউ অন্যান্য কাজের ফাঁকে পিঠার দোকানে সময় দেন। আবার কেউ বা পুরোটাই নির্ভরশীল পিঠা বিক্রির আয়ের ওপর।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী বিপ্লব সরকার বলেন, শীতকালে জাহাঙ্গীরনগরের পরিযায়ী পাখির মতোই অন্যতম আকর্ষণ পিঠাপুলি। হলের গেট থেকে শুরু করে মুরাদ চত্বর, মুরগি চত্বর, ট্রান্সপোর্ট সবখানেই টিমটিমে আগুনের হল্কা দেখতে পাওয়া যায়। সেখানে বানানো হয় ভাপা, চিতই, পাটিসাপটার মতো মজাদার পিঠা। এখানকার পিঠার স্বাদ ঘরে বানানো পিঠার থেকে কোনো অংশে কম নয়।
জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী জামিনুর রহমান বলেন, ক্যাম্পাসে নানান কাজের ব্যস্ততায় শীতে বাড়িতে যাওয়া হয়ে উঠে না। যে কারণে শীতের পিঠার জন্য এই দোকানগুলোর উপরেই ভরসা করতে হয়।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

