Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / টাইগারদের বোলিং তোপে বিপর্যস্ত শ্রীলংকা

টাইগারদের বোলিং তোপে বিপর্যস্ত শ্রীলংকা

এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক :  ৩২৫ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে টাইগারদের দুর্দান্ত বোলিং তোপে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে শ্রীলংকা। মাশরাফি, মিরাজ, সাকিব এবং তাসকিনের বোলিং তোপে লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের ঘাম ছুটে যাওয়ার দশা। এ রিপোর্ট লেখা অবধি ৩২ ওভার শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে লঙ্কানরা তুলেছে ১৪৩ রান। প্রয়োজনীয় রান রেট উঠে গেছে ১০ এর ওপরে।

উইকেটে অপরাজিত আছেন মিলিন্দা সিরিবর্ধানে ২১ বলে ১৫ রান এবং সাচিথ পাথিরানা ১২ বলে ১৬ রানে। মেহেদি মিরাজ দুটি উইকেট লাভ করেছেন। মাশরাফি, তাসকিন ও সাকিব একটি করে উইকেট তুলে নিয়েছেন।

ফিল্ডিংয়ে নেমে বাংলাদেশের হয়ে বোলিং শুরু করেন মাশরাফি। লঙ্কানদের হয়ে ইনিংস শুরু করতে নামেন দাসুনকা গুনাথিলাকা এবং উপুল থারাঙ্গা। ইনিংসের প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই ম্যাশের বলে এলবির ফাঁদে পড়েন গুনাথিলাকা। রিভিউ নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি তার। দলীয় শূন্য রানেই প্রথম উইকেট হারায় লঙ্কানরা। মাশরাফি প্রথম ওভারে কোনো রান না দিয়েই উইকেট তুলে নেন।

ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে কুশল মেন্ডিসকে (৪) বিদায় করেন অভিষিক্ত মিরাজ। আগেই একবার মেন্ডিসকে স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেললেও এবার শুভাগতর তালুবন্দি করেন। দলীয় ১৫ রানের মাথায় দ্বিতীয় উইকেট হারায় লঙ্কানরা। এরপর টিকতে পারেননি ওপেনার উপুল থারাঙ্গা (১৯)। তাসকিনের করা দলীয় ১১তম ওভারের শেষ বলে মাশরাফির তালুবন্দি হয়ে ফেরেন থারাঙ্গা। দলীয় ৩১ রানের মাথায় তৃতীয় উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। এরপর জুটি গড়ে ৫৬ রান যোগ করেন আসেলা গুনারত্নে এবং চান্দিমাল। ইনিংসের ২৪তম ওভারে সাকিবের ঘূর্ণিতে পরাস্ত হয়ে মোসাদ্দেকের দারুণ এক ক্যাচে ফেরেন ২৪ রান করা গুনারত্নে। দলীয় ৮৭ রানের মাথায় চতুর্থ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা।

এরপর আবারো মিরাজের আঘাত। বিদায় নেন দিনেশ চান্দিমাল (৫৯)। সৌম্য সরকারের হাতে ধরা পড়েন তিনি। দলীয় ১২১ রানের মাথায় পঞ্চম উইকেট হারায় লঙ্কানরা।

এর আগে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান এবং সাব্বির রহমানের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ভর করে ৫০ ওভার শেষে ৫ উইকেটে ৩২৪ রান করে বাংলাদেশ। টাইগার ওপেনার তামিমের সেঞ্চুরির সঙ্গে ছিল সাকিব-সাব্বিরের দুর্দান্ত হাফ-সেঞ্চুরির ইনিংস।

৩২৫ রানের বিশাল টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমেছে স্বাগতিকরা। বাংলাদেশের হয়ে বোলিং শুরু করেন মাশরাফি। লঙ্কানদের হয়ে ইনিংস শুরু করতে নামেন দাসুনকা গুনাথিলাকা এবং উপুল থারাঙ্গা। ইনিংসের প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই ম্যাশের বলে এলবির ফাঁদে পড়েন গুনাথিলাকা। রিভিউ নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি তার। দলীয় শূন্য রানেই প্রথম উইকেট হারায় লঙ্কানরা।

এরপর অভিষেকে নিজের প্রথম উইকেট তুলে নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। মিরাজের বলে ৪ রান করা কুশাল মেন্ডিস শুভাগত হোমের হাতে ধরা পড়েন। আর নিজের প্রথম ওভারেই লংকান অধিনায়ক উপল থারাঙ্গাকে ফেরান পেসার তাসকিন আহমেদ। থারাঙ্গা ১৯ রান করে মাশরাফির হাতে ধরা পড়েন।

আজ শনিবার রনগিরি ডাম্বুলা ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে শুরু হয় বিকেল তিনটায়। টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন লঙ্কান দলপতি উপল থারাঙ্গা। তবে, টাইগার দলপতি মাশরাফি বিন মুর্তজা জানান, টস জিতলে তিনি ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্তই নিতেন।

টসে হেরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ তামিম ইকবালের সেঞ্চুরি এবং সাকিব ও সাব্বিরের দুর্দান্ত অর্ধশতকে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ৩২৪ রান করে। তামিম ১২৭, সাকিব ৭২ এবং সাব্বির ৫৪ রান করেন।

ডাম্বুলা স্টেডিয়ামে প্রথম জয়ের খোঁজে ব্যাট করতে নামেন দুই ওপেনার তামিম ও সৌম্য সরকার। সৌম্য ব্যক্তিগত ১০ রান করে সুরঙ্গা লাকমালের বলে সাজঘরে ফেরেন। সৌম্য সরকারের বিদায়ে দলীয় ২৯ রানে প্রথম উইকেটের পতন ঘটে। শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে তামিম-সাব্বির যোগ করেন আরও ৯০ রান। দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হয়ে ফেরেন হাফ-সেঞ্চুরি করা সাব্বির। দ্রুত বিদায় নেন মুশফিকও। এরপর শত রানের (১৪৪) জুটি গড়েন তামিম-সাকিব।

আগে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ পেয়ে টাইগারদের হয়ে ইনিংসের শুরু করতে নামেন বাঁহাতি ওপেনার তামিম ইকবাল এবং সৌম্য সরকার। শুরুটা সতর্ক থেকেই করেছিলেন তামিম-সৌম্য। তবে, ইনিংসের পঞ্চম ওভারে বিদায় নেন সৌম্য। লাকমলের করা চতুর্থ বলে ফ্লিক করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে দিনেশ চান্দিমালের গ্লাভসবন্দি হন তিনি। সাজঘরে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ১০ রান। ১৩ বলের ইনিংসে দুটি চার হাঁকান সৌম্য। দলীয় ২৯ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

১৯তম ওভারে টাইগারদের দলীয় শতক পূর্ণ হয়। ২০তম ওভারে সাব্বির ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ অর্ধশতকের দেখা পান। ৪৮ বলে ৯টি চারের সাহায্যে ৫০ করেন সাব্বির। তবে, ইনিংসের ২২তম ওভারে বিদায় নিতে হয় সাব্বিরকে। গুনারত্নের বলে থারাঙ্গার তালুবন্দি হয়ে ফেরেন ৫৬ বলে ৫৪ রান করা সাব্বির। দশটি বাউন্ডারিতে তিনি এই ইনিংসটি সাজান। দলীয় ১১৯ রানের মাথায় দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তামিম-সাব্বির মিলে স্কোরবোর্ডে যোগ করেন ৯০ রান।

সাব্বিরের বিদায়ে মাঠে আসেন মুশফিক। সান্দাকানের করা ২৩তম ওভারে বোলারের হাতেই ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। সাজঘরে ফেরার আগে মুশফিকের ব্যাট থেকে আসে ১ রান। দলীয় ১২০ রানের মাথায় তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ২৬তম ওভারে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩৫তম অর্ধশতকের দেখা পান তামিম। পরে সেটি ক্যারিয়ারের অষ্টম শতকে রূপ নেয়। তিনি পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন ৭৫ বলে, তাতে ছিল ছয়টি চারের মার। শতক ছুঁয়েছেন ১২৭ বলে, ১২টি চারের সাহায্যে। শ্রীলঙ্কা সফরে মোরাতুয়ায় বোর্ড প্রেসিডেন্ট একাদশের বিপক্ষে তামিম করেছিলেন ১৩৬ রান। এরপর গল টেস্টে করেছিলেন ৫৭ ও ১৯ রান। কলম্বো টেস্টে করেছিলেন ৪৯ ও ম্যাচ জেতানো ৮২ রান।

দলীয় ১২০ রানের মাথায় তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সাময়িক বিপর্যয় কাটিয়ে সাকিব-তামিমের ব্যাটে এগুতে টাইগাররা। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩৩তম অর্ধশতক হাঁকিয়ে সাকিব বিদায় নেন ৭২ রান করে। ৭১ বলে চারটি চার আর একটি ছক্কা হাঁকান সাকিব। দলীয় ২৬৪ রানের মাথায় বাংলাদেশ চতুর্থ উইকেট হারায়। সাকিব-তামিম জুটি থেকে আসে ১৪৪ রান।

ওয়ানডে ক্যারিয়ারের অষ্টম শতক হাঁকিয়ে ১২৭ রানে বিদায় নেন তামিম। কুমারার বলে ইনিংসের ৪৮তম ওভারে গুনাথিলাকার হাতে ধরা পড়েন তামিম। ১৪২ বলে ১৫টি চারের পাশাপাশি তামিমের ইনিংসে ছিল একটি ছক্কার মার। দলীয় ২৮৯ রানের মাথায় টাইগারদের পঞ্চম ব্যাটসম্যান হয়ে ফেরেন তামিম।

শেষদিকে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ক্যামিয় ইনিংস উপহার দেন। ১৩ বলে তাদের জুটিতে আসে ৩৫ রান। সৈকত ৯ বলে ২৪ এবং রিয়াদ ৭ বলে ১৩ রান করেন। শেষ ১০ ওভারে টাইগার ব্যাটসম্যানরা স্কোরবোর্ডে ১০৯ রান জমা করে।

এ ম্যাচের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডেতে অভিষেক হয় অলরাউন্ডার মেহেদি হাসান মিরাজের। তার মাথায় ওয়ানডে অভিষেকের ক্যাপ পড়িয়ে দেন আরেক অফস্পিনিং অলরাউন্ডার মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ১৯ বছর বয়সী মিরাজ বাংলাদেশের ১২৩তম ওয়ানডে ক্রিকেটার। তবে ব্যাট হাতে নামার সুযোগ হয়নি তার। বল হাতে অবশ্যই অভিষেক ম্যাচ স্মরণীয় করে রাখতে চাইবেন এই অলরাউন্ডার।

টেস্টে সিরিজ ড্র (১-১) হওয়ার পর এই তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দিকে তুমুল আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে দুই দল। ডাম্বুলায় আজ থেকে শুরু হওয়া ওয়ানডে সিরিজে বাড়তি শক্তি বদলে যাওয়া টাইগারদের পারফর্ম। শেষবার এই মাঠে ২০১০ সালের এশিয়া কাপে খেলেছিল লাল-সবুজরা। সে আসরের সবক’টি ম্যাচই বাজে ভাবে হারতে হয়েছিল বাংলাদেশকে।

তবে, ২০১০ সালের তুলনায় এই বাংলাদেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন। ক্রিকেট বিশ্বকে এখন আর চমকিয়ে দিতে হয় না টাইগারদের।যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েই জায়ান্ট দলগুলোর বিপক্ষে জয় ছিনিয়ে নেয়। মাশরাফির নেতৃত্বে এই বাংলাদেশ এখন অনেক পরিণত আর অভিজ্ঞ।

উল্লেখ্য, ডাম্বুলার এই মাঠে ২৮ মার্চ দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেটি অনুষ্ঠিত হবে ১ এপ্রিল কলম্বোতে।

বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, সাব্বির রহমান, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মাশরাফি বিন মুর্তজা, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ এবং মেহেদি হাসান মিরাজ।

শ্রীলঙ্কা একাদশ: উপল থারাঙ্গা, দানুসকা গুনাথিকালা, দিনেশ চান্দিমাল, আসেলা গুনারত্নে, কুশল মেন্ডিস, সাচিথ পাথিরানা, থিসারা পেরেরা, সুরাঙ্গা লাকমাল, লাকসান সান্দাকান, মিলিন্দা সিরিবর্ধানে, লাহিরু কুমারা।

x

Check Also

ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬ দুর্নীতি সহায়ক, লুটেরাদের পুনর্বাসন আত্মঘাতী: টিআইবি

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক সদ্য পাস হওয়া ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনার ...