Don't Miss
Home / আইন আদালত / দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার খালাস চেয়ে আবেদন

দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার খালাস চেয়ে আবেদন

এমএনএ রিপোর্ট : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার খালাস চেয়ে আবেদন করেছেন তার প্রধান আইনজীবী আবদুর রেজাক খান। আজ বুধবার এ মামলায় চতুর্থ দিনের মতো যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে।
আবদুর রেজাক আদালতকে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধ অভিযোগ প্রমাণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। মামলার এজাহারে তার বিরুদ্ধে কোনো বক্তব্য নেই, সাক্ষ্য প্রমাণ নেই। কোনো সাক্ষীও তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি। খালেদা জিয়া এই ট্রাস্টের টাকা উঠিয়েছেন বা আত্মসাৎ করেছেন এ রকম কোনো তথ্যের প্রমাণ দুদকের পক্ষ থেকে দেখানো সম্ভব হয়নি। কিছু ছায়া প্রমাণ দিয়ে মামলা সাজানো হয়েছে, যার কোনো ভিত্তি নেই।
রেজাক খানের যুক্তি-তর্ক উপস্থাপনের পর খালেদা জিয়ার অপর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন। আগামীকালও তিনি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন। তিনি আদালতে বলেন, এটি একটি রাজনৈতিক মামলা। খালেদা জিয়াকে চোর বানানোই এ মামলার উদ্দেশ্য।
রেজাক আরও বলেন, সেনা সমর্থিত সরকারের সময় এ মামলা হয়। এ সরকারের আমলেও তার বিরুদ্ধে অনেক মামলা দেওয়া হয়েছে। মামলার ভারে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে জনসম্মুখে হেয় করার জন্য মানহানিকর বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে ক্ষমতাসীনরা। যা বিচারের ওপর হস্তক্ষেপের শামিল।
এর আগে বেলা সোয়া ১১টার দিকে খালেদা জিয়া আদালতে আসেন। মাঝখানে ১৫ মিনিট বিরতি দিয়ে বেলা ২টা পর্যন্ত পুরান ঢাকার বকশীবাজারে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৫ এর বিচারক আখতারুজ্জামান এ শুনানি গ্রহণ করেন।
খালেদা জিয়া আত্মপক্ষ সমর্থন করে আদালতে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তা আদালতকে আজকেও পড়ে শোনান রেজাক খান।
পরে রেজাক খান সাংবাদিকদের বলেন, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলা। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ নেই।

১৯ ডিসেম্বর এ মামলার যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষ ১৯ ডিসেম্বর তাদের যুক্তি উপস্থাপন শেষ করে খালেদার সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন করেন। ২০ ডিসেম্বর খালেদার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন আইনজীবী আব্দুর রেজাক খান।
অপরদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় যুক্তি উপস্থাপনের জন্যও একই দিন ধার্য করেন আদালত। মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী (পলাতক), হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর সাবেক নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় অপর একটি মামলা করে দুদক। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।
এ মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়াও অপর আসামিরা হলেন- মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।
x

Check Also

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ফাইল অনুমোদন নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, অনিয়ম প্রমাণে চ্যালেঞ্জ আসিফ মাহমুদের

এমএনএ প্রতিবেদক স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কোনো ফাইলে অনিয়ম হয়ে থাকলে তা সুনির্দিষ্টভাবে প্রকাশ ও প্রমাণ ...