ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবে ঐক্যফ্রন্ট
Posted by: News Desk
November 15, 2018
এমএনএ রিপোর্ট : কামাল হোসেনের নেতৃত্বে সাত দফা দাবিতে জোট বাঁধা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বিএনপির প্রতীক ‘ধানের শীষ’নিয়ে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।
মতিঝিলে কামাল হোসেনের চেম্বারে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জোটের নেতাদের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ সিদ্ধান্ত জানান ফ্রন্টের অন্যতম নেতা নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।
তিনি বলেন, আজকে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আমরা যতগুলো দল মিলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট করেছি, আমরা সকলে একটি কমন প্রতীকে নির্বাচন করব। সেই কমন প্রতীক হবে ধানের শীষ।
আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কিন্তু সিদ্ধান্ত হয়নি।
এ সময় পুলিশের গাড়িতে আগুন ও ভাঙচুরের সঙ্গে সরকারি দলের সদস্যরা যুক্ত বলে দাবি করে সরকার বিরোধী দলকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আহ্বান জানানো হয়।
নির্বাচন পেছানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মান্না বলেন, আমরা যখন সরকারের সঙ্গে দেখা করি প্রধানমন্ত্রীসহ সবাই বলেন, নির্বাচন কমিশনের ব্যাপারে আমাদের কিছু বলার নেই। আমরা নির্বাচন কমিশনারের কাছে গিয়ে যা বলেছি নির্বাচন পেছানোর জন্য তাতে অসংখ্য যুক্তি আছে। বিশেষ করে ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে সারা ইউরোপ আমেরিকায় উৎসব হয়। এখানে আমাদের পর্যবেক্ষকদের আসার কথা থাকলেও তারা আসতে পারবেন না। এতে সারাবিশ্ব থেকে এক ধরনের বিচ্ছিন্ন করে ভোট করার এই প্রচেষ্টা ঠিক নয়।
তিনি আরও বলেন, গতকাল বুধবার বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশ বাহিনীর নির্মম হামলার নিন্দা জানাচ্ছি। একদিকে সরকার পক্ষ চারদিন ধরে সমস্ত রাস্তাঘাট বন্ধ করে একটি উৎসব করলো। সেই উৎসবের ফসলে দুজন মারা পর্যন্ত গেলো। তখন পুলিশ কোনও কিছু করেনি৷ অথচ এদিকে দেখা গেলো, বিরোধীদল বিএনপির মনোনয়নপত্র বিতরণ উপলক্ষে যখন নেতাকর্মীরা জমা হয়েছে তার একদিন আগে নির্বাচন কমিশন সড়ক পরিষ্কার রাখতে বিবৃতি দিলেন এবং তার পরদিনই এই হামলা হলো। আমরা মনে করি, নির্বাচন কমিশনের এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত ছিল।
মান্না বলেন, আমাদের কাছে প্রতিয়মান হয়েছে যে, এই হামলার পর পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য সরকারি দলের হাত আছে। অসমর্থিত কিন্তু বিশ্বাসযোগ্য খবরে জানা গেছে যে, যুবলগী, ছাত্রলীগের কর্মীরা হেলমেট পড়ে তৎপর ছিল। আমরা এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করছি ও নিন্দা জানাই।
তিনি বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারছি বিরোধীদল যেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারে সেই উসকানি দিচ্ছে সরকার। আমরা এর প্রতিবাদ করবো। আমাদের সিদ্ধান্ত সব রকমের বাধা উপেক্ষা করে নির্বাচন করবো। সেই নির্বাচনে একটা ভোট বিপ্লব হবে এই স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে।
বিএনপিসহ কয়েকটি নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত দল নিয়ে গত ১৩ অক্টোবর গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে সাত দফা দাবিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়।
সংসদ ভেঙে, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি ছিল তাদের ওই সাত দফার মধ্যে।
এসব দাবি নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দুই দফা সংলাপে বসেছিলেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। সেখানে কোনো সমঝোতা না হলেও তারা ‘আন্দোলনের অংশ হিসেবে’নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন।
আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় একাদশ সংসদ নির্বাচন পোছানোর জন্য গতকাল বুধবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গেও বৈঠক করে ঐক্যফ্রন্ট। ওই বৈঠক শেষে ঐক্যফ্রন্টের মূল নেতা কামাল হোসেন আশ্বস্ত হওয়ার কথা বললেও ইসির নিরপেক্ষতা নিয়ে জোটের সবচেয়ে বড় দল বিএনপির সংশয় কাটেনি।
আজকের বৈঠকে ড. কামাল হোসেন, জোটের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচন ধানের শীষ করবে ঐক্যফ্রন্ট প্রতীকে 2018-11-15