এমএনএ শিল্প ও বাণিজ্য ডেস্ক : ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকা ৭২ ঘণ্টার ধর্মঘটে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের পণ্য ডেলিভারি কার্যক্রমে নেমে এসেছে স্থবিরতা। উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আমদানিকারক, রফতানিকারক, শিপিং এজেন্টসহ বন্দর ব্যবহারকারীরা।
ধর্মঘটে বন্ধ রয়েছে প্রাইম মুভার (ট্রেইলার) চলাচল। ফলে বিভিন্ন বেসরকারি কনটেইনার ডিপোতে (অফডক) থাকা রফতানি পণ্য পাঠানো যাচ্ছে না বন্দরে। অন্যদিকে আটকা পড়েছে তৈরি পোশাক কারখানার বিভিন্ন কাঁচামালের চালানও।
ডিপো মালিকদের সংগঠন বিকডা’র সচিব রুহুল আমিন সিকদার জানান, ১৯টি অফডকে ৭৮ হাজার ৭০০ কনটেইনার ধারণক্ষমতা রয়েছে। এর বিপরীতে বর্তমানে রফতানি পণ্যভর্তি ৯ হাজার ৭০০, আমদানি পণ্যভর্তি ৮ হাজার ৩০০ ও খালি ৩৩ হাজার কনটেইনার আছে। ধর্মঘটের কারণে সব ধরনের কনটেইনার পরিবহন বন্ধ রয়েছে।
বন্দর কর্মকর্তারা বলছেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে কর্মবিরতি শুরু হলে বন্দরের ভেতরে কোনো পণ্যবাহী গাড়ি প্রবেশ করেনি। পাশাপাশি বন্দরের ভেতর থাকা গাড়িগুলোও পণ্য নিয়ে বন্দর ছেড়ে যেতে পারেনি। তবে এ কর্মবিরতিতে কনটেইনার জটের আশংকা নেই বন্দরে।
বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, বন্দরের ভেতর এখন ৩৭ হাজার কনটেইনার রয়েছে। আরো ১২ হাজার কনটেইনার রাখার জায়গা আছে। তাই এখনই কনটেইনার জট তৈরির সম্ভাবনা দেখছি না। তবে কর্মবিরতির হার বাড়তে থাকলে, পণ্য খালাস কমে গেলে জট তৈরি হবার সম্ভাবনা থাকবে।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) প্রথম সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, করোনায় লোকসান গুনে সময় কাটিয়েছেন পোশাক কারখানার মালিকরা। এখন সেই লোকসান কাটিয়ে ওঠার সময়। কিন্তু এমন মুহূর্তে কর্মবিরতির ঘোষণা মোটেও সমীচীন নয়।
বন্দর ব্যবহারকারীদের একজন বলেন, করোনাকালে বিশ্বের অনেক বন্দরের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। কিন্তু করোনায় যে ধকলের সম্মুখীন হতে হয়েছে তা সামলানোর আগেই পরিবহন ধর্মঘটে বন্দরে অচলাবস্থা সৃষ্টি আত্মঘাতী। এ ধর্মঘটের কারণে তৈরি পোশাক রফতানির লিড টাইম, বন্দরে জাহাজের গড় অবস্থান ইত্যাদিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
১৫ দফা দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে ৭২ ঘণ্টার এ ধর্মঘট শুরু হয়। উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হচ্ছে- গাড়ির কাগজপত্র চেকিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করতে হবে, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের অগ্রীম আয়কর নেওয়া যাবে না; এ পর্যন্ত নেয়া অগ্রিম আয়কর ফেরত দিতে হবে, ১০ বছর ধরে বন্ধ থাকা ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান চালকদের লাইসেন্স অবিলম্বে চালু করতে হবে ইত্যাদি।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

