Don't Miss
Home / জাতীয় / পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা: ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা: ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

আদালত প্রতিবেদক

রাজধানীর পল্লবী এলাকায় আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় এক ব্যক্তি ও তাঁর স্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার আদালত। ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় রোববার এ রায় ঘোষণা করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তার। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল একই সঙ্গে সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, সাক্ষীদের বক্তব্য, তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁর অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে।

আদালত বলেন, গত ১৯ মে সকাল ৯টা থেকে ১১টার মধ্যে সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যা করেন। ঘটনার পর তিনি শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। এ সময় তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ফ্ল্যাটে উপস্থিত ছিলেন এবং অপরাধ ঠেকানোর চেষ্টা না করে সহযোগিতা করেন বলে আদালত উল্লেখ করেন।

ট্রাইব্যুনাল বলেন, দুই আসামিই একই অপরাধে জড়িত এবং তাঁদের একই ধরনের শাস্তি প্রাপ্য।

রায় ঘোষণার আগে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, শিশুদের ওপর যৌন সহিংসতা, নির্যাতন বা হত্যার মতো অপরাধ শুধু একটি পরিবারকে নয়, পুরো সমাজের বিবেক, মানবতা ও আইনের শাসনের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়।

আদালত বলেন, শিশুদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি সভ্য রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব।

বিচারক বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ, চিকিৎসা প্রতিবেদন ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে বিচারিক নিরপেক্ষতার সঙ্গে আদালত এ রায় দিয়েছেন।

আদালত আরও বলেন, মামলার তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম অল্প সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তদন্ত সংস্থা দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে এবং রাষ্ট্রপক্ষ গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের আদালতে উপস্থাপন করে বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ভূমিকা রেখেছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৯ মে পল্লবীর একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর সোহেল রানা শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। পরে একই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

২০ মে সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার ঢাকার একটি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ১ জুন তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

সাক্ষ্যগ্রহণ, যুক্তিতর্ক ও অন্যান্য বিচারিক কার্যক্রম শেষে রোববার রায় ঘোষণা করা হয়।

রায় ঘোষণার পর দুই আসামিকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

x

Check Also

মৌসুমি বায়ু অগ্রসর হচ্ছে কক্সবাজার উপকূলে, বৃষ্টি-বজ্রপাত বাড়ার আশঙ্কা; সাত জেলায় প্রাণ গেল ৮ জনের

এমএনএ প্রতিবেদক আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু কক্সবাজার উপকূল পর্যন্ত অগ্রসর হতে পারে ...