Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / পুঁজিবাজারে আরও বড় ধরনের দরপতনের আশঙ্কা

পুঁজিবাজারে আরও বড় ধরনের দরপতনের আশঙ্কা

এমএনএ অর্থনীতি রিপোর্ট : রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাকে কেন্দ্র করে আরও বড় ধরনের ধস হতে পারে—এমন আশঙ্কাতে পুঁজিবাজারে সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনের লেনদেনেও বড় ধরনের দরপতন অব্যাহত রয়েছে। এ অবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও বাজারকে ঠিকভাবে সাপোর্ট দিতে পারছে না তারল্যের অভাবে। গেল সপ্তাহে ব্যাংকের ঋণ-আমানত অনুপাত (এডিআর) কমানোর ফলে পুঁজিবাজারে তারল্য কমতে শুরু করে। ফলে দরপতন ঠেকানোর মতো পর্যাপ্ত সক্ষমতাও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নেই। তবে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বা এডিআর কমানোর আশঙ্কায় এতটা দরপতনকে অতিরিক্ত প্রভাবিত (ওভার রিঅ্যাক্ট) হওয়া বলে আখ্যা দিচ্ছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
আজ সোমবার দিনের লেনদেনের শুরুটা অবশ্য ইতিবাচকভাবেই হয়েছিল। গতকাল রবিবারের ব্যাপক দরপতনের পর সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় দিনের লেনদেন শুরুর পর প্রথম সাত মিনিট পুঁজিবাজারে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। সকাল ১০টা ৩৭ মিনিটে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ‘ডিএসই-এক্স’ আগের দিনের চেয়ে ২১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৯০৯ পয়েন্ট ওঠে। তবে এরপরই শেয়ার বিক্রির চাপ বেড়ে যাওয়ায় পুনরায় পড়তে শুরু করে দর।
এক পর্যায়ে লেনদেন শুরুর ২২ মিনিট পর সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে ডিএসই-এক্স সূচক আগের দিনের চেয়ে ১১৭ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৭৭১ পয়েন্টে নেমে আসে। সে সময় দর হারিয়ে লেনদেন হচ্ছিল প্রায় ৯০ শতাংশ শেয়ার।
আজ সোমবার বেলা ১২টা নাগাদ সে পরিস্থিতি অবশ্য কিছুটা উন্নতি হয়। ওই সময়ে ডিএসই-এক্স সূচক আগের দিনের চেয়ে ৮০ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৮০৭ পয়েন্টে অবস্থান করছিল। এ সময় পর্যন্ত লেনদেন হওয়া ৩১৭ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩৬টির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দর হারায় ২৫৫টি। আর আগের দিনের দরে অপরিবর্তিত থেকে বিক্রি হয় ২৬টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। উল্লেখিত সময় পর্যন্ত ডিএসইতে ১৭০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।
এদিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মতো চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও আজ সোমবার ব্যাপক দরপতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ডিএসইর মতো সিএসইতে আজ সোমবার দিনের শুরুতে সূচকে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গিয়েছিল। তবে তারপরই ফের শুরু হয় দরপতন।
আজ সোমবার বেলা ১২টা পর্যন্ত সিএসইতে ১৫৯টি শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়ে ১২টি, দর কমে ১৪০টি ও আগের দিনের দরে লেনদেন হয় ৭টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এ সময় সিএসই ব্রড ইনডেক্স সিএসই-এক্স আগের দিনের চেয়ে ১৪১ পয়েন্ট কমে ১০ হাজার ৮৬৪ পয়েন্টে অবস্থান করছিল। এছাড়া নির্বাচিত কোম্পানিগুলোর সূচক সিএসই ৩০ আগের দিনের চেয়ে ১৭০ পয়েন্ট হারিয়ে ১৬ হাজার ৫১২ পয়েন্টে অবস্থান করছিল।
উল্লেখিত সময় পর্যন্ত সিএসইতে ৭ কোটি টাকারও বেশি শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড কেনাবেচা হয়।
এদিকে গতকাল রবিবারের মতো আজ সোমবারও রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগকারী সংস্থা আইসিবি ব্যাপক পরিমাণে শেয়ার কিনে দরপতন ঠেকানোর চেষ্টা করছে। গতকাল রবিবার আইসিবি প্রায় ৩২ কোটি টাকা শেয়ার কিনেছিল। তবে তারপরও ঠেকানো যায়নি ব্যাপক দরপতন।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্যে দেখা গেছে, গত রবিবার ডিএসই’র সার্বিক মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১৩৩ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৮৮৮ পয়েন্টে নেমে এসেছে। এর আগে ২০১৩ সালের ৯ জুন ডিএসইএক্স কমেছিল ১৪৫ পয়েন্ট। অর্থাত্ গত প্রায় সাড়ে চার বছরের মধ্যে গত রবিবার সর্বোচ্চ দরপতন হলো। এদিকে পুঁজিবাজারে এতোটা দরপতন হলেও দাপট কমেনি লোকসানি কোম্পানিগুলোর। গতকাল রবিবার বাজারে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে দীর্ঘদিনের লোকসানি কোম্পানি দুলামিয়া কটনের। কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। এছাড়া ‘জেড’ ক্যাটাগরির আরও কয়েকটি কোম্পানি ছিল দর বৃদ্ধির তালিকায়। গতকাল বাজারে ৩৩৬টি কোম্পানির লেনদেন হয়েছে, এর মধ্যে ৩০২টি অর্থাত্ ৯০ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে।
দরপতনের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ড. আবু আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, একদিনে এত বেশি সূচক কমে যাওয়ার তেমন কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছি না। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক এডিআর (ঋণ আমানত অনুপাত) কমানোর কারণে ব্যাংকে আমানতের সুদের হার বাড়বে। ফলে পুঁজিবাজার থেকে কিছু টাকা ব্যাংকে চলে যাওয়া স্বাভাবিক। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রা সরবরাহে কিছুটা সংকোচনের ইঙ্গিত দিয়েছে। এর প্রভাব রয়েছে বাজারে। আর খালেদা জিয়ার মামলার রায়কে কেন্দ্র করে দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, বাজারে এরও নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। তবে ২০১৪ সালে রাজনীতিতে ব্যাপক অস্থিতিশীলতা দেখা দিলেও বাজারে এত দরপতন হয়নি। তাই এসব কারণে এত বেশি দরপতন হওয়ার কথা নয়।
এদিকে চারদিনে ২৮৮ পয়েন্ট পড়ে যাওয়াকে বাজার ধস বলা যায় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে আবু আহমেদ বলেন, ধস হওয়ার আগে বাবল হতে হয়, বাজারে এমন কোনো বাবল হয়নি। তাছাড়া টানা চার/পাঁচদিন ব্যাপক দরপতন হলে তাকে ধস বলা যেতে পারে। সে হিসেবে এখনই একে বাজার ধস বলা ঠিক হবে না। কারণ গত চারদিনের প্রতিদিনই বড় ধরনের দরপতন হয়নি।
আইডিএলসির দৈনন্দিন বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত রবিবার বাজারে দরপতনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল ব্যাংক ও ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (এনবিএফআই)। এনবিএফআই খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম গড়ে ৩ দশমিক ৮০ শতাংশ কমেছে। আর ব্যাংকিং খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম কমেছে গড়ে ৩ দশমিক ২০ শতাংশ।
বাজারে ব্যাপক দরপতনের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে এমটিবি ক্যাপিটালের সিইও এবং বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব খায়রুল বাশার বলেন, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও মুদ্রানীতিকে কেন্দ্র করে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক (প্যানিক) তৈরি হয়েছে। এতে সূচক কমে যাচ্ছে। তাছাড়া ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর অনেকেই এক্সপোজারের (শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের নির্দিষ্ট সীমা) কারণে বিনিয়োগ বাড়াতে পারছে না। ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার ছেড়ে দিলেও তারা বাজারকে সাপোর্ট দিতে পারছে না।
বাজার পতনের কারণ সম্পর্কে ব্র্যাক ইপিএলের হেড অব পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্ট সৈয়দ আদনান হুদা বলেন, বাজারে কিছুটা তারল্য সংকট রয়েছে। এডিআর কমানোর ফলে তারল্য কমতে শুরু করেছে। তাছাড়া রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার আশঙ্কাও রয়েছে। তবে এসবের জন্য এত বেশি দরপতন কাম্য নয়। বাজার অতিরিক্ত প্রভাবিত (ওভার রিঅ্যাক্ট) হচ্ছে।
জরুরি বৈঠক:এদিকে পুঁজিবাজারে সাম্প্রতিক দরপতনের পেছনে আরও পতনের গুজব এবং বিনিয়োগ বাড়াতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্ষমতার অভাবকে দায়ী করছে ব্রোকার হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো। গত রবিবার বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশন (বিএমবিএ) এবং ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে শীর্ষ ৩০ ব্রোকারকে নিয়ে জরুরি বৈঠক শেষে ডিবিএ সভাপতি মোস্তাক আহমেদ সাদেক সাংবাদিকদের বলেন, বাজার খারাপ হলে প্রাতিষ্ঠানিক বড় বিনিয়োগকারীদের থেকে যে সাপোর্ট পাওয়া যেত এবার সেটা পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, অতীতে বহু রাজনৈতিক ঘটনা নিয়ে অনেক গুজবের ঘটনা ঘটেছে। তবে এবারের ঘটনা একটু বেশি আতঙ্ক (প্যানিক) সৃষ্টি করেছে।
এসময় বিএমবিএ সভাপতি মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে যেসব সমস্যা হচ্ছে; সেগুলো সমাধান করতে হবে। বিশেষ করে এক্সপোজারের সমস্যা। কারণ আমরা বাজারকে দীর্ঘ মেয়াদে স্থিতিশীল করতে চাই। সাময়িক সাপোর্ট দিয়ে বাজারকে ইতিবাচক করা সঠিক সমাধান নয়।
x

Check Also

টানা ৫ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালানো যাবে না, সতর্ক করল বিআরটিএ

এমএনএ প্রতিবেদক একটানা দীর্ঘ সময় গণপরিবহণ চালানোর ফলে চালকদের ক্লান্তি, ঝিমুনি ও ঘুমের প্রবণতা বাড়ছে, ...