এমএনএ রিপোর্ট : রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারকে চাপ দিতে প্রধানমন্ত্রীকে চীন ও ভারত সফর করার পরামর্শ দিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ‘সরকারকে দ্রুততার সঙ্গে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর জন্য কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীকেই বিভিন্ন দেশে যেতে হবে।’
আজ রবিবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনের সেমিনার হল রুমে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন। সংগঠনের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী মহিলাদল।
সংগঠনের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন-বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কবি আব্দুল হাই শিকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নূরে আরা সাফা, মহিলা দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ হেলেন জেরিন খান, ঢাকা জেলা মহিলা দলের আহ্বায়ক সাবিনা ইয়াসমিন, সাবেক এমপি রওশন আরা ফরিদ, চট্টগ্রাম জেলা মহিলা দলের সভাপতি জেলী চৌধুরী এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক রহিমা শরীফ মায়া প্রমুখ।
গতকাল শনিবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিম ১৪ দলের বৈঠক শেষে বিএনপির উদ্দেশে বলেন, সমালোচনা না করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে সহযোগিতা করুন। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই আহ্বানের একদিন পর ফখরুল এ কথা বললেন।
আলোচনা সভায় ফখরুল বলেন, একটি আগ্রাসী শক্তি আজকে আমাদের দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত করেছে। মিয়ানমার তার নাগরিকদের বিতাড়িত করে বাংলাদেশে ঠেলে দিয়ে আমাদের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ করছে। এই সংকট সমাধানে দ্রুততার সঙ্গে কূটনৈতিক সমস্ত প্রক্রিয়া গ্রহণ করতে হবে। মিয়ানমার সরকারকে অবশ্যই বাধ্য করতে হবে, তারা যেন রোহিঙ্গাদের উচ্ছেদ প্রক্রিয়া বন্ধ করে। তারা যেন তাদের নাগরিকত্ব দেয় এবং এখানে থেকে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারকে চাপ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চীন-ভারতসহ বিভিন্ন দেশ সফরেরও পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, দরকার হলে প্রধানমন্ত্রীকে বিভিন্ন দেশে যেতে হবে। ভারত ও চীন মিয়ানমার সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে। তাদের কাছে যেতে হবে, তাদের বোঝাতে হবে যে এটা কী ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। মানবতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া ঠিক হবে না। কূটনৈতিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান হতে পারে।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া গেলে সমস্যার সমাধান আসবে। তিনি দাবি করেন, জিয়াউর রহমান অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সেই সময় কূটনৈতিক কৌশলে চাপ সৃষ্টি করে মিয়ানমার সরকারকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য করেছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার রোহিঙ্গা ইস্যুতে কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে তারা ভয় পাচ্ছে। সরকার কিছুই করছে না। তারা বলে যাচ্ছে, রোহিঙ্গাদের সঙ্গে অস্ত্র ও জঙ্গি আসছে। যা আমাদেরকেও উৎকণ্ঠিত এবং আতঙ্কিত করছে।
আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের মতো আর কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। যে সরকার নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনা করবে। এছাড়া নির্বাচন কমিশনও নিরপেক্ষ হতে হবে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

