প্রাথমিকে চলতি বছর থেকে শতভাগ সৃজনশীল প্রশ্ন
Posted by: News Desk
February 20, 2018
এমএনএ ক্যাম্পাস রিপোর্ট : প্রাথমিকে চলতি বছর থেকে সব বিষয়ে শতভাগ যোগ্যতাভিত্তিক বা সৃজনশীল প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হবে। গত বছর প্রাথমিকে ৮০ শতাংশ যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্ন ছিল। এবার সেখান থেকে বাড়িয়ে শতভাগ করা হলো। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক মো. শাহ আলম স্বাক্ষরিত এক আদেশে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা (পিইসি) ২০১৮ এর প্রশ্নপত্রের কাঠামো ও নম্বর বিভাজন প্রকাশ করা হয়। নেপ-এর ওয়েবসাইটে বিস্তারিত নম্বর বিভাজন প্রকাশ করা হয়েছে।
পিইসির পাশাপাশি ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষাও নিয়ে থাকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। এ দুই পরীক্ষায় প্রায় সাড়ে ৩৩ লাখ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। পিইসিতে সৃজনশীল হলেও ইবতেদায়ির পরীক্ষা যোগ্যতাভিত্তিক বা সৃজনশীলে নেয়া হয় না। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক একেএম ছায়েফউল্যা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘জাতীয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সনাতন পদ্ধতিতে আমরা এ পরীক্ষা নিয়ে থাকি।’
দেশের প্রাথমিক শিক্ষার কারিকুলাম যোগ্যতাভিত্তিক, আর মাধ্যমিক স্তরের কারিকুলাম দক্ষতাভিত্তিক। অর্থাৎ, প্রাথমিক শিক্ষা শেষে একজন শিক্ষার্থী কতটা যোগ্যতা অর্জন করবে সেটা নির্ধারণ করে প্রাথমিকের কারিকুলাম তৈরি করা হয়েছে। সে অনুযায়ী ১৩ উদ্দেশ্যের আলোকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে একজন শিক্ষার্থী ২৯টি দক্ষতা অর্জন করবে বলে নির্ধারণ করা হয়। পঞ্চম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষায় মূলত নির্ধারিত ওই ২৯টি যোগ্যতার বিষয় সামনে রেখেই প্রশ্ন তৈরি করা হয়।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের কারিকুলাম আলাদা হলেও উভয় স্তরের পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে সৃজনশীল পদ্ধতিতে। মাধ্যমিকের ক্ষেত্রে সৃজনশীল পদ্ধতি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হলেও প্রাথমিকের ক্ষেত্রে তা করা হয়নি। তবে পরীক্ষার প্রশ্নের কাঠামোতে সৃজনশীল পদ্ধতিই অনুসরণ করা হয়। সেই হিসেবে ২০১২ সালে পিইসি পরীক্ষায় ১০ শতাংশ প্রশ্ন সৃজনশীলে করার মাধ্যমে যে ‘সৃজনশীলকরণ’ শুরু হয় তা এ বছর পূর্ণ হচ্ছে। ২০০৯ সালে কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই দেশে পিইসি পরীক্ষা শুরু হয়। ঝরেপড়া রোধসহ নানা সুবিধার কথা বলা হলেও এ পরীক্ষা এখন অভিভাবকদের গলার কাঁটা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা বলে আসছেন। তারা এ পরীক্ষা বাতিলের দাবিও করে আসছেন।
চলতি বছর শতভাগ প্রশ্ন যোগ্যতাভিত্তিক (সৃজনশীল পদ্ধতি) করা সংক্রান্ত নেপের সার্কুলারে বলা হয়, ‘২০১৮ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের কাঠামো ও নম্বর বিভাজন জাতীয় কর্মশালার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক এখন থেকে প্রতি বিষয়ে শতভাগ যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্ন হবে।
ওই সার্কুলারের সঙ্গে প্রত্যেক বিষয়ের প্রশ্ন কাঠামো এবং নম্বর বিন্যাসও দেয়া হয়েছে। বাংলায় ১৪টি, ইংরেজিতে ১৩টি, গণিতে ১০টি, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, প্রাথমিক বিজ্ঞান ও ধর্ম বিষয়ে ৩টি করে থাকবে। এর মধ্যে কিছু প্রশ্ন বই থেকে আসবে। বাকিগুলো বাইরের উদ্দীপক (দৃষ্টান্ত) উল্লেখ করে সেখান থেকে বইয়ে প্রদত্ত গল্পে বা পাঠের আলোকে প্রশ্ন করা হবে।
২০১২ সালে প্রথমবারের মতো ১০ শতাংশ সৃজনশীলে করার পরের বছর তা ২৫ শতাংশ করা হয়েছিল। এরপর ২০১৪ সালে ৩৫ শতাংশ এবং ২০১৫ সালে ৫০ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৬৫ শতাংশ এবং গত বছর ৮০ শতাংশ প্রশ্ন সৃজনশীল পদ্ধতিতে ছিল। প্রথমদিকে এ পরীক্ষার সময়সীমা ছিল ২ ঘণ্টা। সৃজনশীল প্রশ্ন করায় ২০১৩ সালে সময় ৩০ মিনিট বাড়িয়ে আড়াই ঘণ্টা করা হয়। তবে এবার শতভাগ প্রশ্ন সৃজনশীলে করার ঘোষণা এলেও সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।
২০১০ সালে এসএসসিতে তিনটি বিষয়ের পরীক্ষা সৃজনশীল প্রশ্নে করা হয়।
পিইসি পরীক্ষার শুরুতে দুই ঘণ্টায় পরীক্ষা নেওয়া হতো। কিন্তু যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্ন বেড়ে যাওয়ায় এই সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের উত্তর শেষ করতে সমস্যায় পড়ে। এরপর ২০১৩ সাল থেকে সময় বাড়িয়ে আড়াই ঘণ্টা করা হয়। এবার যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্ন শতভাগ করা হলেও সময় আড়াই ঘণ্টাই থাকছে।
চলতি এসএসসির বাংলা দ্বিতীয় পত্র এবং ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র ছাড়া অন্য সব বিষয়ে সৃজনশীল প্রশ্নে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২০১৭ সালের এইচএসসিতে ২৬টি বিষয়ের ৫০টি পত্রের পরীক্ষা সৃজনশীল পদ্ধতিতে হয়। আর গত বছরের জেএসসিতেও বাংলা দ্বিতীয় পত্র, ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র ছাড়া অন্য বিষয়ের পরীক্ষা সৃজনশীল প্রশ্নে হয়েছে।
প্রশ্ন শতভাগ সৃজনশীল চলতি থেকে প্রাথমিকে বছর 2018-02-20