এমএনএ রিপোর্ট : রাজধানীর বনশ্রীতে একটি বাসায় গৃহকর্মী লাইলী বেগমের (২৫) রহস্যজনক মৃত্যু এবং একে কেন্দ্র করে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার গৃহকর্তা মইনুদ্দিন ও বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক টিপুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
খিলগাঁও থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তা মো. মনসুর আহমেদ জানান, গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে একটি হত্যা মামলা ও হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় আরেকটি মামলা হয়। গৃহকর্তা মইনুদ্দিন ও বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক টিপুকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে তিনি জানান।
গতকাল বনশ্রীর ‘জি’ ব্লকের চার নম্বর সড়কের ১৪ নম্বর বাড়ির মালিক সাবেক কাস্টমস কর্মকর্তা ও বর্তমানে নাসির গ্রুপের
উপদেষ্টা মঈন উদ্দিনের বাসায় গৃহকর্মী লাইলী বেগমের রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ ঘটনায় লাইলীকে হত্যার অভিযোগ এনে স্থানীয় তিনটি বস্তির বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনরা গৃহকর্তা মঈন উদ্দিনের বাসায় হামলা চালায় এবং সড়কে গাড়ি ভাঙচুর করে। দফায় দফায় পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েক দফা ফাঁকা গুলি ছোড়ে। রাত ১০টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। তারা একটি গাড়িতে আগুন ও আরেকটি পিকআপ ভাংচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ার গ্যাসের শেল ছোড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে এক পর্যায়ে ওই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ ঘটনায় পুলিশের মতিঝিল বিভাগের এডিসি সাইফুল ইসলাম, খিলগাঁও থানার ওসি মাইনুল ইসলামসহ অর্ধশত আহত হন।
লাইলীর জা শাহনাজ পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, লাইলীকে হত্যা করা হয়েছে। গৃহকর্তা মইনুদ্দিন বলছেন, লাইলী বাসায় কাজ করতে আসার পর বাড়ির একটি ঘরে ঢুকে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেন। পরে দরজার ছিটকিনি ভেঙে ঘরের ভেতরে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় লাইলীকে পাওয়া যায়।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক
