বর্ণিল আয়োজনে বই উৎসব-২০১৮ উদ্বোধন
Posted by: News Desk
January 1, 2018
এমএনএ রিপোর্ট : বর্ণিল আয়োজনে উৎসবমুখর পরিবেশে শিক্ষার্থী ঢলের মধ্যে রঙিন বেলুন উড়িয়ে পাঠ্যপুস্তক উৎসবের উদ্বোধন করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। আজ সোমবার সকাল সোয়া ১০টায় রাজধানীর আজিমপুর গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাঠপুস্তক উৎসব উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী।
রঙ-বেরঙের সাজে সেজেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খেলার মাঠ। কচি-কাঁচাদের হাতে হাতে নানান রঙের সাজ, আকাশে রঙিন বেলুন, মাঠজুড়ে কোলাহল, ব্যান্ডের তাল- সব মিলে বর্ণিল আয়োজন। সবকিছু মিলিয়ে উৎসব মুখর পরিবেশে হচ্ছে বই বিতরণ উৎসব।
হাতে নতুন বই, মুখে হাসি উৎসবের আমেজ। নতুন বইয়ের ঘ্রাণে মাতোয়ারা সারা দেশের কয়েক কোটি শিশু। নতুন বছরের প্রথম দিন আজ সোমবার সারা দেশে শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই তুলে দিয়ে ‘বই উৎসব’ উদযাপন করা হচ্ছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ঢাকায় দু’টি কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান হচ্ছে। দুই মন্ত্রণালয়ই জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উৎসব করে বই বিতরণ করছে।
স্কুল মাঠে এ উৎসব আয়োজনে নতুন বই ও রঙিন সাজে সজ্জিত হয়ে যোগ দেয় রাজধানীর বিভিন্ন স্কুলের প্রায় ছয় শিক্ষার্থী। এ সময় অভিভাবক, শিক্ষকসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গত কয়েক বছরের মতো আজো নতুন ইংরেজি বর্ষের প্রথম দিন উৎসবের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিনামূল্যের বই বিতরণ করা হচ্ছে। শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীরা খালি হাতে স্কুলে আসবে, আর নতুন ঝকঝকে বই নিয়ে ঘরে ফিরবে। নতুন বছরে নতুন শ্রেণীতে ওঠার উচ্ছ্বাস আর নতুন বইপ্রাপ্তির আনন্দ দুয়ে মিলে খুশির বন্যা বয়ে যাবে দেশের প্রতিটি স্কুলে।
২০১৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য বিনামূল্যের ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার ১৬২টি পাঠ্যবই বিতরণ করা হবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে চার কোটি ৪২ লাখ চার হাজার ১৯৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে বলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে। এনসিটিবি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গতকালের মধ্যেই চাহিদামতো সব বই পৌঁছে দেয়া হয়েছে।
প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের অনেক আগে থেকে বিনামূল্যে বই বিতরণ করা হলেও ২০১০ সাল থেকে প্রথম থেকে নবম শ্রেণির সব শিক্ষার্থীদের এ সুবিধার আওতায় এনেছে আওয়ামী লীগ সরকার।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবি বলছে, গত বছরের চেয়ে এবার ১০ লাখ ৭০ হাজার ৯৬৬ জন শিক্ষার্থী বেড়েছে। ফলে এবার ৭১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৬৯টি বই বেশি ছাপানো হয়েছে।
গত আট বছরে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২২৫ কোটি ৪৫ লাখ ১১ হাজার ৭৫০টি বই ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেছে সরকার।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত উৎসবে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, সব জায়গায় বই চলে গেছে। সব শিক্ষার্থী বই পাচ্ছে। বইয়ে ছোটখাটো ত্রুটি থাকতে পারে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, এবারের বইগুলো ভালোমানের কাগজে ছাপা হয়েছে। বইগুলো আকর্ষণীয় ও রঙিন। নবম-দশম শ্রেণির ১২টি সুখপাঠ্য বই দামি কাগজে রঙিন ছবিসহ ছাপা হয়েছে।
উৎসবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা উপস্থিত রয়েছেন। এনসিটিবির আয়োজনে উৎসবে রাজধানীর বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যোগ দেবে।
নববর্ষে এসে মোট ২৬০ কোটি ৮৮ লাখ এক হাজার ৯১২টি বই বিতরণকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০১৮ শিক্ষাবর্ষে দুই কোটি ৪৯ লাখ ৮৩ হাজার ৯৯৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে বই বিতরণ করা হবে। প্রাথমিক স্তরে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ১০ কোটি ৩৬ লাখ ২৫ হাজার ৪৮০টি এবং প্রাক-প্রাথমিকে ৩৪ লাখ ১১ হাজার ৮২৪টি ‘আমার বই’ এবং ৩৪ লাখ ১১ হাজার ৮২৪টি অনুশীলন খাতা বিতরণ করা হবে।
এছাড়া এ বছরই প্রথম ৫টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর (চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো, সাদরী) শিশুদের জন্য নিজস্ব বর্ণমালা সংবলিত মাতৃভাষায় পাঠ্য বই প্রণয়নের বিষয়ে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির ৩৪ হাজার ৬৪২টি আমার বই, ৩৪ হাজার ৬৪২টি অনুশীলন খাতা এবং প্রথম শ্রেণির ৭৯ হাজার ৯৯২টি পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হচ্ছে। এই পাঠ্যপুস্তক ২৪টি জেলায় সরবরাহ করা হয়। জেলাগুলো হলো- বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, নওগাঁ, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, রাজশাহী, খুলনা, নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর, ফেনী, কক্সবাজার, সুনামগঞ্জ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণী এবং প্রথম শ্রেণির মোট ১ লাখ ৪৯ হাজার ২৭৬টি পাঠ্যপুস্তক, পঠন-পাঠন সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মাধ্যমিক (বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন) স্তরের এক কোটি ২৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯৩ জন শিক্ষার্থীকে এবার বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক দেয়া হবে। ১১৪টি বিষয়ের ১৭ কোটি ৮৯ লাখ ২৩ হাজার ৭৩৩টি বই ছাপানো হয়েছে। এছাড়া ইবতেদায়ি ও দাখিলের ৫৪ লাখ ৩ হাজার ৪৬৯ শিক্ষার্থীকে ১২৪টি বিষয়ের পাঁচ কোটি ৭৮ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৯টি বই দেয়া হবে। অন্ধদের জন্য এবারও ব্রেইল পদ্ধতির আট হাজার ৪০৫টি বই ছাপানো হয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে বই বিতরণ উৎসবের আয়োজন করেছে। এতে প্রধান অতিথি রয়েছেন গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোতাহার হোসেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আসিফ-উজ-জামান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবু হেনা মোস্তফা কামালও উপস্থিত রয়েছেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যেসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ সুবিধা নেই সেব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২০১৮ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হবে এবং দেশের যে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছাবে না সেখানে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হবে।
তিনি বলেন, তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুবিধায় এ ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষা লাভের অংশ হিসেবে দক্ষ ও যোগ্যভাবে নিজেদর গড়ে তুলতে পারে।
মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা সকল শিক্ষা পদ্ধতির মেরুদন্ড। কাজেই মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে সকল শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মান বাড়াতে শুধু সরকারের একক প্রচেষ্টা নয় দেশের সকলকে এর উন্নয়নে এগিয়ে আসতে হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিক এগিয়ে এলে এ দেশের কোন প্রাথমিক বিদ্যালয় জরাজীর্ণ থাকবে না। কোন শিক্ষার্থী না খেয়ে থাকবে না।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান নারায়ণ চন্দ্র সাহা প্রমুখ।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আসিফুজ্জামানের সভাপতিত্বে ঢাকা বিশবিদ্যালয়ের খেলার মাঠে আয়োজিত বই উৎসবে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোতাহার হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন একই মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, উম্মে রাজিয়া কাজল, আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর মহাপরিচালক ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল এবং জনপ্রিয় উপস্থাপক হানিফ সংকেত।
এর আগে গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে কয়েকজন শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই তুলে দিয়ে বই বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
দেশজুড়ে একযোগে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, উপজেলা পর্যায়ে বিতরণের জন্য শতভাগ বই ১ জানুয়ারির আগেই চলে গেছে।
আয়োজনে বই উৎসব-২০১৮ উৎসব-২০১৮ বই উদ্বোধন বর্ণিল 2018-01-01