এমএনএ ফিচার ডেস্ক : বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের পাসপোর্টের দাম খুবই কম! কথাটা শুনলে কেমন যেনো একটা ধাক্কা খেতে হয়। অথচ এটাই সত্যি। বাংলাদেশ যখন মধ্যম আয়ের দেশের দিকে যাওয়ার যাত্রা শুরু করেছে, তখনো বিশ্ববাসীর কাছে এ দেশের পাসপোর্টের দাম খুবই কম। পৃথিবীতে এমন দেশ আছে যাদের পাসপোর্ট তৈরির ব্যয় খবই কম। আবার এমন দেশও আছে যাদের পাসপোর্ট তৈরির ব্যয় ও ভোগান্তি দুটোই অনেক বেশি। আবার পৃথিবীতে এমনো দেশ রয়েছে যাদের নাগরিকরা কোনো রকম ভিসা ছাড়াই শুধু তার পাসপোর্ট ব্যবহার করে ঘুরে আসতে পারে কমপক্ষে ১৭৪টি দেশ।
পর্যটক হিসেবে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ আগে থেকে ভিসা না নিয়ে ঢুকতে পারে বিশ্বের মাত্র পাঁচটি দেশে। দেশগুলো এশিয়া মহাদেশের। পাঁচ দেশের মধ্যে আবার চারটিই দক্ষিণ এশিয়া এবং সার্কের সদস্য। দেশগুলো হচ্ছে, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান ও মালদ্বীপ। বাকি দেশটি ইন্দোনেশিয়া।
তবে দ্বিপক্ষীয় ভিসা চুক্তির আওতায় কূটনৈতিক ও অফিশিয়াল পাসপোর্টধারী বাংলাদেশিরা যেতে পারেন মোট ২১টি দেশে (পাঁচটিসহ)। বেশির ভাগই এশিয়া মহাদেশের। দেশগুলো হচ্ছে ভারত, ভুটান, নেপাল, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, চীন,
সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, লাওস, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক, বেলারুশ, কুয়েত, রাশিয়া, জাপান ও চিলি।
কূটনৈতিক ও অফিশিয়াল পাসপোর্টধারী বাংলাদেশিদের ভিসা ছাড়া ঢুকতে দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে ইউরোপের রয়েছে মোট তিনটি দেশ- রাশিয়া, বেলারুশ ও তুরস্ক। দক্ষিণ আমেরিকায় রয়েছে একমাত্র দেশ চিলি। এর মধ্যে রাশিয়া ৩০ দিন ও অন্য তিন দেশ সর্বোচ্চ ৯০ দিনের আগমনী ভিসা দেয়। জাপান অফিশিয়াল পাসপোর্টধারীদের ঢুকতে দেয় না, তবে ৯০ দিনের জন্য ঢুকতে দেয় শুধু কূটনৈতিক পাসপোর্টধারী বাংলাদেশিদের।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ভিসা ছাড়া বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিদের যাওয়ার যে তালিকা গত ২৮ জুন জাতীয় সংসদে দিয়েছেন, তা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ইন্দোনেশিয়া বাংলাদেশি পর্যটকদের তাদের দেশের এয়ারপোর্টে আগমনী (অন অ্যারাইভাল) ভিসা দেয় ৩০ দিনের জন্য। এ ছাড়া মালদ্বীপ ৯০ দিনের এবং ভুটান ১৫ দিনের ভিসা দেয় বাংলাদেশি পর্যটকদের।
মোট ২১ দেশ ধরে হিসাব করলে ৯টি দেশ ৯০ দিন, ১টি দেশ ৪৫ দিন, ৯টি দেশ ৩০ দিন ও ১টি দেশ ১৫ দিনের আগমনী ভিসা দেয় বাংলাদেশিদের। আগমনী ভিসায় চীন কত দিনের জন্য কূটনৈতিক ও অফিশিয়াল পাসপোর্টধারীদের ভিসা দেয়- পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তালিকায় তার কিছু উল্লেখ নেই।
বৈশ্বিক ভিসামুক্ত চলাচল স্বাধীনতার ওপর এক যুগ ধরে গবেষণা ও সূচক প্রকাশ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা দ্য হ্যানলি অ্যান্ড পার্টনারস। বিশ্বের ২০১টি দেশের ওপর পরিচালিত ২০১৭ সালের সূচকে দেশগুলোর ১০৪তম পর্যন্ত মান বা অবস্থান নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি।
আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) ভ্রমণ তথ্যভান্ডারের সহযোগিতা নিয়ে হ্যানলি অ্যান্ড পার্টনারস এই সর্বশেষ সূচকটি তৈরি করে। মান বা অবস্থানের পাশাপাশি দেশওয়ারি নম্বরও (স্কোর) দেওয়া রয়েছে এই সূচকে। এই নম্বর হচ্ছে একটি দেশ আগে থেকে ভিসা ছাড়া অর্থাৎ আগমনী ভিসা নিয়ে কতটি দেশে যেতে পারেন, তার নির্দেশক।
সে অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে কম দামি পাসপোর্টধারী দেশ হচ্ছে আফগানিস্তান। দেশটির অবস্থান সর্বনিম্নতম অর্থাৎ ১০৪তম। আফগানিস্তানের মানুষ আগমনী ভিসা নিয়ে যেতে পারে মোট ২৪টি দেশে।
এ ছাড়া ১০৩তম অবস্থানে ইরাক; ১০২তম পাকিস্তান; ১০১তম সিরিয়া; ১০০তম সোমালিয়া; ৯৯তম লিবিয়া, ৯৮তম ইরিত্রিয়া ও ইয়েমেন; ৯৭তম নেপাল, ফিলিস্তিন ও সুদান; ৯৬তম ইথিওপিয়া, কসোভো, লেবানন ও দক্ষিণ সুদান এবং ৯৫তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ, ইরান ও শ্রীলঙ্কা।
এদিকে হ্যানলি অ্যান্ড পার্টনারসের সূচক অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে দামি পাসপোর্টধারী দেশ জার্মানি। জার্মানির লোকেরা আগে থেকে ভিসা না নিয়ে যেতে পারে ১৭৬টি দেশে। ১৭৫ দেশে যাওয়ার সুযোগ নিয়ে সুইডেন রয়েছে দ্বিতীয় অবস্থানে। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ৫টি দেশ—ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ইতালি, স্পেন ও যুক্তরাষ্ট্র; দেশগুলোর নাগরিকেরা ১৭৪টি দেশে যেতে পারে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

