এমএনএ অর্থনীতি রিপোর্ট : বর্তমান বিশ্ব পুঁজিবাজারে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্যাক্টর’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ আলোকে বিশ্ব পুঁজিবাজার এবং কেমন প্রেসিডেন্ট হবেন ট্রাম্প, তা জানার চেষ্টা চালিয়েছেন মনোবিদ, নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ড্যান পি ম্যাকঅ্যাডামস। তার ‘দ্য মাইন্ড অব ডোনাল্ড ট্রাম্প’ অবলম্বনে কিছু বর্ণনা তুলে ধরা হলো।
ব্যাংকের সঙ্গে ধারাবাহিক প্রতারণায় পেরে উঠতে না পেরে ডোনাল্ড ট্রাম্প এক পর্যায়ে ভিন্ন পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেন। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ঘাড়ে নিজের ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিতে মনস্থ করেন তিনি। ট্রাম্প হোটেলস অ্যান্ড ক্যাসিনো রিসোর্টসকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করা হয়। পুঁজিবাজারে যেতে হলে শেয়ারহোল্ডারদের কাছে জবাবদিহির মানসিকতা থাকতে হয়। ট্রাম্প যে মানুষ, তিনি তো কারো কাছে জবাবদিহির জন্য প্রস্তুত নন। তার পরও উপায় ছিল না তার।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোম্পানির শেয়ারবাজারে আসার খবরে ওয়াল স্ট্রিটে গুঞ্জন শুরু হয়। সবাই ‘ট্রাম্প ফ্যাক্টর’ আলোচনা করতে থাকেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাম্ভিকতা ও তাকে ঘিরে অনিশ্চয়তা কোম্পানির শেয়ারে যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, সেটিই ‘ট্রাম্প ফ্যাক্টর’। এ কারণে যেকোনো সময়ে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি মূল্য ৩ থেকে ৫ ডলার কমতে পারে বলে ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের কর্মকর্তারা মত প্রকাশ করেন।
১৯৯৫ সালের জুনে ট্রাম্প হোটেলস অ্যান্ড ক্যাসিনো রিসোর্টস প্রাথমিক গণপ্রস্তাব আহ্বান করে। প্রতি শেয়ার ১৪ ডলার দরে কোম্পানি বাজার থেকে ১৪ কোটি ডলার ওঠাতে সমর্থ হয়। এক বছর পেরোনোর আগেই সেকেন্ডারি অফার ছাড়া হয়। দ্বিতীয় দফায় প্রতিটি শেয়ারের ৩১ ডলার দর প্রস্তাব করা হয়। এবার বাজার থেকে আরো ৩৮ কোটি ডলার ওঠানো হয়।
ট্রাম্প হোটেলস অ্যান্ড ক্যাসিনো রিসোর্টসে ব্যক্তিগতভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মালিকানার পরিমাণ ছিল ৪০ শতাংশ। কোম্পানির চেয়ারম্যান হিসেবে ১৯৯৬ সালটি তার জন্য দারুণ ছিল। ১০ লাখ ডলার বেতনের পাশাপাশি বিবিধ ‘সেবা’র জন্য আরো ১০ লাখ ডলার উঠিয়ে নেন তিনি। সেই সঙ্গে বোনাস নেন ৫০ লাখ ডলার।
চেয়ারম্যান ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়ের রমরমা দিনে শেয়ারহোল্ডার ডোনাল্ড ট্রাম্প ভালো থাকতে পারেননি। নানা হাঁকডাক সৃষ্টি করে ট্রাম্প হোটেলস অ্যান্ড ক্যাসিনো রিসোর্টসের প্রতিটি শেয়ারের দাম ৩৫ ডলার পর্যন্ত ওঠানো হয়েছিল। কিন্তু বছর পেরোনোর আগেই ওইসব শেয়ারের দর ১০ ডলারে নেমে আসে।
১৭০ কোটি ডলারের জাঙ্ক বন্ডের ভারে বিপর্যস্ত ছিল ট্রাম্প হোটেলস অ্যান্ড ক্যাসিনো রিসোর্টস। উপরন্তু ১৯৯৬ সালে কোম্পানির লোকসান হয় শেয়ারপ্রতি ৩ ডলার ৩৭ সেন্ট। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বল্গাহীন ব্যয়ের নেশা কোম্পানির আর্থিক অবস্থার জন্য বোঝা হয়ে উঠেছিল।
পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্টরা ‘ইনসাইডার ট্রেডিং’ ধারণাটির সঙ্গে পরিচিত। ডোনাল্ড ট্রাম্প এ প্রতারণা কৌশলে বাড়তি মাত্রা সংযোজন করেছেন। আটলান্টিক সিটির ট্রাম্প ক্যাসলের পুরো মালিকানা ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের। নিউজার্সির ক্যাসিনোগুলোর মধ্যে ১৯৯৬ সালে ট্রাম্প ক্যাসলের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ ছিল। নিজের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটিও বিনিয়োগকারীদের ঘাড়ে চাপানোর সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প। ১৯৯৬ সালের অক্টোবরে ট্রাম্প হোটেলস অ্যান্ড ক্যাসিনো রিসোর্টস ট্রাম্প ক্যাসলের মালিকানা কিনে নেয়। এই লেনদেনে ট্রাম্প আরো ৫৮ লাখ ৩৭ হাজার শেয়ার কব্জা করেন।
ট্রাম্প ক্যাসল অধিগ্রহণের দুই সপ্তাহের মধ্যে ট্রাম্প হোটেলস অ্যান্ড ক্যাসিনো রিসোর্টসের শেয়ারের দরপতনের গতি বেড়ে যায়। শেয়ারহোল্ডাররা ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসভঙ্গ, দায়িত্বে অবহেলা ও সেলফ ট্রেডিংয়ের’ অভিযোগে মামলা করেন। ঝামেলা এড়াতে ডোনাল্ড ট্রাম্প লস অ্যাঞ্জেলেসের রিয়েল এস্টেট কোম্পানি কলোনি ক্যাপিটালের শরণাপন্ন হন। ট্রাম্প জানান, কলোনি ক্যাপিটাল ট্রাম্প ক্যাসলের ৫১ শতাংশ মালিকানা কিনছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প কলোনি ক্যাপিটালের সঙ্গে চুক্তির যেসব শর্তের কথা উল্লেখ করেন, তাতে এর আগে শেয়ারহোল্ডারদের ঘাড়ে কোম্পানিটি চাপানোর সময়কার শর্তগুলোকে স্রেফ ঠগবাজি মনে হয়। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। চুক্তির খসড়া পরখ করলে জানা যায়, কলোনি ক্যাপিটাল আদতে বিনিয়োগ নয়, ঋণ সঞ্চার করেছে। রীতিমতো বিপরীত চিত্র! এত দিন অন্যের সম্পদকেও নিজের বলে দাবি করতে চাওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প কিনা তার সম্পদকেই অন্যের নামে চালিয়ে দিতে চাইছেন!
শেয়ারহোল্ডারদের হইচই ও বিভিন্ন কারণে কলোনি ক্যাপিটালের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত চুক্তি হয়নি। ১৯৯৭ সালের মার্চে কলোনি ক্যাপিটাল চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দেয়। কিন্তু চিরাচরিত ট্রাম্প আবারো সামনে আসেন। কলোনি ক্যাপিটাল নয়, তিনি নিজেই চুক্তি বাতিল করেছেন বলে প্রচারমাধ্যমে দাবি করেন।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

