Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / বিস্ফোরণ-হাতাহাতিতে পণ্ড ছাত্রলীগের সম্মেলন

বিস্ফোরণ-হাতাহাতিতে পণ্ড ছাত্রলীগের সম্মেলন

এমএনএ রিপোর্ট : দলীয় অন্তঃকোন্দলের রেশ, ককটেল বিস্ফোরণ আর বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও হাতাহাতিতে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন পণ্ড হয়ে গেছে।
দীর্ঘ নয় বছর পর আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়িার্স ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে এ সম্মেলন শুরু হয়। কিন্তু সম্মেলনের শুরুতেই অর্থাৎ দুপুর সোয়া ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সংগঠনটির বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে চেয়ার ছোড়াছুড়ির মতো ঘটনা ঘটলে তা ভন্ডুল হয়ে যায়। পাশাপাশি সম্মেলনকক্ষের পেছনের দিকে একটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দও শোনা যায়। এ সময় গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন উপস্থিতি ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ১১টার পরপরই মঞ্চে শুভেচ্ছা বক্তব্য দিতে আসেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন। এ সময় সম্মেলনকক্ষের পেছনের দিকে বসা ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা চট্টগ্রাম নগরীর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার নাম উল্লেখ করে স্লোগান দিতে থাকেন। এতে জাকির হোসাইন তাঁদের স্লোগান দিতে বারণ করে বলেন, শেখ হাসিনা আর বঙ্গবন্ধু ছাড়া আর কারও নামে স্লোগান দেওয়া যাবে না। কিন্তু স্লোগানদাতারা তাঁর কথায় কোনো কর্ণপাত করেননি। পরে তিনি অসমাপ্ত রেখেই বক্তব্য শেষ করেন।
জাকির হোসেনের পর বক্তব্য দিতে মঞ্চে আসেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি সাকিব হোসেন। তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই সম্মেলনকক্ষের পেছনের দিকে স্লোগানের পাশাপাশি শুরু হয় চেয়ার ছোড়াছুড়ি। মঞ্চে উপস্থিত অন্য অতিথিদের নিষেধ সত্ত্বেও এই সাংঘর্ষিক অবস্থা চলতে থাকে। এ সময় কক্ষের পেছনের দিকে একটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের কয়েকপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় মিলনায়তনে উপস্থিত নেতাকর্মীরা আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে বের হতে থাকলে কয়েকজন পড়ে গিয়ে আহত হন। আহত পাঁচজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ অবস্থার মধ্যেই দুপুর ১২টার দিকে সম্মেলনে আসা অতিথিরা সম্মেলনস্থল ত্যাগ করেন। পরে পুলিশ এসে সবাইকে সম্মেলনকক্ষের বাইরে বের করে দেয়। ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউটের বাইরে এখনো দফায় দফায় বিভিন্ন গ্রুপ স্লোগান দিয়ে যাচ্ছে। ফলে দুপুরের পর অনুষ্ঠেয় কাউন্সিল পর্ব হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
এ সম্মেলন প্রধান অতিথি ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ। এ ছাড়া অতিথিদের মধ্যে রাউজানের সাংসদ এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরীসহ চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা ছিলেন।
হট্টগোলের সময় ছাত্রলীগ নেতারা ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ বারবার অনুষ্ঠানে শৃঙ্খলা ফেরানোর আহ্বান জানালেও তাদের কথা কেউ শোনেনি। এক পর্যায়ে মন্ত্রী মাইকে ঘোষণা দেন, যারা হামলা করেছে তারা বহিরাগত। তাদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশকে নির্দেশও দেন তিনি।
ককটেল বিস্ফোরণের পরপর বিভিন্ন এলাকার ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মিছিল নিয়ে সম্মেলনস্থলে প্রবেশ করতে দেখা যায়। এ পরিস্থিতিতে ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট এলাকায় পুলিশ ও র‌্যাবের উপস্থিত বাড়ানো হয়। দুপুর ১টার দিকে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনসহ অতিথিরা সম্মেলনস্থল ত্যাগ করেন। এরপর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটের আশপাশের সড়ক অবরোধ করে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় ছাত্রলীগ কর্মীরা।
দীর্ঘ নয় বছর পর ছাত্রলীগের এ কমিটি হওয়া নিয়ে কয়েক দিন ধরেই ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ উত্তেজনাকর পরিবেশ লক্ষ করা গেছে। এর মূল কারণ হলো কোন দুজন হচ্ছেন নতুন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। জেলা আওয়ামী লীগসহ চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই চাচ্ছেন তাঁদের সমর্থিত ব্যক্তি নেতৃত্বে আসুক। এ জন্য ৬০ জনকে প্রাথমিকভাবে বাছাইও করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। আজ চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের নয়টি ইউনিটের মোট ৩৬৬ জন কাউন্সিলরের ভোটে নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার কথা ছিল। তবে এ উত্তেজনাকর পরিবেশের কারণে আজ তা হচ্ছে কি না, তা বোঝা যাচ্ছে না।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু তৈয়ব বলেন, জামায়াত-শিবির থেকে সংগঠনে অনুপ্রবেশকারীরা আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। তারা ককটেল বিস্ফোরণও ঘটিয়েছে।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রাজিবুল আহসান সুমন বলেন, ৩৬৬ জন কাউন্সিলরের ভোটে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দু’টি পদে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। এজন্য ৬০ জন পদপ্রত্যাশীর নাম চূড়ান্ত করা হয়েছিল। কিন্তু বিশৃঙ্খলার কারণে এ উদ্যোগ ভেস্তে গেছে।
x

Check Also

ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬ দুর্নীতি সহায়ক, লুটেরাদের পুনর্বাসন আত্মঘাতী: টিআইবি

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক সদ্য পাস হওয়া ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনার ...