Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / শ্রীদেবীর মরদেহ মুম্বাই নেওয়ার অনুমতি

শ্রীদেবীর মরদেহ মুম্বাই নেওয়ার অনুমতি

এমএনএ রিপোর্ট : শ্রীদেবীর মরদেহ ফিরছে মুম্বাই। দুবাই পুলিশ এরই মধ্যে বলিউড অভিনেত্রী শ্রীদেবীর মরদেহ মুম্বাই নেওয়ার অনুমতিসংক্রান্ত কাগজ ও মরদেহ ভারতের দূতাবাস কর্তৃপক্ষ আর তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।
এর ফলে আজ মঙ্গলবার যেকোনো সময় শ্রীদেবীর মরদেহ মুম্বাই বিমানবন্দরে এসে পৌঁছানোর সম্ভাবনা আছে। ভারতের দূতাবাস কর্তৃপক্ষ ও তার পরিবারের কাছে অনুমতিসংক্রান্ত কাগজ ও মরদেহ এরই মধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যম খালিজ টাইমস।
শ্রীদেবীর মরদেহ মুম্বাই বিমানবন্দরে যেকোন সময়ই পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে জানিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত নবদীপ সুরি খালিজ টাইমসকে বলেছেন, ‘ন্যূনতম সময়ের মধ্যে শ্রীদেবীর মরদেহ মুম্বাই পাঠানোর জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আমরা কাজ করছি।
আর বনি কাপুরের মুখপাত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আজ রাতেই শ্রীদেবীর মরদেহ নিয়ে একটি প্রাইভেট জেট মুম্বাই এসে পৌঁছাবে। শ্রীদেবীর মরদেহের সঙ্গে ফিরছেন তাঁর স্বামী বনি কাপুর। তবে তদন্তের স্বার্থে তাঁকে আবার দুবাই যেতে হবে। বনি কাপুরকে আজ তৃতীয়বারের মতো জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুবাই পুলিশ।
গত শনিবার শ্রীদেবীর মৃত্যুর পর থেকেই নাকি বনি কাপুর পরদিন সকাল পর্যন্ত শিশুর মতো কেঁদেছেন। এমনটা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন বনি কাপুর প্রযোজিত ও শ্রীদেবীর শেষ চলচ্চিত্র ‘মম’-এর অভিনয়শিল্পী আদনান সিদ্দিকি। তিনি পাকিস্তানের নাগরিক। তখন তিনি দুবাইয়ে ছিলেন। শ্রীদেবীর মৃত্যুর খবর পেয়ে দ্রুত দুবাইয়ের জুমেইরাহ এমিরেটস টাওয়ার হোটেলে ছুটে যান। এই হোটেলের ২২০১ নম্বর রুমে ছিলেন শ্রীদেবী।
এদিকে বাবার বিপদের সময় তাঁর পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন ছেলে বলিউড তারকা অর্জুন কাপুর। বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী শ্রীদেবীকে কখনোই মেনে নিতে পারেননি অর্জুন কাপুর। দুই বোন জাহ্নবী আর খুশির সঙ্গেও কোনো সম্পর্ক ছিল না তাঁর। কিন্তু শনিবার দুবাইয়ে শ্রীদেবীর মৃত্যুর পর চাচা অনিল কাপুরের বাড়িতে জাহ্নবী আর খুশির সঙ্গে দেখা করতে ছুটে যান অর্জুন। এদিকে শ্রীদেবীর মৃত্যু নিয়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। দুবাই পুলিশ বনিকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছে।
একটি সূত্র গণমাধ্যমকে মুম্বাই প্রতিনিধিকে জানিয়েছে, বাবা বনি কাপুরের এমন বিপদের সময় তাঁর পাশে দাঁড়াতে আজ সকালে দুবাই রওনা হয়েছেন অর্জুন কাপুর। অর্জুনের ছোট বোন অংশুলা কাপুরও গতকাল জাহ্নবী ও খুশির সঙ্গে দেখা করতে যান।
কয়েক বছর আগে অর্জুন এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘এই নারী (শ্রীদেবী) আর তাঁর মেয়েদের আমার জীবনে কোনো অস্তিত্ব নেই।’
১৯৯০ সালে যশ চোপড়া পরিচালিত ‘লামহে’ ছবির শুটিংয়ের সময় শ্রীদেবী বলেছিলেন, মৃত্যুর পর তাঁর বাড়ি, শববাহী গাড়ি, সবকিছুই যেন সাদায় মুড়ে দেওয়া হয়। শ্রীদেবী তাঁর এই ‘শেষ ইচ্ছা’ একাধিকবার প্রকাশ করেছিলেন। তাই গতকাল সোমবার সকাল থেকেই আন্ধরির লোখান্ডওয়ালায় কাপুরদের ‘ভাগ্য’ বাংলোর জানলায় ছিল সাদা পর্দা। পুরো বাড়ি সাদা কাপড় সাদা কাপড়ে আর সাদা ফুলে মুড়ে দেওয়া হয়।
ছোট মেয়ে খুশী কাপুর এবং স্বামী বনি কাপুরের সঙ্গে শ্রীদেবী দুবাই গিয়েছিলেন এক বিয়ের অনুষ্ঠানে। শনিবার রাতে সেখানকার একটি হোটেলে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি; তার বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর।
জনপ্রিয় অভিনেত্রীর মৃত্যুতে বলিউডে শোকের ছায়া নেমে আসে। ভক্তরা শোকে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন।
শ্রীদেবীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দুবাইয়ের জুমেইরাহ ইমিরেটস টাওয়ারস হোটেলের একটি কক্ষে ছিলেন শ্রীদেবী-বনি। বনি কাপুর আগেই দুবাই থেকে মুম্বাই চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু শ্রীদেবীকে চমকে দিতে তিনি আবার শনিবার দুবাই যান।
রাতের খাবারের জন্য শ্রীদেবীকে প্রস্তুত হতে বলেন বনি কাপুর। এসময় শ্রীদেবী বাথরুমে যান। দীর্ঘ সময় পরও শ্রীদেবী বের না হলে বনি তাকে ডাকেন। কোনো সাড়া না মিললে বনি দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। তিনি ভেতরে গিয়ে শ্রীদেবীকে পানিভর্তি বাথটাবে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
সঙ্গে সঙ্গে তিনি তার এক বন্ধুকে ডাকেন। শ্রীদেবীর অচেতন দেহ নিয়ে যাওয়া হয় রশিদ হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকেরা জানান, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অনেকক্ষণ আগেই শ্রীদেবীর মৃত্যু হয়েছে। হোটেলের ২২০১ নম্বর রুম এরই মধ্যে সিল করেছে দুবাই পুলিশ।
দুবাইয়ে নিয়ম অনুযায়ী হাসপাতালের বাইরে যেকোনো মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করে দেখা হয়। আর তা স্বাভাবিক মৃত্যু হলেও। এরই মধ্যে বনি কাপুর এবং মোহিত মারওয়ারের পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুবাই পুলিশ। ননদের ছেলে মোহিত মারওয়ারের বিয়ে উপলক্ষে মেয়ে ও স্বামীর সঙ্গে দুবাই যান শ্রীদেবী। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের কাউকে দুবাই ত্যাগ না করার জন্য বলা হয়েছে।ৎ
তার এমন মৃত্যুতে গোটা পরিবার শোকে বিহ্বল হয়ে পড়ে। বনি কাপুরের ছোট ভাই সঞ্জয় কাপুর জানিয়েছেন, শ্রীদেবীর হৃদরোগের কোন লক্ষণ ছিল না।
পরে ময়নাতদন্তের বরাত দিয়ে দুবাই পুলিশ জাানায়, বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রীদেবীর মৃত্যু হয়েছে বাথটাবের জলে দম আটকে।
শ্রীদেবীর রক্তের নমুনায় পাওয়া গেছে অ্যালকোহলও। তবে সব কিছু খতিয়ে দেখে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন- এটি দুর্ঘটনাই, এর পিছনে অন্য কিছু নেই।
ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, শ্রীদেবীর শরীরে আঘাতের কোন চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
এসব কিছু মিলিয়ে শ্রীদেবীর মৃত্যু নিয়ে এরই মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলোয় এসব প্রশ্ন নানাভাবে উঠে আসছে। এই যেমন বাথটাবের পানিতে পড়ার আগেই হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন শ্রীদেবী? ফরেনসিক রিপোর্ট অনুযায়ী পানিতে পড়ে জ্ঞান হারান এই অভিনেত্রী। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টের কোথাও তাঁর হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার উল্লেখ নেই। তাহলে শ্রীদেবী কেন জ্ঞান হারালেন? শ্রীদেবীর রক্তের নমুনায় অ্যালকোহল পাওয়া গেছে। তাহলে মদ্যপ অবস্থায় বাথটাবের পানিতে তিনি পড়ে গিয়েছিলেন? কিন্তু কাপুর পরিবারের বন্ধু ও রাজনীতিবিদ অমর সিংহের দাবি, শ্রীদেবীর মদ খাওয়ার অভ্যাস নেই। মাঝেমধ্যে এক-আধটু ওয়াইন খেতেন। তাতে মদ্যপ হওয়ার প্রশ্নই আসে না। হোটেলের রুম সার্ভিসের এক কর্মীর কথা নিয়েও রহস্যের দানা বেঁধেছে। এই কর্মী দাবি, শ্রীদেবী মিনারেল ওয়াটার বোতলের জন্য রুম সার্ভিসে ফোন করেন। কিন্তু সেই কর্মী গিয়ে দরজায় টোকা মারলেও দরজা খোলেননি শ্রীদেবী। পরে দরজা ভাঙতে হয়। তখন দেখা যায়, তিনি বাথরুমের মেঝেয় পড়ে আছেন। তখনো নাকি শ্রীদেবীর পালস পাওয়া গিয়েছিল। তাহলে শ্রীদেবী তখনো বেঁচে ছিলেন? আবার বলা হচ্ছে, বনি কাপুর হোটেলের বাথরুমে গিয়ে শ্রীদেবীর মৃতদেহ উদ্ধার করেন। তাহলে তিনি মৃত্যুর সময় শ্রীদেবীর আশপাশেই ছিলেন?
গত রবিবার সারাদিন অভিনেত্রীর মরদেহ পাওয়ার জন্য তার পরিবারের সদস্যরা অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু তার মৃতদেহ আসেনি।
পরে সন্ধ্যায় পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়ে, সোমবার মরদেহ মুম্বাই পৌঁছাবে। শ্রীদেবীর মৃতদেহ দুবাই থেকে আনতে ভারতের বিশিষ্ট শিল্পপতি অনিল আম্বানি ব্যক্তিগত বিমান পাঠিয়েছেন।
শ্রীদেবীকে ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পের প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র নারী সুপারষ্টার বলা হয়। ‘সাদমা’, ‘লামহে’, ‘মি. ইন্ডিয়া’, ‘চাঁদনি’, ‘হিম্মতওয়ালা’- ছবিতে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য শ্রীদেবী এখনও স্মরনীয় হয়ে আছেন। শুধু হিন্দি নয়, গুণী এই অভিনেত্রী তামিল, তেলেগু এবং কন্নড় ছবিতেও সমান সাফল্য পেয়েছেন।
বনি কাপুরের সঙ্গে বিয়ের ১৫ বছর পর ২০১২ সালে শ্রীদেবী ‘ইংলিশ ভিংলিশ’ ছবিটি দিয়ে আবারও বলিউডে প্রত্যাবর্তন করেন। ছবিটি যথেষ্ট প্রশংশিত হয়। তার অভিনীত ‘মম’ ছবিটিও দর্শকনন্দিত হয়েছে। মেয়ে জান্ববী বলিউডে অভিষেকের মাত্র এক মাস আগে শ্রীদেবী চলে গেলেন না ফেরার দেশে।
x

Check Also

ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬ দুর্নীতি সহায়ক, লুটেরাদের পুনর্বাসন আত্মঘাতী: টিআইবি

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক সদ্য পাস হওয়া ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনার ...